


নয়াদিল্লি: শেষ সাত টেস্টে পাঁচটি শতরান! পরিসংখ্যানেই স্পষ্ট, চাপ নয়, নেতৃত্ব রীতিমতো উপভোগ করছেন শুভমান গিল। শনিবার ফিরোজ শাহ কোটলাতেও নেতার ব্যাট থেকে এল ঝকঝকে শতরান। যশস্বী জয়সওয়ালের ১৭৫ রানের পর শুভমানের অপরাজিত ১২৯ ভারতকে পৌঁছে দিল পাঁচশোর ওপারে। ৫ উইকেটে ৫১৮ রানে প্রথম ইনিংসের সমাপ্তি ঘোষণা করে টিম ইন্ডিয়া। জবাবে ব্যাট করতে নেমে রবীন্দ্র জাদেজার স্পিনের ছোবলে প্রবল চাপে ওয়েস্ট ইন্ডিজ। দ্বিতীয় দিনের শেষে ক্যারিবিয়ানদের সংগ্রহ ৪ উইকেটে ১৪০। ভারতের ঝুলিতে লিড ৩৭৮। মনে হয় না দ্বিতীয় ইনিংসে ফের নামতে হবে গিলদের।
একটা সময় ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিরুদ্ধে ভারতের জয় ছিল অপ্রত্যাশিত। এখন ছবি পাল্টেছে পুরোপুরি। হারার আগেই পরাজিত দেখায় ক্যারিবিয়ানদের। চলতি সিরিজের প্রথম টেস্টে ইনিংসে হেরেছিল রোস্টন চেজ ব্রিগেড। আর কোটলায় দ্বিতীয় দিনের শেষেই দেওয়াললিখন স্পষ্ট। উল্লেখ্য, স্কোরবোর্ডে ২ উইকেটে ৩১৮ রান নিয়ে দ্বিতীয় দিনের খেলা শুরু করেছিল ভারত। যশস্বী নট আউট ছিলেন ১৭৩ রানে। সবাই ধরে নিয়েছিল, তরুণ তুর্কির দ্বিশতরান পাকা। কিন্তু সকালের দ্বিতীয় ওভারেই শুভমানের সঙ্গে ভুল বোঝাবুঝিতে রান আউট বাঁ-হাতি ওপেনার।
তাতে অবশ্য ভারতের রানের গতিতে ভাটা পড়েনি। রীতিমতো দাপট দেখিয়ে স্কোর এগিয়ে নিয়ে গেলেন শুভমান। যোগ্য সঙ্গত করলেন নীতীশ রেড্ডিও। চতুর্থ উইকেটে এই জুটি যোগ করে ৯১ রান। নীতীশ অবশ্য শুরুর দিকে একবার জীবনদান পান। সেই সুযোগ কাজে লাগিয়ে ৪৩ করলেন। তবে শুভমান থামেননি। ৯৫ বলে অর্ধশতরানের পর গিয়ার পরিবর্তন করেন তিনি। এমনিতেও ওয়েস্ট ইন্ডিজের এই বোলাররা মার্শাল, হোল্ডিংয়ের ছায়াও নন। সাদামাটা সিয়েলেস, ফিলিপদের স্কুলস্তরে নামিয়ে ১৭৭ বলে কেরিয়ারের দশম শতরান পূর্ণ করেন শুভমান। জুরেলের অর্ধশতরানের জন্য অপেক্ষা করছিলেন কোচ গম্ভীর। তিনি ৪৪ রানে ফিরতেই ইনিংসের সমাপ্তি ঘোষণা করে ভারত। ওয়েস্ট ইন্ডিজের সফলতম বোলার জোমেল ওয়ারিক্যান। তিনটি উইকেট নেন বাঁ-হাতি স্পিনার।
জবাবে ব্যাট করতে নেমে দলগত ২১ রানে প্রথম উইকেট খোয়ায় ওয়েস্ট ইন্ডিজ। ওপেনার জন কাম্পবেল (১০) সুইপ মারেন জাদেজাকে। ফরোয়ার্ড শর্ট লেগে দাঁড়ানো সাই সুদর্শনের শরীরে তা জমে যায়। হাতে চোটও লাগে তাঁর। তৃতীয় তথা দিনের শেষ সেশনে অবশ্য লড়াইয়ের ইঙ্গিত দেন অ্যালিক আথানজে ও ত্যাগনারায়ণ চন্দ্রপল জুটি। দ্বিতীয় উইকেটে ওঠে ৬৬।
এরপরই ধরে ভাঙন। জাদেজার বলে চন্দ্রপলের (৩৪) খোঁচা স্লিপে ধরেন লোকেশ রাহুল। আথানজে খেলছিলেন ভালোই। তবে অর্ধশতরান থেকে ৯ রান দূরে থামলেন তিনি। ঘাতক কুলদীপ। চায়নাম্যানকে মারতে গিয়ে মিড-উইকেটে ক্যাচ দেন তিনি। ধরেন সেই জাদেজা। ভারতের সহ-অধিনায়ক তারপর খাতা খোলার আগেই ফেরালেন ক্যারিবিয়ান ক্যাপ্টেন চেজকে। অর্থাৎ, ওয়েস্ট ইন্ডিজের চারটি উইকেটের ক্ষেত্রেই অবদান জাদেজার।