


নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: শনিবার সোনার দর আরও কমল। সে কারণে ধনতেরাসের আগে বিক্রি বৃদ্ধির আশায় বুক বাঁধছেন ব্যবসায়ীরা। ওয়েস্ট বেঙ্গল বুলিয়ান মার্চেন্টস অ্যান্ড জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশনের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, শনিবার শহরে ২৪ ক্যারেট সোনার ১০ গ্রামের দর গিয়েছে ১ লক্ষ ৩৮ হাজার ৯৫০ টাকা। অথচ শুক্রবারই দর ছিল ১ লক্ষ ৪১ হাজার ৭০০ টাকা। অর্থাৎ একদিনে দর কমেছে ২ হাজার ৭৫০ টাকা। কমেছে ২২ ক্যারেট বিশুদ্ধতার গয়না সোনার দামও। শহরে এদিন এই সোনার দর গিয়েছে ১০ গ্রাম পিছু ১ লক্ষ ৩২ হাজার ১০০ টাকা। শুক্রবার তা ছিল ১ লক্ষ ৩৪ হাজার ৪০০ টাকা। সোনার সঙ্গে তাল মিলিয়ে দাম কমছে রুপোরও।
শনিবার এক কিলো খুচরো রুপোর দর কলকাতায় ছিল ১ লক্ষ ৮৩ হাজার ৪৫০ টাকা। একদিনের তফাতে দাম নামে প্রায় দু’হাজার টাকা। সেনকো গোল্ড অ্যান্ড ডায়মন্ডসের ম্যানেজিং ডিরেক্টর শুভঙ্কর সেনের কথায়, আমেরিকার আসন্ন নির্বাচন, দেশে সুদের হার বেড়ে যাওয়া সহ একাধিক কারণে সোনার দাম নিম্নমুখী। কিন্তু একইসঙ্গে এটাও ঠিক, আন্তর্জাতিক পরিস্থিতির বড়ো রকমের উন্নতি হয়নি। এখনও তেলের দাম বেড়ে থাকা, যুদ্ধ পরিস্থিতির সম্পূর্ণ অবসান না হওয়ার মতো সমস্যা রয়েই গিয়েছে। তাই সোনার দাম যে বাড়বে না, তা বলা যায় না। যদি ধনতেরাসের মধ্যে দাম সামান্য চড়েও যায় তা সার্বিকাভাবে ক্রেতাদের মধ্যে আত্মবিশ্বাস আনবে। তাই আমাদের আশা, এবার এবার টাকার অঙ্কে বিক্রি অন্তত ২৫ শতাংশ বাড়বে। যাঁরা হালকা গয়না কেনার জন্য মনস্থির করেছিলেন, তাঁরা তুলনামূলক ভারী গয়না কিনবেন। প্রত্যেকদিনের ব্যবহারের জন্যও গয়না কেনায় উৎসাহিত হবেন ক্রেতারা। বিয়ের মরশুম যেহেতু সামনেই, তাই ভারী গয়না কেনার পরিকল্পনা রয়েছে অনেকেরই। সোনার দামের এই পতন তাঁদের বাড়তি উৎসাহ জোগাবে। তবে বঙ্গীয় স্বর্ণশিল্পী সমিতির সাধারণ সম্পাদক টগরচন্দ্র পোদ্দার বলেন, ছোটো দোকানদারদের কাছে এখনও বাজার সেভাবে সাড়া দেয়নি। ধনতেরাস যত এগবে, সোনার দাম কম থাকলে ভালো বিক্রি হবে। কারিগরদের স্বার্থরক্ষায় আমরা ন্যাশনাল জেম অ্যান্ড জুয়েলারি কাউন্সিল অব ইন্ডিয়ার কাছে আর্জি জানিয়েছি, সোনার মজুরির ক্ষেত্রে একটি ন্যূনতম সীমারেখা বজায় রাখা হোক।