


শিবাজী চক্রবর্তী, কলকাতা: ম্যাচ শুরুর আগে আকাশে গর্জন তুলে মেঘের ফাঁকে হারিয়ে গেল চারটে হেলিকপ্টার। ফ্লাইট স্টার্ট। তার সঙ্গে তাল মিলিয়েই যুবভারতীর আকাশে ডানা মেলল মোহন বাগান। ডার্বিতে আন্তোনিও লোপেজ হাবাসের প্রথম পরাজয়। কলকাতায় অভিষেকেই সুপারহিট পানাজিওটিস ডেম্পেরিস। গত মরশুমে ৯০ মিনিটে ইস্ট বেঙ্গলকে হারাতে ব্যর্থ মোহন বাগান। এদিন পানোস-ব্রিগেড তা সুদে-আসলে পুষিয়ে দিল। ম্যাচের পর সাপোর্ট স্টাফদের আলিঙ্গনে মিশে গেলেন সবুজ-মেরুন সারথি। তারপর হাবাসের সঙ্গে হাত মিলিয়ে একপ্রকার নাচতে নাচতে ড্রেসিং-রুমে ফিরলেন দীর্ঘদেহী গ্রিক কোচ। মর্যাদার যুদ্ধে জিতেছেন তিনি। গঙ্গাপাড়ের ক্লাবে গ্রিক সভ্যতার শুরু! পানোস বললেন, ‘সব কৃতিত্ব ফুটবলারদের। নিজেদের উজাড় করে দিয়েছে ছেলেরা। সবচেয়ে বড় কথা, সমর্থকরা হাসিমুখে বাড়ি ফিরছেন। আমি দারুণ খুশি।’
মরশুমের শুরুতেই ডার্বি। স্বাভাবিকভাবেই তৈরি নয় কোনো দলই। তা নিয়ে ম্যাচের আগে বিরক্তি প্রকাশ করেছিলেন দুই প্রধানের কোচই। ফিটনেসের সমস্যা প্রকট। তবু মহারণে চেষ্টার ত্রুটি ছিল না ফুটবলারদের। মোহন বাগান মাঝমাঠে বৈচিত্র বেশি। সেই অস্ত্রেই বাজিমাত করে গেলেন ডিম্পেরিস। ম্যাচের পর তাঁর মন্তব্য, ‘মিডফিল্ড দখলে নিয়ে আক্রমণের কৌশল ছিল। সেই লক্ষ্যে আমরা সফল।’ সাহাল, লিস্টন, আপুইয়ারা টেক্কা দিলেন মাঝমাঠেই। প্রচুর পাসও খেলল সবুজ-মেরুন ব্রিগেড। ডার্বি জিতে ভাইকিং সেলিব্রেশনে পালটা উপহার দিলেন সমর্থকরাও। যুবভারতীর মুড দেখে গ্রিক কোচও উচ্ছ্বসিত। প্রথম ডার্বি তাঁর পকেটে। ফুরফুরে মেজাজে বললেন, ‘অসাধারণ পরিবেশ। এটাই ডার্বির মাহাত্ম্য। এছাড়া কেউ চোট না পাওয়ায় আমি স্বস্তিতে।’
কোন অস্ত্রে ডার্বি জিতলেন পানোস? ম্যাচের আগে আত্মবিশ্বাস ঝরে পড়েছিল তাঁর গলায়। ভারতের সেরা ফুটবলাররা তাঁর দলে। পানোস তো সাহস দেখাবেনই। আসলে এই মোহন বাগানে ভারসাম্য বেশি। রক্ষণে অভিজ্ঞ রাহুল ভেকে নিশ্ছিদ্র। শেষদিকে চাপের মুখে দারুণভাবে পরিস্থিতি সামাল দিলেন তিনি। অন্তিম লগ্নে রশিদের শট বাঁচান বিশাল। বুঝিয়ে দিলেন মরশুমের শুরু থেকেই ছন্দে তিনি। গতবার শক্তিশালী দল গড়েও প্রত্যাশিত সাফল্য পায়নি মোহন বাগান। এবারও সোনায় মোড়া স্কোয়াড। মিগুয়েল, ম্যাকলারেনরা যোগ দিলে আরো ভয়ঙ্কর হয়ে উঠবে পানোস ব্রিগেড। গ্রিক কোচ প্রত্যাশার ফানুস ওড়ালেন। এবার সেটা ধরে রাখাই তাঁর চ্যালেঞ্জ।