


নিজস্ব প্রতিনিধি, শিলিগুড়ি: এবার শিলিগুড়িতে চালু হতে পারে জিএসটি অ্যাপিলেট ট্রাইব্যুনাল। রাজ্যের বাজেট অধিবেশনের মুখে বৃহস্পতিবার উত্তরকন্যায় বিভিন্ন বণিক সংগঠনের সঙ্গে বৈঠকের পর এমন আশ্বাস দেন অর্থমন্ত্রী স্বপন দাশগুপ্ত। এদিন ব্যবসায়ীরা অভিযোগ করেন,দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন শিল্পসংস্থায় উৎসাহভাতা বাবদ ৩০০ কোটি টাকা পাওনা আছে রাজ্য সরকারের কাছ থেকে। তা শীঘ্র মেটানোর দাবি জানান তাঁরা। অর্থমন্ত্রী বিষয়গুলি নিয়ে রাজ্য ও কেন্দ্রীয় সরকারের সঙ্গে আলোচনা করার আশ্বাস দিয়েছেন।
আগামী ২০ জুন বিধানসভায় শুরু হবে বাজেট অধিবেশন। এজন্য রাজ্য সরকার বিভিন্ন প্রান্তের ব্যবসায়ী ও উদ্যোগপতিদের মতামত নিচ্ছে। ইতিমধ্যে কলকাতায় ব্যবসায়ীদের বিভিন্ন সংগঠনের সঙ্গে বৈঠক করা হয়। এদিন মিনি সচিবালয় উত্তরকন্যায় শিলিগুড়ি, কোচবিহার, আলিপুরদুয়ার, জলপাইগুড়ি, উত্তর ও দক্ষিণ দিনাজপুর এবং মালদহের ব্যবসায়ীদের সঙ্গে বৈঠক করেন অর্থমন্ত্রী। তিনি ছাড়াও বৈঠকে উত্তরবঙ্গ উন্নয়নমন্ত্রী নিশীথ প্রামাণিক, অর্থদপ্তরের প্রতিমন্ত্রী আনন্দময় বর্মন সহ দপ্তরের শীর্ষকর্তারা হাজির ছিলেন।
পরে অর্থমন্ত্রী বলেন, উত্তরবঙ্গ থেকে বিশাল পরিমাণ জিএসটি আদায় হয়। তাই এখানে জিএসটি অ্যাপিলেট ট্রাইব্যুনাল থাকা উচিত। ব্যবসায়ীদের এই দাবি নিয়ে কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারমনের সঙ্গে আলোচনা করব। গত ১৫ বছর শুধু কেন্দ্রের বিরোধীতা করে গিয়েছে রাজ্য সরকার। এখন রাজ্যে ডবল ইঞ্জিনের সরকার চলছে। বিবাদের পরিবেশ থেকে আমরা বেরিয়ে আসব। ঝগড়া না করে আলোচনার মাধ্যমে সমস্ত সমস্যা মেটাতে চাই। তাই আট মাসের জন্য বাজেট তৈরি করতে বিভিন্ন মহলের মতামত নিচ্ছি। এটা দ্বিতীয় বৈঠক হল। আগামী সপ্তাহে দুর্গাপুরে আর একটি বৈঠক হবে।
অর্থমন্ত্রীর সঙ্গে আলোচনায় খুশি ব্যবসায়ীরা। উত্তরবঙ্গের ব্যবসায়ীর সংগঠন ফোসিনের সাধারণ সম্পাদক বিশ্বজিৎ দাস বলেন, ভ্যালু অ্যাডেড ট্যাক্স বা ভ্যাট যখন চালু হয়, তখন এখানে ট্রাইব্যুনাল ছিল। জিএসটি চালুর পর তা বন্ধ হয়ে যায়। কিন্তু জিএসটি সংক্রান্ত বিভিন্ন বিষয়ে ট্রাইব্যুনালে দ্বারস্থ হতে হলে কলকাতায় ছুটতে হয় ব্যবসায়ীদের। এতে ব্যবসায়ীদের লোকসান হয়। এই সমস্যা শোনার পর মন্ত্রী এখানে ট্রাইব্যুনাল চালুর আশ্বাস দিয়েছেন। একই সঙ্গে উত্তর-পূর্ব ভারতের মত শিলিগুড়ি সহ উত্তরবঙ্গে শিল্পস্থাপনে কর ছাড় ও ইএসআইয়ের সুবিধা প্রদানের দাবি জানানো হয়েছে। একই দাবি জানান মালদহ মার্চেন্টস চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির সভাপতি উজ্জ্বল সাহা।
রায়গঞ্জ মার্চেন্ট চেম্বার অব কমার্সের পক্ষে অতনুবন্ধু লাহিড়ী বলেন, জুট, রাইস মিল, ফার্নিচারের কারখানা, ইটভাটা প্রভৃতি ইউনিট চালু হলেও সরকার উৎসাহ ভাতা প্রদান করছে না। কয়েক বছরে উত্তরবঙ্গে প্রায় ২০০ ইউনিটের জন্য বকেয়া উৎসাহ ভাতার পরিমাণ প্রায় ৩০০ কোটি টাকা। যারমধ্যে রায়গঞ্জেরই বকেয়া প্রায় ৪০ কোটি টাকা।