


নিজস্ব প্রতিনিধি, নয়াদিল্লি: সকালে ‘এক সমোসা, দো চায়ে, জ্ঞানেশ কুমার হায় হায়!’ বিকেলে ‘জ্ঞানেশ, ইট’স ডান ব্রো!’ গান্ধীজয়ন্তীতে দিনভর এমনই সব স্লোগানে উত্তাল হয়ে উঠল দেশের রাজধানী দিল্লি থেকে বাণিজ্য রাজধানী মুম্বই। দুই শহরেই আন্দোলনের অনুমতি দেয়নি পুলিশ-প্রশাসন। নির্দিষ্ট স্থানে জারি করা হয়েছিল বিএনএসের ১৬৩ ধারা। অর্থাৎ, জমায়েত নিষিদ্ধ। বন্ধ করা হল ইন্টারনেটও। কিন্তু সেসবকে শুক্রবার থোড়াই কেয়ার করল দেশের মুখ্য নির্বাচন কমিশনারের ইস্তফার দাবিতে অনড় জেন জি! আর তাই সকালেই দেখা গেল ‘যন্তরমন্তর ২.০’-র ট্রেলার। বাম ছাত্র-যুব সংগঠন এবং আপ, আরজেডির মতো কিছু বিরোধী রাজনৈতিক দলের দু’টি পৃথক কর্মসূচিতে ধুন্ধুমার বাঁধল দিল্লিতে। গার্ডরেলের ব্যারিকেড দিয়ে একের পর এক রাস্তা বন্ধ করে দেয় পুলিশ। আন্দোলনকারীরা যাতে দ্রুত পৌঁছাতে না পারে, সেই আশঙ্কায় বন্ধ করে দেওয়া হয় দিল্লির ১২টি গুরুত্বপূর্ণ মেট্রো স্টেশনও। কার্যত অবরুদ্ধ হয়ে পড়ে দেশের রাজধানী শহর। তাতেও আন্দোলনকারীদের থামানো যায়নি। সবমিলিয়ে অন্তত হাজারখানেক বিক্ষোভকারীকে গ্রেপ্তার করা হয়। এরপর বিকালে জ্ঞানেশ-ইস্তফার দাবিতে ককরোচ জনতা পার্টির (সিজেপি) ‘জেল ভরো’ আন্দোলনে উত্তাল হয়ে ওঠে মুম্বই। অভিজিৎ দিপকে-আশুতোষ রাঙ্কাদের সমর্থন জানাতে শিবাজি পার্কের বাইরে হাজির হন নাসিরুদ্দিন শাহ, শাবানা আজমি, বিশাল দাদলানিরাও। রাত পর্যন্ত চলে সেই বিক্ষোভ। তবে সকালে দিল্লি পুলিশের মতো দমনপীড়নের পথে হাঁটেনি মুম্বই পুলিশ। আন্দোলনকারীদের হেনস্তার অভিযোগ অবশ্য উঠেছে উর্দিধারীদের বিরুদ্ধে। প্রতিবাদে শিবাজি পার্ক থানার সামনে বিক্ষোভও হয়।
এদিন দিল্লিতে আন্দোলনকারীদের ধরপাকড় মনে করিয়ে দিয়েছে ধর্মেন্দ্র প্রধানের ইস্তফার দাবিতে সংসদ অভিযানে পুলিশের অতিসক্রিয়তার ছবিটিকে। সকাল থেকেই যন্তরমন্তরের আশপাশে মোতায়েন ছিল বিশাল পুলিশ ও আধা সামরিক বাহিনী। যন্তরমন্তর চত্বরে ওড়ানো হয় ড্রোন। জমায়েত শুরু হতে না হতেই টেনেহিঁচড়ে পুলিশ বাসে তোলে সিপিএমের সাধারণ সম্পাদক এমএ বেবিকে। চ্যাংদোলা করে আটক করা হয় দিল্লির প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী আতিশী, আপ নেতা সৌরভ ভরদ্বাজকে। আইসা নেত্রী নেহা বোরাকেও চ্যাংদোলা করে পুলিশ-বাসে তোলে। যদিও রাস্তায় অন্যরা এগিয়ে এসে বাস থামিয়ে আন্দোলনকারীদের মুক্ত করে। এতকিছুর পরেও অবশ্য আন্দোলনকারীদের বড়ো অংশকে যন্তরমন্তরে পৌঁছানো থেকে আটকাতে পারেনি অমিত শাহের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের আওতায় থাকা দিল্লি পুলিশ। একপ্রকার গেরিলা কায়দায় দলে দলে বিক্ষোভকারী পৌঁছে যায় সেখানে। বিক্ষোভকারী ছাত্র-যুবদের অভিযোগ, তাদের উপর বিনা প্ররোচনায় লাঠিচার্জ করা হয়েছে। এমনকি আপের পক্ষ থেকে বাসে তোলার সময় আন্দোলনকারীদের পুলিশের মারার ভিডিয়ো পোস্ট করা হয়েছে সোশ্যাল মিডিয়ায়। যদিও অভিযোগ অস্বীকার করেছে দিল্লি পুলিশ। তাদের আবার দাবি, আন্দোলনরতদের আক্রমণে বহু পুলিশকর্মী আহত।
বিকালে মুম্বইয়ের শিবাজি পার্কে পুলিশের রক্তচক্ষু অগ্রাহ্য করে ‘ককরোচ’দের জমায়েত হয়। চত্বরজুড়ে মোতায়েন ছিল বিশাল পুলিশ বাহিনী। মঞ্চে ককরোচ প্রধান অভিজিৎ দিপকের হুংকার, ‘মহারাষ্ট্র সরকার একজনকেও গ্রেপ্তার করে দেখাক! কেন্দ্র এতই অযোগ্য, দু’মাসের মধ্যে আমাদের ফের আন্দোলনের পথে হাঁটতে হয়েছে। তবে এবারের প্রতিবাদ বিক্ষোভ হবে আরও ব্যাপক। জ্ঞানুকে সরতেই হবে।’ সকালে দিল্লি পুলিশের ‘বর্বরতা’র বিরুদ্ধেও তোপ দাগেন তিনি। ইন্টারনেট বন্ধ থাকায় বিক্ষোভের লাইভস্ট্রিম হয়নি। তবে আন্দোলন ‘জেল ভরো’ পর্যন্ত পৌঁছায়নি মুম্বই পুলিশের সৌজন্যে।