


সংবাদদাতা, হলদিয়া: ৬ হাজার কোটি টাকা বিনিয়োগে তৈরি হলদিয়া পেট্রকেমের নতুন ফেনল কারখানা পুজোর সময় হলদিয়াবাসীর উদ্দেশে উৎসর্গ করবেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। হলদিয়ায় সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে এখবর জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি বলেন, রাজ্যে বিজেপি সরকার ১০০দিন পূরণ করল। সরকার মূল চারটি লক্ষ্য নিয়ে কাজ করছে। প্রথমত রাষ্ট্রের সুরক্ষা। দ্বিতীয়ত সাংবিধানিক কর্তব্য। তৃতীয়ত জনকল্যাণমূলক কর্মসূচি। চতুর্থত শিল্পায়ন, বিনিয়োগ ও বাণিজ্যিক পরিবেশ গড়ে তোলা। নতুন সরকার বহুমুখী কর্মসংস্থানের উপর জোর দিয়েছে। সরকারি ও বেসরকারি শিল্পায়নের মাধ্যমে কর্মসংস্থানে গুরুত্ব দিচ্ছে সরকার। আর্থিক সহযোগিতা দিয়ে সফল ব্যবসায়ী বানানোর উদ্যোগ নিয়েছে রাজ্য। মঙ্গলবার রাতে সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, পেট্রকেম এবং রাজ্যের শিল্পায়ন নিয়ে আলোচনার জন্য ইতিমধ্যেই দু’বার পূর্ণেন্দু চট্টোপাধ্যায়ের সঙ্গে বৈঠক করেছি। আমরা রাজ্যে আসার পর দ্রুততার সঙ্গে নতুন প্ল্যান্টের কাজ হয়েছে। সেই কাজ শেষের পথে। পুজোর সময় মাতৃপক্ষে এর উদ্বোধন করব। জানা গিয়েছে, আগামী ১৪ অক্টোবর পেট্রকেমের নতুন ফেনল ও অ্যাসিটোন কারখানার উদ্বোধনের দিন ধার্য হয়েছে। পেট্রকেমের ওই নতুন প্রকল্প চালুর জন্য ধাপে ধাপে ট্রায়াল রান শুরু হয়েছে বলে জানা গিয়েছে। হলদিয়া পেট্রকেম ভারতে প্রথম অলিফিন কনজারভেশন টেকনোলজি ব্যবহার করে অন-পারপাস প্রপিলিন প্ল্যান্ট গড়ছে। এধরনের বৃহৎ আকারের ফেনল প্ল্যান্ট দেশে প্রথম। সংস্থার দাবি, ৬ হাজার কোটি টাকা বিনিয়োগে পেট্রকেমের সম্প্রসারণ এবং নয়া ফেনল প্রকল্প রাজ্যে প্লাস্টিক শিল্পে ফের নবদিগন্তের উন্মোচন করবে। নয়া ফেনল প্রকল্পের উৎপাদন ক্ষমতা ৩ লক্ষ ৪৫ হাজার টন বলে জানিয়েছে পেট্রকেম কর্তৃপক্ষ।
এদিকে, হলদিয়া অগ্নিকাণ্ডে মৃত ও অগ্নিদগ্ধ মানুষজনের পরিবারের হাতে ২ কোটি ২০ লক্ষ টাকা আর্থিক সহায়তা তুলে দিল ইন্ডিয়ান অয়েল পেট্রনাস বা আইপিপিএল শিল্প সংস্থা। ওই সংস্থাটি একটি বেসরকারি গ্যাস সংস্থা। মঙ্গলবার সন্ধ্যায় হলদিয়া ভবনে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী ১৭টি পরিবারের হাতে আর্থিক সহায়তার চেক তুলে দেন। উল্লেখ্য, গত ৩০ জুন অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় হালিমা বিবি(৫০), শেখ মইদুল ইসলাম(৩০), শেখ সেকেন্দার(৩০) এবং বিজলি মাইতি(৪৫) মারা যান। এদিন মৃতদের প্রত্যেকের পরিবারের হাতে ২৫ লক্ষ টাকার চেক তুলে দেওয়া হয়। ছ’জন সঙ্কটজনক অগ্নিদগ্ধের পরিবারের প্রত্যেকের হাতে ১৫ লক্ষ টাকার চেক দেওয়া হয়। এদের মধ্যে দু’জন মহিলা রয়েছেন। এছাড়া নন-ক্রিটিক্যাল পাঁচজন ও দু’জন মাইনর ইনজুরি থাকা ব্যক্তিকে ৫ লক্ষ ও ২ লক্ষ করে টাকার চেক দেওয়া হয়েছে। গত ৩০ জুন চিরঞ্জীবপুর এলাকায় হলদিয়া পেট্রকেমের সাউথ গেটের পাশে বাইরে থাকা পাইপলাইনের অতিদাহ্য পেট্রপণ্যের গ্যাস ছড়িয়ে আগুন লেগে যায়। ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে বহু ঘরবাড়ি পুড়ে যায়, অগ্নিদগ্ধ হন অনেকে। প্রচুর গাছপালাও পুড়ে যায়। কোন শিল্প সংস্থার পাইপলাইন লিকেজ থেকে অগ্নিকাণ্ড ঘটেছে, তা এখনো স্পষ্ট নয়। এবিষয়ে কেন্দ্রীয় সংস্থা পেসো তদন্ত করছে। অগ্নিদগ্ধদের চিকিৎসা ও আর্থিক সহায়তা দিতে এগিয়ে এসেছে পেট্রকেম ও আইপিপিএল।