


সংবাদদাতা, হলদিয়া: কয়লা, স্টিল ও এলপিজি আমদানি ও রপ্তানি কমল হলদিয়া বন্দরে। এঘটনায় উদ্বিগ্ন বন্দর কর্তৃপক্ষ। কয়লার মধ্যে মূলত স্টিল প্ল্যান্টের জন্য প্রয়োজনীয় কোকিং কোল এবং নন-কোকিং কোল আমদানি একধাক্কায় অনেকটা কমে গিয়েছে। হলদিয়া সহ রাজ্যের বিভিন্ন শিল্প সংস্থার নন-কোকিং আমদানি প্রায় ৫০ শতাংশ কমে গিয়েছে গত তিন মাসে। একইভাবে মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধের কারণে এলপিজি আমদানিও প্রায় ৩৮ শতাংশ কমে গিয়েছে। চলতি আর্থিক বছর অর্থাৎ ২০২৬-২৭ সালের এপ্রিল-জুন প্রথম তিন মাসে হলদিয়া বন্দরে পণ্য পরিবহনের রিপোর্ট থেকে এইতথ্য জানা গিয়েছে। তবে দেশের অন্যান্য বন্দরে যখন প্রথম তিন মাসে পণ্য পরিবহন বেড়েছে, একই সময়ে হলদিয়ায় সব মিলিয়ে পণ্য পরিবহন প্রায় ৫ শতাংশ কমে গিয়েছে। বন্দর বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বছরের শুরুতেই এভাবে হলদিয়ায় পণ্য পরিবহন কমে যাওয়ার ঘটনা যথেষ্ট উদ্বেগের। বন্দরের ওই রিপোর্ট থেকে জানা গিয়েছে, ১২-১৪টি সংস্থা স্টিল প্ল্যান্ট সহ বিভিন্ন শিল্পের জন্য যে কোকিং কোল আনত, এবার তাদের মধ্যে কয়েকটি সংস্থার আমদানি কমেছে। হলদিয়া বন্দর দিয়ে নন-কোকিং কোল সবচেয়ে বেশি আমদানি হয়। সেই নন-কোকিং কোলই এবার ৪৬.৩৭ শতাংশ কমে গিয়েছে। এটি বন্দর কর্তৃপক্ষের কাছে বড় ধাক্কা মনে করা হচ্ছে। এবছর শুরুতেই বন্দরে স্টিলের আমদানি রপ্তানি তলানিতে নেমেছে। নেপাল কার্গো ইমপোর্টাররা গত কয়েক মাসে স্টিল আমদানিই করেনি। এলপিজি আমদানি ৩৮.৫ শতাংশ কমে গিয়েছে।
২০২৫-২৬ অর্থ বর্ষে প্রথম তিন মাসে প্রায় ১৩ লক্ষ মেট্রিক টন লিকুইড পেট্রলিয়াম গ্যাস আমদানি করেছিল আইওসি, হিন্দুস্তান পেট্রলিয়াম ও ভারত পেট্রলিয়াম তিন রাষ্ট্রায়ত্ত সংস্থা। যুদ্ধের কারণে চলতি আর্থিক বছরের প্রথমে ওই আমদানি প্রায় ৫ লক্ষ টন কম হয়েছে। বন্দরের পণ্য পরিবহনে এর প্রভাব পড়েছে। তবে আশার আলো খানিকটা রয়েছে ন্যাপথা, ম্যাঙ্গানিজ ও লাইমস্টোনের আমদানি সামান্য বৃদ্ধির কারণে। বন্দর মারফত হলদিয়া পেট্রকেমে এবছর প্রথম তিন মাসে ন্যাপথার আমদানি প্রায় ২০০ শতাংশ বেড়েছে। এই বিষয়টি হলদিয়া শিল্পাঞ্চল শুধু নয়, রাজ্যের জন্যও খুবই আশার খবর। তবে সবমিলিয়ে হলদিয়া বন্দরে ৪.৭ শতাংশ পণ্য পরিবহন কমেছে। গত বছর প্রথম তিন মাসে বন্দর ১ কোটি মেট্রিক টন পণ্য পরিবহন করলেও এবার তার ধারে কাছে পৌঁছতে পারেন হলদিয়া বন্দর। এজন্য বন্দর কর্তৃপক্ষ কোস্টাল কার্গো পরিবহনে বাড়তি গুরুত্ব দিচ্ছে। হলদিয়া থেকে তামিলনাড়ু ও অন্ধ্রপ্রদেশের সরকারি তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রগুলিতে ইস্টার্ন কোল্ড ফিল্ড বা ইসিএল থেকে কয়লা জাহাজে করে পাঠানোর নতুন করে উদ্যোগ নিয়েছে। বন্দর কর্তৃপক্ষ প্রেস বিবৃতি দিয়ে এখবর জানিয়েছে। এজন্য হলদিয়া বন্দরের ৩ নম্বর কোল বার্থের পুনরুজ্জীবন করা হচ্ছে। মূলত থার্মাল কোল পাঠানো হবে পূর্ব উপকূলের তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রগুলিতে। জানা গিয়েছে, বন্দরের ওই বার্থটি মেকানাইজড হলেও প্রায় ২৪ বছরের পুরনো। ২০১৯ সালে ওই কোল বার্থ থেকে কয়লা পরিবহন বন্ধ হয়ে যায়। হলদিয়া বন্দরের জেনারেল ম্যানেজার(প্রশাসন) প্রবীনকুমার দাস বলেন, পুনরুজ্জীবিত করে ৩ নম্বর কোল বার্থ থেকে জাহাজ লোডিং শুরু হচ্ছে। বন্দরের জন্য এটি খুবই আশাব্যঞ্জক খবর। প্রথম দফায় ১০টি রেলের রেকে প্রায় ৪০ হাজার টন কয়লা আসছে ইসিএল থেকে। তবে বন্দর বিশেষজ্ঞরা প্রশ্ন তুলেছেন, ৩ নম্বর বার্থ পুনরায় চালু হলেও ওখানে স্ট্যাকার, রিক্লেইমারের মতো যে যন্ত্রগুলি রয়েছে তার কার্যক্ষমতা রয়েছে কি না। সেগুলি যেকোনও সময়ে মুখ থুবড়ে পড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।