


শ্রীকান্ত পড়্যা, কোলাঘাট: প্রার্থী ভোট প্রচারে নামলেও ভোট ম্যানেজাররা ব্যস্ত অভিমানীদের মানভঞ্জন করতে। পাঁশকুড়া পূর্ব কেন্দ্রে গেরুয়া শিবিরে এখন ছবি এমনটাই। এক দিনের জন্যেও দলের পতাকা না ধরা ব্যবসায়ী সুব্রত মাইতিকে প্রার্থী করেছে বিজেপি। এই ঘটনায় দলের একটা অংশ ক্ষুব্ধ। তাছাড়া, আদি-নব্য সংঘাতও চোরাস্রোতের মতো দলের মধ্যে বইছে। এই আবহে দলের নেতাদের বেশ কয়েকজন ক্ষুব্ধ ও অভিমানীদের মানভঞ্জনে ব্যস্ত। কাউকে কাউকে প্রার্থীদর সামনে হাজির করিয়ে ভোটে নামার আর্জি জানানো হচ্ছে। তবে, এই প্রক্রিয়ায় কতটা ফাটল বোজানো যাচ্ছে সেটা ৪মে স্পষ্ট হবে। তবে, বিজেপির ভোট ম্যানেজাররা এটা করতে মরিয়া চেষ্টা চালাচ্ছেন।
২০২৩ সালে ঘটা করে বিজেপিতে যোগদান করেছিলেন কোলাঘাট পঞ্চায়েত সমিতির প্রাক্তন সভাপতি তপন ঘড়া। তিনি তৃণমূল কংগ্রেসের পঞ্চায়েত সমিতির সভাপতি ছিলেন। দাদার ঘনিষ্ঠ তকমা সেঁটে যাওয়ায় দল তাঁকে বহিষ্কার করেছিল। বাধ্য হয়ে তপনবাবু বিজেপিতে যোগ দেন। ভোগপুর গ্রাম পঞ্চায়েতের অধীন কিশোরচক সহ বিস্তীর্ণ এলাকায় তাঁর বেশ প্রভাব আছে। সেই তপনবাবু এবার ভোটে পুরোপুরি নিষ্ক্রিয়। অভিমান ভাঙানোর চেষ্টা হচ্ছে। কিন্তু, সেটা এখনও পর্যন্ত সাকসেসফুল নয়। বৃহস্পতিবার তপনবাবু বলেন, ‘আমি এবার ভোটে সাইলেন্ট আছি। কোনোরকম প্রচারে নামছি না’ ১৯৮২সাল থেকে পাঁশকুড়া পূর্ব আসনে একটানা প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন বিপ্লব রায়চৌধুরী। রূপনারায়ণে জোয়ার-ভাটার মতোই কখনো জয়, আবার কখনো পরাজয় হয়েছে। এবার আর ভোটে নেই প্রবীণ নেতা বিপ্লববাবু। তাঁর জায়গায় তৃণমূল এবার প্রার্থী করেছে দলের ব্লক সভাপতি তথা জেলা পরিষদ সদস্য অসীম মাজিকে। ২০১৬সালে ওই আসনে বিপ্লববাবুকে হারিয়ে গোটা জেলায় হইচই ফেলে দেওয়া সিপিএমের তরুণ নেতা ইব্রাহিম আলি এবারও বামেদের প্রার্থী। বিজেপি কোনো রাজনৈতিক ব্যক্তিকে টিকিট না দিয়ে এলাকার বড় ব্যবসায়ী হিসাবে পরিচিত সুব্রত মাইতিকে প্রার্থী করেছে। আর, এই সিদ্ধান্ত নিয়ে দলের একটা অংশ ক্ষুব্ধ। তাদের বোঝাতে বাড়ি বাড়ি ছুটছেন কৃষ্ণেন্দু দাস, বিশ্বনাথ রামের মতো নেতারা। বিজেপির কোলাঘাট পূর্ব বিধানসভার কনভেনর দেবব্রত পট্টনায়েক বলেন, ক্ষোভ, অভিমান করা কর্মীর সংখ্যা আর সেভাবে নেই। প্রায় সকলেই ভোট প্রচারে নেমে পড়েছেন। বিজেপি নেতা কৃষ্ণেন্দু দাস ও বিশ্বনাথ রাম বলেন, যাঁরা অভিমান করে বসেছিলেন তাঁদের বুঝিয়ে ময়দানে নামানো হয়েছে।স্থানীয় বিধায়ক তথা মন্ত্রী বিপ্লব রায়চৌধুরী বলেন, পাঁশকুড়া পূর্ব আসনে আমরা অনেকটাই এগিয়ে। এবার এখানে আমাদের জয় নিয়ে কোনো সংশয় নেই। কোলাঘাট ব্লক প্রাথমিক স্বাস্থ্য কেন্দ্রের সামনে গিরিধারী বেরার চায়ের দোকান। ওই চা দোকানদার বলেন, সিপিএমের সম্ভাবনা নেই। এখানে বিজেপির সঙ্গে মূল লড়াই হবে তৃণমূলের। কোলাঘাটের ছাতিন্দা গ্রামের বাসিন্দা পেশায় টোটো চালক শেখ সারিআফ আলি বলেন, ‘কোলাঘাটে নদীবাহিত জল প্রকল্প একটা বড় প্রাপ্তি। তবে, এখানকার কিছু নেতার ভাই, ভাইপোকে কোটিপতি বানানোর কাহিনি সকলেই জানে। যে কারণে উল্টো হাওয়া বইছে। সেটা আমরা উপলব্ধি করছি।’