


তারক চক্রবর্তী, জলপাইগুড়ি: জলপাইগুড়ি জেলা স্কুলে প্রধান শিক্ষককে ফেলে মারধরের ঘটনার ৪৮ ঘণ্টা পেরিয়ে গেলেও সোশ্যাল মিডিয়ার দৌলতে সেই ভিডিয়ো এখনও তাজা। সমাজমাধ্যমে চলছে নিন্দার ঝড়। ছাত্রদের এভাবে শিক্ষকের ওপর হামলার ঘটনার পিছনে কেউ ইন্ধন জুগিয়েছিল কি না তা নিয়েও চলছে বিশ্লেষণ। যদিও জেলাশাসকের নির্দেশে বিদ্যালয় পরিদর্শক (মাধ্যমিক) তদন্ত শুরু করেছেন। এই অবস্থায় আজ, শুক্রবার সকালে জেলা স্কুলে আসছেন শিক্ষামন্ত্রী দীপক বর্মন। তাঁর নির্দেশের দিকে তাকিয়ে আছে স্কুল কর্তৃপক্ষ সহ জেলা শিক্ষা বিভাগ।
বৃহস্পতিবার জলপাইগুড়ি জেলাশাসক তথা জেলা স্কুলের পরিচালন সমিতির চেয়ারপার্সন অদিতি চৌধুরী জানিয়েছেন, ওই ঘটনা কখনোই কাম্য ছিল না। জেলা বিদ্যালয় পরিদর্শককে (মাধ্যমিক) গোটা ঘটনার তদন্ত করতে বলা হয়েছে। প্রত্যেকটি বিষয় খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
যদিও শিক্ষা ক্ষেত্রে শিক্ষক লাঞ্ছিত হওয়ার ঘটনা জেলায় এই প্রথম নয়। বছর তিনেক আগে ২০২৩ সালে জলপাইগুড়ি সুনীতিবালা সদর গার্লস হাইস্কুলের প্রধান শিক্ষিকার সঙ্গেও অনভিপ্রেত ঘটনা ঘটেছিল। সেবার অবশ্য পড়ুয়ারা এমন কিছু করেনি। জেলার প্রথমসারির এক তৃণমূল নেতার বিরুদ্ধে প্রধান শিক্ষিকাকে স্কুলেই চরম হেনস্তা করার ঘটনা প্রকাশ্যে এসেছিল। যা নিয়ে ওই সময় যথেষ্ট শোরগোল পড়ে গিয়েছিল।
গত ১৫ বছরে শিক্ষার মানের পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে শিক্ষক শিক্ষিকাদের প্রতি নানা অবিচার পড়ুয়ারা নিজের চোখে দেখেছে। তাই শিক্ষক শিক্ষিকাদের প্রতি সম্মান অনেকটাই কমে গিয়েছে বলে মত দিয়ে সোশ্যাল মিডিয়ায় একটি পোস্টও করেছেন পর্যটনমন্ত্রী শংকর ঘোষ। যাকে কার্যত সমর্থন করেছেন জলপাইগুড়ি সদর গার্লসের প্রধান শিক্ষিকা সুতপা দাস। তিনি বলেন, আমি একেবারেই এই মতকে অস্বীকার করতে পারি না। শিক্ষার মান নিম্নগামী হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে শিক্ষক শিক্ষিকাদের প্রতি পড়ুয়াদের আচরণে পরিবর্তন এসেছে। বিগত সরকারের সময়ে এই ধরনের যে মানসিকতা তৈরি হয়েছিল তারই প্রতিফলন হয়েছে জলপাইগুড়ি জেলা স্কুলে।
তবে শুধু ছাত্র শিক্ষকদের মধ্যে সম্পর্ক নয়, সরকারি পরিকাঠামোতে থেকে কীভাবে সরকারি স্কুল চলে সেই বিষয়েও সচেতনতা বৃদ্ধির প্রয়োজন রয়েছে বলে অনেকেই মনে করছেন। মিড ডে মিল থেকে শুরু করে একাধিক সরকারি সুযোগ সুবিধে সাধারণ ছাত্রদের মধ্যে সুষ্ঠুভাবে পৌঁছে দিতে স্কুলের প্রধান শিক্ষক থেকে বিভিন্ন স্তরে কর্মীরা সচেষ্ট থাকেন। সরকারি নিয়মাবলী অভিভাবক, পড়ুয়াদের বুঝিয়ে দেওয়ার প্রয়োজন রয়েছে বলে মনে করছেন অনেকে। অনেক সময় ভুল বোঝাবুঝির জন্য সমস্যা হয়।
এ প্রসঙ্গে জলপাইগুড়ি ফণীন্দ্রদেব ইনস্টিটিউশনের প্রধান শিক্ষক প্রকাশ কুণ্ডু বলেন, আমার মনে হয় অভিভাবক, পড়ুয়া এবং স্কুলের শিক্ষকদের মধ্যে সমন্বয় সাধন অত্যন্ত প্রয়োজন। সরকারি সুযোগ সুবিধা কিভাবে পাওয়া সম্ভব হতে পারে, সেই বিষয়ে প্রত্যেককে সচেতন হওয়ার প্রয়োজন। ওই স্কুলে যা হয়েছে তা শিক্ষিত সমাজকে লজ্জা দেয়।