


নিজস্ব প্রতিনিধি, জলপাইগুড়ি: ভুটান পাহাড় ও ডুয়ার্সে লাগাতার ভারী বৃষ্টির জেরে বিপর্যস্ত বানারহাট। আজ, মঙ্গলবার বিকেল থেকে চলা অবিরাম বর্ষণে এলাকার লাইফলাইন হিসেবে পরিচিত হাতিনালার জলস্তর দ্রুত বাড়তে শুরু করেছে। পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে যে খাল উপচে জল ঢুকে পড়েছে বানারহাট বাজারে। জলের তোড়ে বাজারের বিস্তীর্ণ অংশ-সহ সংলগ্ন একাধিক আবাসিক এলাকাও ক্ষতিগ্রস্ত। হঠাৎ এই জলস্ফীতিতে চরম দুর্ভোগের মুখে পড়েছেন স্থানীয় ব্যবসায়ী এবং সাধারণ মানুষ। জল যেভাবে বাড়ছে তাতে প্লাবনের আশঙ্কায় আতঙ্ক ছড়িয়েছে এলাকায়। পরিস্থিতি মোকাবিলায় এবং সাধারণ মানুষকে সতর্ক করতে ইতিমধ্যেই আসরে নেমেছে পুলিশ-প্রশাসন। মাইকিংয়ের মাধ্যমে এলাকাবাসীকে নিরাপদ দূরত্বে থাকা এবং সতর্ক থাকার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। জল আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। যার ফলে প্রশাসনের পক্ষ থেকেও বাড়তি নজরদারি চালানো হচ্ছে এলাকায়।
পাশাপাশি এদিন রাতে বানারহাট থানার আইসি মাইকিংও করেন। নদীর ধারের বাসিন্দাদের নিরাপদ আশ্রয়ে যাওয়ার আবেদন জানান। এলাকার স্কুলেই খোলা হয়েছে ফ্লাড সেন্টার। ইতিমধ্যেই জলপাইগুড়ির বানারহাটে হাতিনালার জল ঢুকে পড়েছে লোকালয়ে। আজ বিকেল থেকে ডুয়ার্সের বিভিন্ন এলাকায় এবং ভুটান পাহাড়ে ভারী বৃষ্টির জেরে হাতিনালার জল বাড়তে শুরু করে। সন্ধ্যার পর সেই জল বানারহাটের বিভিন্ন এলাকায় ঢুকে পড়ে। ফলে চরম সমস্যায় পড়েন স্থানীয়রা। সমস্যা দেখা দিয়েছে জাতীয় সড়কেও। রাস্তার উপর দিয়ে জল বইতে শুরু করায় যানবাহন চলাচল ব্যাহত হচ্ছে। শুধু জাতীয় সড়কই নয় আশপাশের একাধিক এলাকাও জলমগ্ন হয়ে পড়েছে। অনেক জায়গায় রাস্তাঘাট জলের নীচে চলে যাওয়ায় সাধারণ মানুষের যাতায়াতেও রীতিমতো সমস্যা তৈরি হয়েছে।
স্থানীয়দের দাবি, ভুটান পাহাড়ে ভারী বৃষ্টি হলেই হাতিনালার জল উপচে বানারহাটে ঢুকে পড়ে। প্রতি বছর বর্ষাতেই এই সমস্যার মুখোমুখি হতে হয় তাঁদের। দীর্ঘদিন ধরে এই ভোগান্তি চললেও এখনও স্থায়ী সমাধান হয়নি বলে অভিযোগ বাসিন্দাদের। জল বাড়তে থাকায় নিচু এলাকায় বসবাসকারী মানুষজনও উদ্বেগে রয়েছেন। পরিস্থিতির দিকে নজর রাখছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। অন্যদিকে, এই ঘটনায় সোশ্যাল মিডিয়ায় কার্যত তোপ দাগলেন পুরসভার বিরোধী কাউন্সিলার কংগ্রেসের অম্লান মুন্সি। বলেন, বর্ষার মরশুম চলছে। সামনে পুজো। এই অবস্থায় মানুষকে পরিষেবা দেওয়ারর বদলে জলপাইগুড়িতে দুই তৃণমূল কাউন্সিলার ইস্তফা দিয়েছেন। এই নিন্দনীয় কাজ পিছনের দরজা দিয়ে পালিয়ে যাওয়ার সমান।