


নিজস্ব প্রতিনিধি, শিলিগুড়ি: শিলিগুড়িতে সুরক্ষায় ত্রুটি মিললেই সিল করা হবে হোটেল, রেস্তরাঁ ও শপিংমল। রামপুরহাট ও কলকাতায় হোটেলে অগ্নিকাণ্ডের পর বৃহস্পতিবার শিলিগুড়িতে একথা জানান পর্যটনমন্ত্রী শংকর ঘোষ। তিনি এজন্য আগামী এক মাস হোটেল, রেস্তরাঁ ও শপিংমলে সারপ্রাইজ ভিজিট চালানোর কথা জানিয়েছেন। এজন্য বিশেষ কমিটিও গড়া হয়েছে বলে খবর। এদিকে, ছ’মাসে দার্জিলিং ও কালিম্পং জেলায় ১০৫টি সংস্থাকে নোটিস ধরিয়েছে দমকল বিভাগ। তারা এবার সংস্থাগুলির বিরুদ্ধে এফআইআর করতে পারে।
এদিন শহরের এসএফরোডে দমকল কেন্দ্র পরিদর্শন করেন পর্যটনমন্ত্রী। এরপর তিনি দমকল কেন্দ্রের অফিসারদের নিয়ে কয়েকটি হোটেল, রেস্তরাঁর সুরক্ষা ব্যবস্থা খতিয়ে দেখেন। পর্যটনমন্ত্রী বলেন, শিলিগুড়িতে পুলিশ, পুরসভা, দমকল ও বিদ্যুৎ বণ্টন কোম্পানির প্রতিনিধিদের নিয়ে একটি পরিদর্শক টিম তৈরি করা হবে। আগামী এক মাস এই টিম হোটেল, রেস্তরাঁ, শপিংমলে সারপ্রাইজ ভিজিট করবে। বিল্ডিং, অগ্নিনির্বাপণ, বিদ্যুৎ ব্যবস্থা সহ সমস্তটাই গুরুত্ব দিয়ে খতিয়ে দেখা হবে। কোথাও ত্রুটি মিললে সংস্থাগুলি সিল করে দেওয়া হবে।
এক্ষেত্রে সকলের সহযোগিতা চেয়ে বিগত সরকারকে একহাত নিয়েছেন পর্যটনমন্ত্রী। বলেন, বিগত সরকারের জমানায় অনিয়মকে পরিণত করা হয়েছিল নিয়মে। সেই আবর্জনা এখন পরিষ্কার করতে হচ্ছে। তাই প্রশাসনিক অভিযানে আপনাদের সকলের সহযোগিতা চাই। আর কোনো অনিয়ম বরদাস্ত করা হবে না। শীঘ্রই এ বিষয়ে পুলিশ ও প্রশাসন বৈঠক করবে।
এদিকে হোটেল, রেস্তেরাঁ সহ বিভিন্ন বাণিজ্যিক ভবনে ফায়ার অডিট চলছে। দার্জিলিংয়ের ডিভিশনাল ফায়ার অফিসার দেওয়ান লেপচা বলেন, ছ’মাসে দার্জিলিং ও কালিম্পং জেলায় হোটেল, রেস্তরাঁ, শপিংমল সহ ১০৫টি সংস্থাকে নোটিস পাঠানো হয়েছে। এখনও বেশকিছু সংস্থার জবাব মেলেনি। শীঘ্রই অভিযুক্তদের দ্বিতীয় নোটিস পাঠানো হবে। এরপর তাদের বিরুদ্ধে এফআইআর করা হবে।
অন্যদিকে, শিলিগুড়িতে লজিং হোটেলের সংখ্যা প্রায় ২৮০টি। সেগুলির সুরক্ষা ব্যবস্থা নিয়ে মালিক সংগঠনও নড়েচড়ে বসেছে। হোটেল ব্যবসায়ী সমিতির সম্পাদক উজ্জ্বল ঘোষ বলেন, হোটেলের প্রবেশ ও বাহির পথ, বিদ্যুৎ ও অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থা চাঙ্গা করা, বিভিন্ন নথি ঠিক রাখার পরামর্শ সমিতির প্রত্যেক সদস্যকে দেওয়া হয়েছে।