


কমেডি আছে আগের মতোই। সঙ্গে জুড়েছে খুন ও রহস্য। ‘হাউজফুল’ ফ্র্যাঞ্চাইজির পঞ্চম ছবিটির সারমর্ম এটাই।
পরিচালক তরুণ মনসুখানি এবার নতুন কিছু করতে চেয়েছিলেন। নতুনত্ব রয়েছে। ছবিতে দু’টি আলাদা ক্লাইম্যাক্স। দু’টি ভার্সনে ভিলেন হিসেবে রয়েছে দু’টি আলাদা চরিত্র। একসঙ্গে মুক্তি পেয়েছে দু’টি ভার্সনই। বলিউডে দু’টি আলাদা ক্লাইম্যাক্স দৃশ্যের শ্যুটিং একাধিকবার হয়েছে। কিন্তু দু’টি ভার্সনের একসঙ্গে মুক্তি পাওয়ার ঘটনা ভারতে সম্ভবত প্রথম। কিন্তু সমস্যা অন্য জায়গায়। নির্মাতারা সম্ভবত ভুলে গিয়েছিলেন, এই সব চমক তখনই কাজ করে যখন চিত্রনাট্য জোরালো হয়। সে গুড়ে বালি!
এবারে চরিত্রের সংখ্যা আরও বেশি। তাঁদের কাছ থেকে প্রত্যাশাও ছিল। কিন্তু পাওনার খাতায় শেষ পর্যন্ত কত পয়েন্ট যোগ হল? একে একে বলা যাক। সংলাপে হতাশ করেছেন ফারহাদ শামজি ও মনসুখানি। খাপছাড়া কিছু দৃশ্য ছাড়া হাসি প্রায় উধাও। সিনেমার শুরুতেই খুন, রহস্য বেশ আশা জাগায়। কিন্তু সেই থ্রিলও খেই হারায়।
সুদক্ষ অভিনেতাদের কাঁধে যে দায়িত্ব ছিল, তা কতটা উতরে গেলেন অক্ষয়, অভিষেক, রীতেশ? প্রত্যেকেই কমেডিতে দক্ষ। কিন্তু সংলাপ জোরদার না হলে তাঁদের হাতে লড়াই করার অস্ত্র কই? ফলে দানা বাঁধেনি তিনজনের কেমিস্ট্রি। তবু অক্ষয় ও অভিষেক নিজস্ব ম্যানারিজমে কয়েকটি দৃশ্য মজাদার করে তুলেছেন। এই ফ্র্যাঞ্চাইজির অন্যতম জনপ্রিয় চরিত্র ‘আখরি পাস্তা’ (চাঙ্কি পান্ডে)। তাঁকে আরেকটু স্ক্রিন প্রেজেন্স দিতে পারতেন পরিচালক। জনি লিভারও ভালো চেষ্টা করেছেন। দুই পুলিস অফিসারের চরিত্রে জ্যাকি শ্রফ ও সঞ্জয় দত্ত ‘খলনায়ক’-এর স্মৃতি উস্কে দিয়েছেন। প্রথমবার ফ্র্যাঞ্চাইজিতে এন্ট্রি নিয়ে সাবলীল ভাবে নিজের কাজ করেছেন নানা পাটেকার। শ্রেয়স তলপাড়ে, ফারদিন খান, ডিনো মারিয়াদের কিছু করার ছিল কি? এই প্রশ্ন সম্ভবত অভিনেতারা নিজেদেরও করছেন, তবে তা আমার-আপনার আড়ালে! নায়িকাদের মধ্যে পারফরম্যান্সের পাল্লা ভারী চিত্রাঙ্গদা সিংয়ের। অল্প সময়ের জন্য হলেও অভিনয়ে ছাপ রাখতে পেরেছেন তিনি।
আসলে এই সিনেমায় যুক্তি খুঁজতে কেউই চান না। ঘণ্টা দুয়েক হাসতে পারলেই দর্শক খুশি। সেই ফর্মুলাতেই এতদিন সাফল্য পেয়ে এসেছে ‘হাউজফুল’। কিন্তু সময় বদলেছে। বদলেছে সিনেমার ভাষাও। একই ফর্মুলা বারবার কাজ না করলে, ‘প্ল্যান বি’ তো ভেবে রাখতে হবে। নাহলে বৈতরণী পার হওয়া মুশকিল।
শুভজিৎ অধিকারী