


নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: বিভিন্ন জেলায় জাল ছড়িয়েছে আল কায়েদা ইন ইন্ডিয়ান সাবকন্টিনেন্টের (আকিস) সদস্যরা। বাংলাদেশ থেকে আকিসের সদস্যরা নিয়মিত এখানে এসে বিভিন্ন মডিউলের সঙ্গে বৈঠক করছে। মগজ ধোলাই থেকে কীভাবে করতে হবে নাশকতা, সমস্ত ধরনের প্রশিক্ষণ দিচ্ছে তারা। ভাঙড় থেকে ধৃত জিন্নাতুল কিবরিয়া ওরফে টুটুল বেগ ও মহম্মদ শফিককে জেরা করে এই তথ্য পেয়েছে বেঙ্গল এসটিএফ। তাদের মোবাইল ঘেঁটে ডজনখানেক গ্রুপের অস্তিত্ব পেয়েছেন তদন্তকারীরা। সবকটি গ্রুপ নিয়ন্ত্রণ করছে বাংলাদেশে থাকা এই জঙ্গি সংগঠনের মাথারা।
রবিবার রাতে বেঙ্গল এসটিএফ আলকায়দার ভাবাদর্শ প্রচার ও সমাজমাধ্যমে ভারত বিরোধী প্রচারের অভিযোগে টুটুল ও সফিককে গ্রেপ্তার করে। তাদের জেরা করে তদন্তকারীরা জেনেছেন, বেশ কিছুদিন চুপ করে থাকার পর আবার রাজ্যে নতুন করে সংগঠন গড়ছে আল কায়েদা। এরজন্য মুর্শিদাবাদ, মালদহ, নদীয়া, বনগাঁ, হাওড়া সহ বিভিন্ন জেলাকে বেছে নিয়েছে। বাংলাদেশে থাকা এই জঙ্গি সংগঠনের হ্যান্ডলাররা তাদের নির্দেশ দিয়েছিল স্লিপার সেল তৈরি করার। সেইমতো তারা অনলাইনে নিয়োগ করছিল বেকার তরুণ ও যুবকদের। পাশাপাশি তাদের বলা হয়েছিল, নতুন সদস্যদের প্রশিক্ষণের জন্য জায়গা খোঁজার। সেইমতো তারা সীমান্ত লাগোয়া বিভিন্ন এলাকায় জমি খুঁজছিল। পাশাপাশি বাড়িও ভাড়া নেওয়া হয়েছিল বলে জানা যাচ্ছে। বিভিন্ন ডেরায় নতুন জেহাদিদের এনে রাখা হতো। সংগঠনের ভাবধারা ও মতাদর্শ প্রচারের সঙ্গে কীভাবে অপারেশন চালাবে হবে, সেগুলি শেখানো হতো তাদের। অস্ত্র ও বিস্ফোরক তৈরির কাঁচামাল জোগাড়ের জন্য বিভিন্ন লোকের সঙ্গে কথা বলছিল ধৃত দুই জঙ্গি। তারা জেরায় তদন্তকারীদের জানিয়েছে, এবার বড় বড় স্লিপার সেল নয়, বাংলাদেশ থেকে নির্দেশ আসে ছোট আকারে সেল তৈরির। যাতে একজন ধরা পড়লেও, পুলিশের কাছে সংগঠন সম্পর্কে যথাযথ তথ্য বেরিয়ে না আসে। রাজ্যে এই মূহূর্তে আল কায়েদার ঠিক কতগুলি মডিউল চলছে, ধৃতদের জেরা করে জানার চেষ্টা করছেন তদন্তকারীরা।