


সংবাদদাতা, আলিপুরদুয়ার: দুর্গাপুজো মানেই উত্তরবঙ্গের চা শ্রমিকদের পুজো বোনাস। শ্রমিকদের সঙ্গে হাসি ফোটে চা মহল্লার হাটগুলির ব্যবসায়ীদের মুখেও। আজ, বুধবার কলকাতার নিউ সেক্রেটারিয়েট ভবনে রাজ্য সরকারের সঙ্গে চা মালিক সংগঠনগুলির প্রতিনিধিদের প্রথম পর্যায়ে শ্রমিকদের পুজো বোনাসের দ্বিপাক্ষিক বৈঠক হবে। বৈঠকে সমস্ত চা মালিক সংগঠনের প্রতিনিধিরা উপস্থিত থাকবেন। উপস্থিত থাকবেন রাজ্যের শ্রমমন্ত্রী অর্জুন সিংও। তৃণমূল সরকারের আমলে গত বছর চা শ্রমিকদের সর্বোচ্চ পুজো বোনাসের হার ছিল ২০ শতাংশ। এবার রাজ্যে নতুন সরকারের আমলে কত শতাংশ পুজো বোনাস হয় সেদিকেই অধীর আগ্রহে তাকিয়ে আছে উত্তরের লক্ষ লক্ষ চা শ্রমিক।
তবে বেশকিছু চা বাগানের শ্রমিকরা গত বছরের পুজো বোনাসের পুরো অর্থ এখনও হাতে পাননি। তাঁদের সেই বকেয়া বোনাস নিয়ে বুধবারের বৈঠকে কী হয় সেদিকেও অনেকেই তাকিয়ে আছেন। যদিও এনিয়ে চা মালিকদের কোনো সংগঠনই মুখ খোলেনি। ইন্ডিয়ান টি প্ল্যান্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের উপদেষ্টা অমৃতাংশু চক্রবর্তী বলেন, অতীতে চা শ্রমিকদের পুজো বোনাসের বৈঠকগুলি যেভাবে হয়ে আসছিল আশা করছি কালকের বৈঠকও সেভাবেই হবে। এর থেকে এখনই বেশিকিছু বলার নেই।
এদিকে, ভারতীয় টি বোর্ড জুন মাসে চায়ের উৎপাদনের পরিসংখ্যান প্রকাশ করেছিল। কিন্তু আগস্ট মাস শেষ হতে চলছে তারপরেও টি বোর্ড জুলাই মাসের পরিসংখ্যান প্রকাশ করেনি। জুনে ডুয়ার্সে চায়ের উৎপাদন কিছুটা বাড়লেও তরাই ও পাহাড়ে উৎপাদন কমেছিল। তবে টি বোর্ডের পরিসংখ্যান এখনও প্রকাশ না হলেও জুলাইয়ে চায়ের উৎপাদন কমার আশঙ্কা করছেন চা বাগান মালিকরা। টি অ্যাসোসিয়েশন অব ইন্ডিয়ার উত্তরবঙ্গের প্রাক্তন জেনারেল ম্যানেজার চিন্ময় ধর বলেন, জুলাই মাসেও চায়ের উৎপাদনে ঘাটতির আশঙ্কা রয়েছে। এর একটাই কারণ অতি বৃষ্টি, পোকামাকড়ের উপদ্রব ও খামখেয়ালি আবহাওয়া। আমরা টি বোর্ডের জুলাইয়ের পরিসংখ্যান প্রকাশের দিকে তাকিয়ে আছি।