


সংবাদদাতা, বোলপুর: কয়েক মাস ধরে বন্ধ পড়ে ছিল প্রাক্তন মন্ত্রী ও বর্তমান বোলপুরের বিধায়ক চন্দ্রনাথ সিংহের ইলামবাজারের তৃণমূলের কার্যালয়। বুধবার সেখানে ঢুকেই চক্ষু চড়কগাছ বিজেপি কর্মী-সমর্থকদের। তাঁদের দাবি, কার্যালয় এবং পাশের একটি গোডাউন থেকে উদ্ধার হয়েছে বিপুল পরিমাণ সরকারি ত্রাণসামগ্রী। মিলেছে সরকারি ত্রিপল, বিভিন্ন নথি, আধার কার্ডের জেরক্স, শাড়ি, গামছা ও সাদা থান। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়ায়। বিজেপি এই ঘটনায় তৃণমূলের বিরুদ্ধে সরকারি সম্পত্তি মজুত রাখার অভিযোগ তুলেছে। তবে, এবিষয়ে তৃণমূলের কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।
স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, নির্বাচনে তৃণমূলের ভরাডুবির পর থেকেই ওই তৃণমূল কার্যালয়টি কার্যত বন্ধ ছিল। এদিন সকালে কয়েকজন বিজেপি কর্মী-সমর্থক সেখানে প্রবেশ করেন। তাঁদের দাবি, ঘরের ভিতরে তৃণমূলের পতাকা ও ফেস্টুনের পাশাপাশি বস্তায় ভরা সরকারি ত্রাণসামগ্রী মজুত ছিল। সেখানে বেশকিছু ফাইল, আধার কার্ডের ফটোকপি, শাড়ি, গামছা এবং সাদা থানও দেখতে পান বলে অভিযোগ।
শুধু দলীয় কার্যালয়েই নয়, তার পাশের একটি গোডাউন থেকেও সরকারি ত্রিপলের একাধিক বস্তা উদ্ধার হয় বলে দাবি বিজেপি কর্মীদের। এরপর সরকারি সম্পত্তি দলীয় কার্যালয়ে মজুত রাখার অভিযোগ তুলে সেখানে বিক্ষোভ দেখাতে শুরু করেন তাঁরা। পরিস্থিতি সামাল দিতে ঘটনাস্থলে পৌঁছয় ইলামবাজার থানার পুলিশ।
বিজেপির অভিযোগ, সাধারণ মানুষের জন্য বরাদ্দ সরকারি ত্রাণসামগ্রী বিতরণ না করে দলীয় কার্যালয়ে জমা করে রাখা হয়েছিল। তাঁদের আরও দাবি, তৃণমূল নেতৃত্ব ভেবেছিল ২০২৬ সালেও ক্ষমতায় ফিরবে। সেই কারণেই বিভিন্ন সামগ্রী মজুত রাখা হয়েছিল। সাদা থান উদ্ধার প্রসঙ্গে বিজেপির দাবি, হিন্দু সমাজে স্বামীর মৃত্যুর পর মহিলারা সাধারণত সাদা থান পরিধান করেন। সেই থান ব্যবহার করে বিরোধীদের ভয় দেখানো হয়েছে। ৪ তারিখের পর আমাদের কর্মীদের খুন করে তাঁদের স্ত্রীদের এই থান দেওয়ার পরিকল্পনা ছিল।
বোলপুর-১ নম্বর মণ্ডলের বিজেপি সভাপতি শুকদেব বিশ্বাস বলেন, এতদিন আমরা বলতাম তৃণমূল চোরেদের সরকার। আজ দলীয় কার্যালয় থেকে মানুষের জন্য বরাদ্দ ত্রাণসামগ্রী, শাড়ি এবং সাদা থান উদ্ধারের ঘটনা সেই অভিযোগকেই প্রমাণ করছে। আমরা নির্বাচনে হারলে এই সাদা থান আমাদের বাড়িতে পাঠানো হত। প্রশাসনের কাছে দাবি, ঘটনার সঙ্গে জড়িত প্রত্যেকের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হোক।
এই বিষয়টি নিয়ে বিজেপির বোলপুর সাংগঠনিক জেলার সভাপতি শ্যামাপদ মণ্ডল বলেন, তৃণমূল সর্বভূক। ত্রাণের ত্রিপল থেকে কয়লা, বালি, পাথর সবকিছু থেকেই কাটমানি খায়। এই ঘটনা তারই একটি উদাহরণ। সরকারি ত্রাণসামগ্রী মানুষের হাতে পৌঁছনোর আগে দলীয় কার্যালয়ে কেন থাকবে, সেই প্রশ্ন উঠছে। ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত এবং দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি হওয়া উচিত।
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, এদিন বিকেল পর্যন্ত এই ঘটনায় কোনো লিখিত অভিযোগ জমা পড়েনি। তবে, ঘটনাস্থল থেকে মোট প্রায় ১৪৫০টি সরকারি ত্রিপল বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে। উদ্ধার হওয়া সামগ্রী। -নিজস্ব চিত্র