


ইসলামাবাদ: ৮০০০০০০০০০০০০০। অর্থাৎ, ৮০ লক্ষ কোটি টাকা। বর্তমানে এটাই পাকিস্তানের জাতীয় ঋণের পরিমাণ। দেনার বহরটা বাড়তে বাড়তে দেশের মোট জিডিপি ৭০.৭ শতাংশে এসে দাঁড়িয়েছে। সম্প্রতি পাক অর্থমন্ত্রকের বিবৃতিতে এই বিস্ফোরক তথ্য সামনে এসেছে। দেউলিয়া পাকিস্তানের যে একেবারে ‘ভিক্ষুকে’র দশা, এবার সেই স্বীকারোক্তি স্বয়ং সেদেশের প্রাধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিকের মুখেও। ইসলামাবাদে এক অনুষ্ঠানে তাঁর আক্ষেপ, ভিক্ষা চাইতে গোটা বিশ্বে ঘুরে বেড়াতে হয় আমাদের। লজ্জায় মাথা হেঁট হয়ে যায়। জলাঞ্জলি দিতে হয় আত্মসম্মান।
পাকিস্তান যে সন্ত্রাসের আঁতুড়ঘর, আন্তর্জাতিক মহলে তা কারো আর জানতে বাকি নেই। অথচ দেশ চালানোর জন্য আন্তর্জাতিক অর্থভাণ্ডার (আইএমএফ) ও চীন, সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরশাহি, কাতারের মতো দেশগুলির আর্থিক সাহায্যের জন্য চাতক পাখির মতো তাকিয়ে থাকতে হয়। বহু কাঠখড় পুড়িয়ে ‘ফিন্যান্সিয়াল অ্যাকশন টাস্ক ফোর্স’ বা এফএটিএফের ধূসর তালিকা থেকে নাম সরেছে বটে। তবু, তলায় তলায় সন্ত্রাসে আর্থিক মদতে ভাটা পড়েনি। দেশের মানুষকে ভাত দেওয়ার মুরোদ না থাকলেও পড়শি দেশে জঙ্গি হামলার চালানোর ‘গোঁসাই’ পাকিস্তান। আর এই দীর্ঘ ছায়াযুদ্ধের খেসারত যে কতটা ভয়ংকর হতে পারে, তা এবার হাড়ে হাড়ে টের পাচ্ছে ইসলামাবাদ। সেই সূত্রেই নজিরবিহীনভাবে দেশের দেউলিয়া দশার কথা স্বীকার করে নিলেন পাক প্রধানমন্ত্রী। এবং তা করতে গিয়েই একযোগে সরকার ও সর্বোচ্চ ক্ষমতার অধিকারী সেনাবাহিনীকে বিড়ম্বনার মুখে ফেললেন। বৃহস্পতিবার রাতে ইসলামাবাদে শীর্ষ রপ্তানিকারী ও ব্যবসায়ীদের একটি অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে দেশের অর্থনীতি নিয়ে তীব্র হতাশা আর গোপন করতে পারেননি শাহবাজ। তাঁর আক্ষেপ, ‘বন্ধু দেশগুলির কাছ থেকে কীভাবে ঋণ জোগাড় করতে হয়, সেকথা কীভাবে বলি! বন্ধু রাষ্ট্রগুলি সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দেয় ঠিকই। কিন্তু ঋণ চাইতে গিয়ে মাথা নীচু হবেই।’ এর পরে আরও একধাপ এগিয়ে খোদ সেনাপ্রধানের নামও উল্লেখ করেন শাহবাজ। তিনি বলেন, ‘যখন ফিল্ড মার্শাল (সেনাপ্রধান) আসিম মুনির ও আমি গোটা বিশ্বে ঘুরে ভিক্ষা করি, তখন লজ্জা লাগে। ঋণ নেওয়াটা আত্মসম্মানে বিশাল ধাক্কা। লজ্জায় মাথা হেঁট হয়ে যায়। বহু ক্ষেত্রেই ওরা (ঋণদাতা দেশ) আমাদের দিয়ে যা করাতে চায়, ইচ্ছা না থাকলেও তাতে না বলা যায় না।’