


রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে রহস্যে ঘেরা ওয়েব সিরিজ ‘জুলি’ মুক্তি পেয়েছে আড্ডা টাইমসে। এই সিরিজে অভিনয়ের জার্নি শেয়ার করলেন গৌরব চট্টোপাধ্যায়।
• ‘জুলি’র ফিডব্যাক কেমন?
•• খুবই ভালো। টিজার, ট্রেলার দেখার পরই দর্শকদের আগ্রহ আমরা বুঝতে পেরেছিলাম। এখন সিরিজটাও তাঁদের ভালো লাগছে।
• সিনেমা, টেলিভিশন এবং ওটিটি— তিনটি মাধ্যমের মধ্যে কোনও পার্থক্য করতে পারেন?
•• আমার মনে হয় আবেগের কোনও মাধ্যম হয় না। সংলাপ যখন মাথা থেকে না বেরিয়ে মন থেকে বেরয়, তখন সেটা কোন মাধ্যমে দেখানো হবে, তার আলাদা গুরুত্ব নেই। তুল্যমূল্য বিচার করলে তিনটে ফরম্যাট আলাদা হতে পারে কিন্তু আবেগের জায়গাটা এক।
• আপনার রাজনীতিতে আগ্রহ আছে?
•• আমার রাজনীতি নিয়ে কোনও আগ্রহ নেই। আমি অভিনেতা। অভিনেতা আর নেতা দু’জন সম্পূর্ণ আলাদা। ‘জুলি’তে রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট রয়েছে। সিবিআই অফিসারের চরিত্রে অভিনয় করতে আমার ভালো লেগেছে।
• মহানায়ক উত্তমকুমার আপনার দাদু। অনেক সময়ই নানা তুলনা এসেছে। সেটা কি বাড়তি চাপ?
•• আমার প্রথম সিনেমা রিলিজের পর অনেকেই বলেছিলেন, উত্তম কুমারের নাতি এরকম দেখতে! কিছু মানুষ খারাপ মন্তব্য করেছিলেন। তবে সেগুলো আমাকে খুব একটা প্রভাবিত করতে পারেনি। কারণ অভিনয় আমাকে বেছে নিয়েছিল, আমি অভিনয় বেছে নিইনি। প্রথম অভিনয়ের অফার যখন আসে তখন আমি পড়াশোনা করছি। সবে ক্লাস টুয়েলভ পাশ করেছি। ফার্স্ট ইয়ারে পড়তেই আমার প্রথম সিরিয়ালে কাজ করা। আমি তখনই একটা জিনিস বুঝেছিলাম যে, এই মন্তব্য নিয়ে যদি আমি মাথা বেশি ঘামাই তাহলে আমি আমার শিল্প থেকে পিছিয়ে আসব।
• আপনি এবং আপনার স্ত্রী দেবলীনা কুমারের সম্পর্কের বিচ্ছেদের নানা গুঞ্জন প্রায়শই শোনা যায়। এগুলো সামলান কীভাবে?
•• আমি আমার জীবনটা সোশ্যাল মিডিয়ায় তুলে ধরব না। দেবলীনা আবার ভীষণভাবেই সোশ্যাল মিডিয়ায় অ্যাকটিভ। একটা জিনিস বুঝেছি, আমরা একসঙ্গে কোনও ভালো ছবি পোস্ট করলে সবাই যে সেটা ভালো নজরে দেখেন, এমনটা কিন্তু নয়। ক’দিন আগেই আমাদের সন্তান আসতে চলেছে এরকম গুজব শোনা গিয়েছিল। সম্পর্ক ভাঙারও গুঞ্জন শোনা গিয়েছিল। কিন্তু, এসব আমরা পাত্তা দিই না। পরিবার কেমন আছে, আমরা কেমন আছি, এটাই আমাদের কাছে সবথেকে বড়।
• পেশাগত প্রতিদ্বন্দ্বিতা দাম্পত্য সম্পর্কে প্রভাব ফেলে?
•• না। আমাদের মধ্যে কোনও কম্পিটিশন নেই। আমি ওর থেকে সিনিয়র। দেবলীনার কাজ যদি আরও বেশি মানুষ পছন্দ করেন, আমি বেশি খুশি হব।
• এত বছর টলিউডে কাজ করার পর ইন্ডাস্ট্রির অন্দরের রাজনীতি বুঝতে পারেন?
•• একেবারেই বুঝি না (হাসি)। তবে আমার মনে হয়েছে, হয়তো কিছু ক্ষেত্রে এই রাজনীতির শিকার হয়ে আমি কাজ হারিয়েছি। আমি এর ভেতরে ঢুকে কারণ খুঁজতে চাইনি। আমি ভেবেছি সেই কাজটা হয়তো আমার পাওয়ার ছিল না। দিনের শেষে আমি এই সমস্ত কিছু নিয়ে ভাবি না। আমি শান্তির জীবন চাই এবং সব কাজের শেষে শান্তির আট ঘণ্টার ঘুম দরকার আমার।
পূর্বাশা দাস