


ওয়াশিংটন: রাতারাতি সামরিক অভিযান। ভেনেজুয়েলার তৎকালীন প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে বন্দি করে আমেরিকায় তুলে আনেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। বুক বাজিয়ে ঘোষণা করেছিলেন আমরাই চালাব ভেনেজুয়েলা। এবার সেই ঘটনার কথা মনে করিয়ে ইরানকে হুমকি দিলেন ট্রাম্প। বৃহস্পতিবার তাঁর স্পষ্ট বার্তা— আজ রাতেই ইরানে ভয়াবহ হামলা চালানো হবে। শীঘ্রই ইরানের খার্গ দ্বীপ দখল করে নেওয়া হবে। খার্গের পাশাপাশি বাকি তেলের ভাণ্ডার অর্থাৎ ইরানের তেল ও গ্যাসের বাজারেও আমেরিকার নিয়ন্ত্রণ থাকবে। একেবারে ভেনেজুয়েলার মতো। উল্লেখ্য, ইরানের লাইফলাইন খার্গ দ্বীপ। এখান থেকেই দেশের প্রায় ৯০ শতাংশ অপরিশোধিত তেল রপ্তানি হয়।
বৃহস্পতিবার, যুদ্ধের ১০৪ তম দিনেও আমেরিকা-ইরানের হামলা ও পালটা হামলায় ফের উত্তপ্ত পশ্চিম এশিয়া। অ্যাপাচে কপ্টার ধ্বংসের জবাবে ইরানের একাধিক জায়গায় আছড়ে পড়ল মার্কিন ক্ষেপণাস্ত্র। পালটা হামলা চালিয়েছে তেহরানও। বুধবার রাতে বাহরিন, কুয়েত ও জর্ডনের মার্কিন সেনাঘাঁটিকে লক্ষ্য করে ড্রোন ও মিসাইল হামলা চালাল ইরানি সেনা। এই পরিস্থিতিতে কুয়েতের আকাশসীমা সাময়িকভাবে বন্ধ করে দেওয়া হয়। তবে বেলা বাড়তেই ফের স্বাভাবিক হয়েছে বিমানের ওঠানামা।
মার্কিন সেনা জানিয়েছে, ট্রাম্পের নির্দেশে ইরানের একাধিক জায়গায় হামলা চালানো হয়েছে। বুধবার রাতে তিন দফা হামলায় ইরানের প্রায় ১২টি জায়গাকে নিশানা করা হয়েছিল। কারাজ, মধ্য আবেইকের পাশাপাশি হরমুজ প্রণালী লাগোয়া সিরিক, বন্দর আব্বাস শহরে বিস্ফোরণের শব্দ মেলে। কেশম ও কিশ দ্বীপে আছড়ে পড়ে ক্ষেপণাস্ত্র। কারগানের দক্ষিণ অঞ্চলেও সাইরেনের শব্দ শোনা গিয়েছে। এই হামলায় কারগানে কমপক্ষে দু’জন জখম হয়েছেন। এভাবে হামলার কড়া নিন্দা জানিয়েছেন ইরানের বিদেশমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি।
পালটা জবাব দিয়েছে খামেনেইর দেশ। জর্ডন, কুয়েত ও বাহরিনে একাধিক মার্কিন ঘাঁটি লক্ষ্য করে হামলা চালিয়েছে তারা। হরমুজ প্রণালীতে দু’টি জাহাজকেও নিশানা করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার ভোরবেলায় বাহরিনের শেখ ইসা, কুয়েতের আলি আল সালেম ও আহমদ আল-জাবের এয়ারবেসে ড্রোন হামলা চালানো হয়। ১২টি ব্যালিস্টিক মিসাইলও ছোড়ে তেহরান। এর জেরে ব্যাপক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে জর্ডনের আল-আজরাক এয়ারবেস। ভেঙে পড়েছে একাধিক বহুতল। এরমধ্যে দ্রুত শান্তিচুক্তির দাবিতে সরব হয়েছে পশ্চিমের দেশগুলি। এরইমাঝে হরমুজ পেরিয়েছে এশিয়ার উদ্দেশে রওনা দেওয়া তিনটি এলএনজি ট্যাঙ্কার।