


একপশলা বৃষ্টির পর সেদিন কলকাতার আকাশে ঝলমলে রোদ্দুর। আড়মোড়া ভেঙে শহর ব্যস্ত হয়ে পড়েছে। ‘চতুষ্পর্ণী’-র সঙ্গে ফ্যাশন শ্যুট করছেন ইধিকা পাল। নির্দিষ্ট সময় পৌঁছে গেলেন নায়িকা। মেকআপ শুরুর আগে এক কাপ কফি হাতে দাঁড়ালেন জানলার সামনে। সামনেই একটা স্কুল। বৃষ্টি থেমে যাওয়ার পর টিফিনের সময় স্কুলপড়ুয়ারা মাঠে হুটোপুটি শুরু করেছে। ঠিক ঝকঝকে আকাশের মতোই। রোদ্দুর পিছলে যাচ্ছে তাদের গায়ে। তা দেখে নানা সম্ভারের ভিতর থেকে এই হলুদরঙা গাদোয়াল বেছে নিলেন ইধিকা। হেসে বললেন, আজকের ওয়েদারের সঙ্গে পারফেক্ট ম্যাচ করবে!
প্রাদেশিক শাড়ি যাঁরা ভালোবাসেন, তাঁদের সংগ্রহে গাদোয়াল নিশ্চয়ই আছে। সুতির গাদোয়াল পরে যে কোনও অনুষ্ঠানে চলে যাওয়া যায়। ইধিকার পরনে রয়েছে সিল্ক গাদোয়াল। শীতের বিয়েবাড়ি হোক বা সান্ধ্য পার্টি জমে উঠবে এই শাড়িতে। সাধারণত এই ধরনের শাড়ির বৈশিষ্ট্য পাড় এবং আঁচল। কখনও আমকলকা, কখনও নকশাদার ডিজাইন আঁচল ঘিরে থাকে। টেম্পল পাড়ও বিশেষ আকর্ষণীয়। আর জমিতে ছড়ানো থাকে বুটি। কিছু গাদোয়াল বুটি ছাড়াও পাবেন। হলুদের সঙ্গে নীলের কনট্রাস্ট শাড়িটিকে আলাদা করে তুলেছে। পাড়ে সবুজ ও জাম রঙের মোটিফ স্টেটমেন্ট তৈরি করেছে।
হলুদ গাদোয়ালের সঙ্গে ইধিকা বেছে নিলেন জমকালো ব্লাউজ। নীল বিডসের সঙ্গে যে পেনডেন্ট পরেছেন, তার ডিজাইন অনেকটা হাতপাখার মতো। কানেও একই মোটিফের দুল। কাজল, লাইনার, মাস্কারায় চোখের সাজ সম্পূর্ণ হয়েছে। যেহেতু শাড়ি এবং ব্লাউজ জমকালো, তাই পরেছেন ন্যুড লিপস্টিক। কান ও গলার গয়নার ভারী ডিজাইনের কারণে দুই হাত একেবারে ফাঁকা রেখেছেন ইধিকা। এমনিতেই কম মেকআপ তাঁর পছন্দ। তিনি মনে করেন, মেকআপ যেন কখনও ব্যক্তিত্বকে ছাপিয়ে না যায়। খোলা চুলে হালকা কার্ল করে নিলেই সাজ সম্পূর্ণ। ছবি তুলতে যাওয়ার আগে আয়নার সামনে কয়েক সেকেন্ড দাঁড়ালেন নায়িকা। কিছু কি বাদ যাচ্ছে? মেকআপ, স্টাইলিংয়ের দায়িত্বে থাকা সহকর্মীদের দিকে একবার তাকালেন। সঙ্গে সঙ্গেই যেন এর অর্থ ধরে ফেললেন তাঁরা। ছোট্ট একটা টিপ কপালে পরতেই হেসে উঠলেন নায়িকা। ইধিকা মনে করেন, শাড়ি পরার সত্যিই কোনও বয়স নেই। যে কোনও বয়সের মহিলাই শাড়ি পরতে পারেন। শুধু ঠিকমতো ক্যারি করতে হবে। কখনও খোলা আঁচল, কখনও বা প্লিট করে স্টাইলিং করা যায়। আবার চেনা কায়দার বাইরে অন্য ভাবেও শাড়ি ড্রেপিং এখন ফ্যাশনে ট্রেন্ডিং। উৎসবের সময় বা কোনও বিশেষ অনুষ্ঠানে তিনিও শাড়ি বেছে নেন। সারাবছর নানা ধরনের পোশাক অভিনয়ের জন্য পরতেই হয়। তাই শাড়ির সাজ সবসময়ই আলাদা লুক তৈরি করে বলে তাঁর বিশ্বাস। দীর্ঘদিন ভালো রাখার জন্য এই ধরনের শাড়ি ড্রাই ওয়াশ করা উচিত। একবার পরার পর ঘাম শুকিয়ে তবে আলমারিতে তুলবেন। কড়া রোদ্দুরে না রেখে হাওয়া চলাচল করে এমন জায়গায় শাড়ি মেলে রাখুন। কেমন ভাঁজে রাখছেন, সেটাও শাড়ি ভালো থাকার অন্যতম শর্ত। প্রয়োজনে কোন শাড়ির কেমন ভাঁজ হওয়া আদর্শ তা বিশেষজ্ঞের কাছে জেনে নিন।
গরমে যেমন সুতির শাড়ির চাহিদা বেশি থাকে। তেমনই সিল্কের চাহিদা থাকে শীতের সময়। সিল্ক এবং তসরের শাড়ি সারাবছর আলমারি বন্দি থাকলেও শীতের নানা অনুষ্ঠানে পরেন বাঙালিরা। মা, ঠাকুরমার যত্নে রাখা শাড়ি বংশপরম্পরায় হাতবদল হয়। শাড়ির সঙ্গে জড়িয়ে থাকে নানা গল্পও। মায়ায় জড়ানো বুনন তৈরি করে স্মৃতি। ভালোবাসায় জড়িয়ে রাখতে শাড়ির জুড়ি মেলা ভার।
স্বরলিপি ভট্টাচার্য