


নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: নগরোন্নয়নের লক্ষ্যে এবার সাংসদ ও বিধায়ক তহবিলের অর্থ বেশি করে ব্যবহারের সিদ্ধান্ত নিল রাজ্য। এর জন্য পুর ও নগরোন্নয়ন দপ্তরের বিশেষ আধিকারিককে নিযুক্ত করা হয়েছে বলে খবর। আগে অসংগঠিতভাবে হলেও এবার একেবারে ‘মিশন মোড’-এ এই কাজে নামছে রাজ্য। তবে এক্ষেত্রে পুরসভাগুলির কোষাগারে রাজস্ব আসবে, এমন প্রকল্পই হাতে নেওয়া হবে বলে সিদ্ধান্ত হয়েছে।
পুরভোটের ঢাকে কাঠি পড়ে গিয়েছে। পুজোর পরেই কলকাতা, হাওড়া, বালিসহ সাত পুরসভার নির্বাচন। জানুয়ারিতে আরো পাঁচ থেকে ছ’টি পুরসভার ভোট হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। এছাড়া বাকি সমস্ত পুরসভার ভোট হবে মার্চ-এপ্রিলে। এই পরিস্থিতিতে পুর পরিষেবা জোরদার করতে মাঠে নেমে পড়েছে রাজ্য সরকার। কাজের তালিকা তৈরি করে আগামী ২ মাসের টার্গেট বেঁধে দেওয়া হচ্ছে। একই সঙ্গে এই সময়কালে প্রকল্পের কাজ শেষের লক্ষ্যে নিযুক্ত করা হচ্ছে পুর ও নগরোন্নয়ন দপ্তরের সংশ্লিষ্ট আধিকারিকদের। এক্ষেত্রে রাজ্য বা কেন্দ্রীয় বরাদ্দের প্রকল্প ছাড়াও সাংসদ-বিধায়ক তহবিলের টাকা ব্যবহারে জোর দেওয়া হচ্ছে। সাংসদ-বিধায়ক, সংশ্লিষ্ট পুরসভা, জেলাশাসক এবং পুর দপ্তরের সমন্বয়ে প্রকল্প গৃহীত হবে। প্রতিদিন বাড়ছে ব্যাটারি চালিত গাড়ির সংখ্যা। ব্যাটারি চালিত দু’চাকা কিনছেন বহু মানুষ। তাই অত্যাধুনিক বাসস্টপ গড়ে সেখানে ইভি চার্জিং স্টেশন তৈরির পরিকল্পনা নেওয়া হচ্ছে। বাসস্টপ চত্বরে সাধারণত খুব বেশি জায়গা পাওয়া যায় না। তাই সেখানে মূলত দু’চাকা ইলেকট্রিক গাড়ি চার্জ দেওয়ার জায়গা করা হবে। আবার শহর এলাকায় পার্ক, ফুল এবং ফলের বাগান, জলাশয়ে মাছ ধরার ব্যবস্থা এখন হাতে গোনা। এই ধরনের পরিকাঠামো উন্নয়ন করা হবে। আসবে পুরসভার রাজস্বও। রাজ্যের এক আধিকারিক জানিয়েছেন, বিদেশে এই ধরনের পরিষেবা তো রয়েইছে। গুজরাতসহ দেশের অন্যান্য রাজ্যের শহর এলাকাতেও এই ধরনের পরিষেবা মেলে। এবার পশ্চিমবঙ্গের ১৪৮টি পুরসভাতেও এই উদ্যোগ নেওয়া হল।
শুক্রবার বসেছিল পুর ও নগরোন্নয়ন দপ্তরের অডিট কমিটির বৈঠক। সূত্রের খবর, সেই বৈঠকে কাটাছেঁড়া হয়েছে পুরসভার নিজস্ব আয় বা ‘ওন সোর্স রেভিনিউ’ নিয়ে। এই আয় একেবারে তলানিতে থাকায় কর্মীদের মাইনে দেওয়া থেকে শুরু করে নানা কাজের জন্য নির্ভর করতে হয় রাজ্যের আর্থিক সহায়তার উপর। বৈঠকে আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় উঠে এসেছে। ২০০৮ থেকে ২০২৬ সাল পর্যন্ত দেখা যাচ্ছে, বিভিন্ন অডিটোরিয়াম, কমিউনিটি সেন্টার, মার্কেট কমপ্লেক্সের মতো পরিকাঠামো থেকে যা আয় হয়, তার থেকে অনেক বেশি টাকা বেরিয়ে যাচ্ছে তার রক্ষণাবেক্ষণে। এই পরিস্থিতি থেকে কীভাবে বেরনো যায়, সেই পথ খুঁজছে রাজ্য।