


সংবাদদাতা, মানকর: সারাবছর কমবেশি পর্যটকদের ভিড় লেগেই থাকে কাঁকসার গড়জঙ্গলে। পুজোয় সেই ভিড় লক্ষাধিক ছাড়ায়। পর্যটকদের সুবিধার জন্য ও জঙ্গল পরিচ্ছন্ন রাখার বার্তা দিতে বুধবার জঙ্গল পরিষ্কারে নামল মলানদিঘি ফাঁড়ির পুলিশ ও শিবপুরের বিট অফিসার। এলাকার যুবকদের সঙ্গে নিয়ে সংরক্ষিত বনাঞ্চল পরিষ্কার করা হয়।
কাঁকসার গৌরাঙ্গপুর মৌজায়ার দেউলে ১৯৯২ সালে হরিণ ও ময়ূরের জন্য সংরক্ষণ কেন্দ্র গড়ে তোলা হয়। বর্ধমান ডিভিশনের দুর্গাপুর রেঞ্জের শিবপুর বিটের অন্তর্গত এই এলাকায় ১০০টিরও বেশি হরিণ রয়েছে। এছাড়া কয়েক বছর আগে এলাকায় পরীক্ষামূলক ভাবে কয়েকটি ময়ূর ছাড়া হয়েছিল। উপযুক্ত পরিবেশ পেয়ে ময়ূরের বংশবিস্তার ঘটেছে। তারা এখন আশেপাশের জঙ্গলেও ছড়িয়ে পড়েছে। বনদপ্তরের দাবি, আউশগ্রামের আদুরিয়া, হেদোগরিয়ায় ময়ূরের সংখ্যা অনেকটাই বৃদ্ধি পেয়েছে। তবে স্থানীয়দের একাংশের অভিযোগ, বাইরে থেকে যারা আসে, অনেকেই জঙ্গল পরিষ্কার রাখছে না। খাবারের প্যাকেট থেকে শুরু করে প্লাস্টিক ফেলে দিচ্ছে। তাতে পরিবেশের ভারসাম্য নষ্ট হয়ে বন্যপ্রাণের সমস্যা হচ্ছে। জঙ্গলে শুধু ময়ূর নয়, হেঁরোল, খরগোশ, বনবিড়াল, বনরুই সহ একাধিক প্রাণী দেখা যায়। পুজোয় মানুষের ভিড় বাড়ে। তাই কড়া নজরদারির দরকার।
এলাকার বাসিন্দা সুবোধ লাহা বলেন, নতুন রাস্তা হওয়ায় পর্যটকদের ভিড় অনেকটাই বেড়ে গিয়েছে। ছুটির দিনে এই সংরক্ষিত বন দেখতে ভিড় বেশি হচ্ছে। তাছাড়াও এখানে রয়েছে দেবী শ্যামরূপা। এই নামটি কবি জয়দেবের দেওয়া। অবিভক্ত বাংলার প্রথম দুর্গাপুজো এখানেই হয়। মন্দির থেকে প্রায় ছয় কিলোমিটার গেলেই পড়বে ইছাই ঘোষের দেউল। গোপ বংশের রাজা ইছাই ঘোষ এই দেউলটি নির্মাণ করেছিলেন। বর্তমানে দেউলটি ভারতীয় পুরাতত্ত্ব সর্বেক্ষণের অধীনে রয়েছে। তার ঠিক পাশেই এই সংরক্ষিত বনাঞ্চল। এদিন পুলিশ আধিকারিক চন্দন মিশ্র বলেন, জঙ্গলে প্রচুর প্লাস্টিক জমেছিল। বিট অফিসার ও স্থানীয় ক্লাবের ছেলেরা মিলে পরিষ্কার করেছে। জঙ্গলে প্লাস্টিক ফেলা অপরাধ। এবিষয়ে সচেতন হতে হবে। বিট অফিসার পিনাকি ভট্টাচার্য বলেন, প্লাস্টিক বর্জনের বার্তা দেওয়া হয়েছে। বন্যপ্রাণকে তার নিজের জায়গায় থাকতে দিন। পর্যটকরা জঙ্গলে এসে প্রকৃতিকে অনুভন করুক। পুজোর সময় বাড়তি নজরদারি থাকবে।
জঙ্গল পরিষ্কার হচ্ছে। -নিজস্ব চিত্র