


নিজস্ব প্রতিনিধি, তমলুক: শখের দু’লাখি বাইক কেনার পরদিনই বেপরোয়া গতির বলি হলেন দুই যুবক। মঙ্গলবার রাত সাড়ে ১০টা নাগাদ নন্দকুমার থানার বাবলপুরের কাছে ওই দুর্ঘটনা ঘটে। মৃতদের নাম শুভঙ্কর মণ্ডল(২৪) ও প্রবীর মণ্ডল(২২)। শুভঙ্করের বাড়ি ময়না থানার কিয়ারানা গ্রামে। প্রবীরের বাড়ি ওই থানার বলভদ্রচক গ্রামে। তমলুকের নিমতৌড়ি থেকে বেপরোয়া গতিতে ময়নার দিকে যাওয়ার সময় বাবলপুরের কাছে একটি বিদ্যুতের খুঁটিতে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ধাক্কা মারে নতুন বাইকটি। ঘটনাস্থলে দু’জনের মৃত্যু হয়। শুভঙ্কর ও প্রবীরদের সঙ্গে আরও একটি বাইকে দু’জন যুবক ছিলেন। দুর্ঘটনার পর তাঁরা পালানোর চেষ্টা করেন। এলাকার লোকজন তাঁদের আটক করে রাখেন। রাতেই দেহ ময়নাতদন্তের জন্য তমলুক মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে নিয়ে যাওয়া হয়।
জানা গিয়েছে, শুভঙ্কর পরিযায়ী শ্রমিক। গুজরাতে সেন্টারিংয়ের কাজ করতেন। পাঁচদিন আগে তিনি বাড়ি ফিরে আসেন। সোমবার দু’লক্ষ টাকা মূল্যের একটি বাইক কেনেন। মঙ্গলবার বিকাল সাড়ে ৫টা নাগাদ বাড়ি থেকে বের হন। তারপর পরিবারের লোকজন ফোন করেও খোঁজখবর পাচ্ছিলেন না। রাত সাড়ে ১১টা নাগাদ পরিবারের লোকজন একটি অচেনা নম্বর থেকে ফোন পান। জানানো হয়, শুভঙ্কর দুর্ঘটনার মুখে পড়েছেন।
জানা গিয়েছে, শুভঙ্করের নতুন বাইকে চেপেছিলেন বলভদ্রচক গ্রামের প্রবীর। ওই যুবক মালবাহী তিন চাকার গাড়ি চালাতেন। তাঁরা ওই বাইকে রাত সাড়ে ১০টা নাগাদ নিমতৌড়ির দিক থেকে ময়নার দিকে ফিরছিলেন। তাঁদের সঙ্গে আরও একটি বাইকে দুই যুবক ছিলেন। নিমতৌড়ি-শ্রীরামপুর রোডে বাবলপুরের কাছে দুর্ঘটনায় বাইকটি ভেঙে চুরমার হয়ে যায়। দু’জনে রাস্তা থেকে অনেকটা দূরে ছিটকে পড়েন। স্থানীয় বাসিন্দারা জড়ো হন। অন্য বাইকে থাকা দু’জন ভয়ে পালানোর চেষ্টা করেন। কিন্তু, এলাকার লোকজন তাঁদের আটকে রেখে মৃতদের ঠিকানা ও পরিচয় জানার চেষ্টা করেন। শুভঙ্করের কাকা শ্যামসুন্দর মণ্ডল বলেন, ভাইপো পাঁচদিন আগে ভিনরাজ্য থেকে বাড়ি ফিরেছে। সোমবার একটি নতুন বাইক কেনে। তারপর মঙ্গলবার সন্ধ্যার সময় বাড়ি থেকে বের হয়। রাত সাড়ে ১১টা নাগাদ দুর্ঘটনার খবর পাই। তারপরই আমরা তমলুকে যাই। দেখি, সব শেষ।
স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, মৃত শুভঙ্কর ও প্রবীর দু’জনেই বাবার একমাত্র সন্তান। দুর্ঘটনায় দুই তরতাজা যুবকের মৃত্যুতে এলাকায় শোকের ছায়া নেমেছে। নন্দকুমার থানার পুলিশ দুর্ঘটনাগ্রস্ত বাইকটি উদ্ধার করেছে। বুধবার তমলুক মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে দুই যুবকের দেহ ময়নাতদন্ত করা হয়। তারপর পরিবারের লোকজন দেহ নিয়ে বাড়ি ফিরে যান।