


নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: ভারতীয় ফুটবল মানেই ভাঁড়ে মা ভবানী। নুন আনতে পান্তা ফুরিয়ে যাওয়ার অবস্থা। সমালোচনায় বিদ্ধ সর্বভারতীয় ফুটবল সংস্থা। জিয়ন কাঠির ছোঁয়ায় সেই ফেডারেশনেই এবার বিপুল লগ্নির সম্ভাবনা। সব ঠিকঠাক চললে আগামী ২০ বছরে ভারতীয় ফুটবলে প্রায় ২১২৯ কোটি টাকা ইনভেস্ট করতে চলেছে বিদেশি সংস্থা। দীর্ঘমেয়াদি ২০ বছরের (১৫+৫) চুক্তিতে কমার্শিয়াল পার্টনার জোগাড় করতে দরপত্র আহ্বান করেছিল এআইএফএফ। শুক্রবার বিকেলে বিড ওপেন করা হয়। সর্বভারতীয় ফুটবল সংস্থার বিবৃতিতে জানা যাচ্ছে, আইএসএল ও ফেডারেশন কাপের জন্য দু’টি কোম্পানির দরপত্র জমা পড়েছে। জিনিয়াস ও ফ্যান কোড নিদিষ্ট শর্ত পূরণ করে বিড জমা দিয়েছে। পাশাপাশি, মহিলা ফুটবল চালাতে টেন্ডার জমা দিয়েছে ক্যাপ্রি নামক কর্পোরেট সংস্থা। আগামী ২৯ মার্চ ফেডারেশনের কার্যকরী সমিতির বৈঠকের পরেই কমার্শিয়াল পার্টনারের নাম ঘোষণা করা হবে। এবিষয়ে সর্বভারতীয় ফুটবল সংস্থার সভাপতি কল্যাণ চৌবের মন্তব্য, ‘গত কয়েক মাস নানাভাবে ফেডারেশনকে অপদস্থ করার চেষ্টা হয়েছে। মাননীয় আদালতের নির্দেশ মেনে নির্দিষ্ট পদ্ধতি অনুসরণ করে ফেডারেশন এগিয়েছে। কমার্শিয়াল পার্টনারের সমস্যা মেটানোর বিষয়ে আমরা আশাবাদী।’ নায়ক সিনেমায় টাকার পাহাড়ে নোটবৃষ্টির দৃশ্য বাঙালি হৃদয়ে অমলিন। ফেডারেশন কর্তারাও এবার কোষাগার ভরানোর আশায় রয়েছেন।
জিনিয়াস স্পোর্টস ক্রীড়া বিশ্বে পরিচিত নাম। এই বিদেশি কোম্পানি এনএফএলে প্রচুর অর্থ লগ্নি করেছে। কানাডা ফুটবল লিগ ও এনবিএতে’তেও অন্যতম কমার্শিয়াল পার্টনার তারা। ফেডারেশনের শর্ত মেনে ২০ বছরে ২১০০ কোটি টাকার উপর লগ্নি করতে রাজি তারা। তবে শোনা গিয়েছিল বেটিং কোম্পানির গন্ধ থাকায় তাদের টেন্ডার বাতিল হতে পারে। প্রসঙ্গক্রমে ফেডারেশনের কার্যকরী সচিব সত্যনারায়ণ জানান, ‘তেমন কোনও সম্ভাবনা নেই। নিয়মের গেরোয় কিছুই আটকাবে না।’ পাশাপাশি ফ্যান কোডও পরিচিত কোম্পানি। চলতি মরশুমে আইএসএলের অন্যতম সম্প্রচার সংস্থা তারাই। ফ্যান কোডও ভবিষ্যতে আরও লগ্নিতে ইচ্ছুক। কিন্তু নতুন কোম্পানি যুক্ত হলে এফএসডিএলের ভবিষ্যৎ ঠিক কী? দীর্ঘদিন ধরে ভারতীয় ফুটবলে টাকা ঢেলেছে রিলায়েন্স গোষ্ঠী। কিন্তু ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে ফেডারেশনের সঙ্গে তাদের চুক্তি শেষ হয়। তাদের শর্ত না মানায় চুক্তি নবীকরণ হয়নি। একটা সময় চলতি মরশুমে বল গড়ানোই ছিল অনিশ্চিত। শেষ পর্যন্ত সংক্ষিপ্ত ফরম্যাটে লিগ আয়োজিত হচ্ছে। অন্যদিকে, ফেডারেশনের সঙ্গে দর কষাকষির সুবিধার জন্য তৈরি হয় ক্লাব জোট। কান পাতলে শোনা যায় তাতে রিলায়েন্স ঘনিষ্ঠ ফ্র্যাঞ্চাইজি কর্তাদের ভিড়। আপাতত জল মাপছে ক্লাব জোট। নতুন রোডম্যাপে সেন্ট্রাল পুলের টাকা কীভাবে পাওয়া যাবে সেই অংকটা বুঝে নিতে চান তারা। তবে ফেডারেশনের মনোভাবে স্পষ্ট কোনও অনৈতিক দাবির কাছে মাথা নোয়াবে না সর্বভারতীয় ফুটবল সংস্থা।