


জাকার্তা, ১৭ আগস্ট: দুই দিনের ব্যবধান। ঠিক তারই মধ্যে সোমবার ফের শক্তিশালী ভূমিকম্পে কাঁপল ইন্দোনেশিয়ার ফ্লোরেস অঞ্চল। জার্মানির জিএফজেড রিসার্চ সেন্টার ফর জিওসায়েন্সেসের তথ্য অনুযায়ী, ভূমিকম্পটির রিখটার স্কেলে মাত্রা ছিল ৫.৯। ভূপৃষ্ঠ থেকে মাত্র ১০ কিলোমিটার গভীরে উৎসস্থলটি হওয়ায় কম্পনটি বেশ জোরালোভাবে অনুভূত হয়। পরপর ভয়াবহ ভূমিকম্পে আতঙ্ক ছড়িয়েছে এলাকায়।
শনিবার ফ্লোরেসে ৭.৭ মাত্রার শক্তিশালী ভূমিকম্পে বিধ্বস্ত হয়ে যায় গোটা এলাকা। এখনো পর্যন্ত অন্তত ৫৩ জনের মৃত্যু হয়েছে সেই ভূমিকম্পে। রবিবার উদ্ধারকারীরা আরো ৬টি মরদেহ উদ্ধার করেন। হাজার হাজার মানুষ এখনও ঘরছাড়া। পরপর ভূমিকম্প ও আফটারশকের আতঙ্কে অনেকেই বাড়িতে ফিরতে সাহস করছেন না; খোলা আকাশের নীচে বা অস্থায়ী আশ্রয়কেন্দ্রেই রাত কাটাচ্ছেন। জানা গিয়েছে প্রথমে, শনিবার স্থানীয় সময় সকাল ৬টার কিছু আগে মাত্র ১০ কিলোমিটার গভীরে ভূমিকম্পটি আঘাত হানে। এরপর থেকে প্রায় ৯৯৫টি আফটারশক রেকর্ড করা হয়েছে। এর মধ্যে ৪৬টি এতটাই শক্তিশালী ছিল যে স্থানীয় বাসিন্দারা সেগুলো অনুভব করতে পেরেছেন। ভূমিকম্পে পূর্ব নুসা তেংগারা প্রদেশে ৯০০টির বেশি বাড়ি পুরোপুরি ধ্বংস হয়ে গিয়েছে এবং আরও প্রায় ৪৫০টি বাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। প্রায় ৫ হাজার মানুষকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। আহত হয়েছেন অন্তত ১৩৫ জন। শুধু ফ্লোরেস অঞ্চলে ক্ষতিগ্রস্ত বাড়ির সংখ্যা ২৪১ এর বেশি বলে জানিয়েছে স্থানীয় প্রশাসন। ভূমিকম্পের পর সুনামির সতর্কতা জারি হওয়ায় আতঙ্কিত হয়ে বহু মানুষ ঘর ছেড়ে উঁচু ও নিরাপদ এলাকায় ছুটে যান। পরে সেই সতর্কতা তুলে নেওয়া হয়। তবে ধারাবাহিক আফটারশকের কারণে পরিস্থিতি এখনও স্বাভাবিক হয়নি।দুর্যোগকবলিত এলাকার মানুষের মধ্যে চাল, খাবার, পানীয় জল, কম্বল ও ওষুধ বিতরণ করা হচ্ছে। পাশাপাশি বিভিন্ন এলাকায় অস্থায়ী আশ্রয়কেন্দ্রও তৈরি করা হয়েছে।
প্রশান্ত মহাসাগরীয় ‘রিং অব ফায়ার’-এর ওপর অবস্থিত ইন্দোনেশিয়ায় ভূমিকম্প নতুন কোনো ঘটনা নয়। দেশটির ১৭ হাজারের বেশি দ্বীপের বিস্তীর্ণ অঞ্চল সক্রিয় ভূতাত্ত্বিক বলয়ের মধ্যে থাকায় সেখানে প্রায়ই ভূমিকম্প ও আগ্নেয়গিরির অগ্ন্যুৎপাত ঘটে। শনিবারের ভয়াবহ ভূমিকম্পের পর সোমবারের ৫.৯ মাত্রার কম্পন ফ্লোরেসের পরিস্থিতিকে আরও অনিশ্চিত করে তুলেছে। ধ্বংসস্তূপের নিচে এখনও কেউ আটকে আছেন কি না, তা জানতে উদ্ধারকারীরা অভিযান চালিয়ে যাচ্ছেন। একই সঙ্গে দুর্গম এলাকায় আটকে পড়া মানুষদের কাছে ত্রাণ পৌঁছে দিতে চলছে জোর তৎপরতা। পরিস্থিতি স্বাভাবিক হতে এখনও সময় লাগবে বলেই মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।