


সংবাদদাতা, বোলপুর: এক সপ্তাহও পেরোয়নি। ফের বিশ্বভারতীর পাঠভবনের আবাসিক পড়ুয়ার খাবারের থালায় মিলল পোকা! অভিযোগ, মঙ্গলবার রাতে এক পড়ুয়ার পাতে পোকা দেখা যায়। সেই ছবি ও বিষয়টি নিয়ে অভিভাবকদের হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপে শুরু হয় আলোচনা। পরে সেই চ্যাট ছড়িয়ে পড়ে সমাজ মাধ্যমেও। এই ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করেন আবাসিক পড়ুয়াদের অভিভাবকরা। তাঁরা সম্মিলিত ভাবে পাঠভবনের অধ্যক্ষের সঙ্গে দেখা করে বিষয়টি জানাবেন বলে জানা গিয়েছে। পরপর এমন ঘটায় উদ্বেগ বেড়েছে অভিভাবকদের মধ্যে। বিশ্বভারতীর ভারপ্রাপ্ত জনসংযোগ আধিকারিক অতিগ ঘোষ বলেন, এই অভিযোগ আমরা বেশ কয়েকবার পেয়েছি। তাই পাঠভবন হস্টেলের কিচেনে সিসিটিভি ক্যামেরা বসানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। খাবারের গুণমানও তদন্ত করে দেখা হবে। ছোটোদের খাবারের বিষয়ে কোনোরকম গাফিলতি বরদাস্ত করা হবে না। এছাড়াও খুব দ্রুত অভিভাবকদের নিয়ে বিশ্বভারতী কর্তৃপক্ষ আলোচনায় বসতে চলেছে বলেও জানা গিয়েছে।
প্রায় এক মাস আগে পাঠভবনেরই এক পড়ুয়ার খাবারে আরশোলা থাকার অভিযোগ উঠেছিল। তারপরে আবার দু’বার পোকা দেখা গেল! এছাড়াও খাবারে কেন্নো, অন্যান্য পোকামাকড় এবং প্লাস্টিকের টুকরো পাওয়ার অভিযোগও সামনে এসেছে। অভিভাবকদের অভিযোগ, আবাসিক পড়ুয়াদের খাবারের জন্য মাসে ৩২০০ টাকা দিতে হয়। এরপরও খাবারের মান নিয়ে বারবার প্রশ্ন উঠছে। তাঁদের বক্তব্য, খাবারে পোকামাকড় বা অবাঞ্ছিত বস্তু কীভাবে মিশছে, সেটা খতিয়ে দেখা প্রয়োজন।
বিশ্বভারতী সূত্রে খবর, বিশ্ববিদ্যালয়ের হস্টেলগুলির কিচেনে খাবারের গুণমান দেখার জন্য বিশেষ কমিটি রয়েছে। পাঠভবনের ক্ষেত্রেও পৃথক ভাবে নজরদারির ব্যবস্থা রয়েছে। কমিটির সদস্যরা সময়ে সময়ে রান্নাঘর পরিদর্শন করেন। খাবারের মান নিয়ে কোনো অভিযোগ থাকলে ছাত্র পরিচালকের দপ্তরে তা জানানো হয়। সম্প্রতি আম্রপল্লি ছাত্রীনিবাসের খাবার নিয়েও সমস্যা হয়েছিল। বিশ্ববিদ্যালয়ের দাবি, সেই সমস্যা মিটেছে। তবে পাঠভবনের খাবার নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই অভিযোগ রয়েছে। তাই এবার পাঠভবনের কিচেনে বিশেষ নজর দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে কর্তৃপক্ষ।
এদিকে শুধু খাবার নয়, পাঠভবনের শিক্ষার পরিবেশ, আবাসিক পড়ুয়াদের নিরাপত্তা, স্বাস্থ্য পরিষেবা, স্যানিটেশন, পরিচ্ছন্নতা, পানীয় জল, বায়ো-টয়লেট ও হস্টেলের সামগ্রিক পরিবেশ নিয়েও উদ্বেগ জানিয়েছেন অভিভাবকরা। সম্প্রতি প্রধানমন্ত্রী, রাষ্ট্রপতি, উচ্চশিক্ষা মন্ত্রক ও মুখ্যমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ চেয়ে ইমেল করেন তাঁরা।
চিঠির কপি দেওয়া হয়েছে বিশ্বভারতী কর্তৃপক্ষকেও। - নিজস্ব চিত্র