


মোহন বাগান- ২ : কেরল ব্লাস্টার্স: ০
(ম্যাকলারেন, আলড্রেড)
শিবাজী চক্রবর্তী, কলকাতা: মোহন বাগানই সৌম্যর ভ্যালেন্টাইন। অথচ ভালোবাসার সপ্তাহেই তাঁকে চিরতরে হারিয়েছিল ময়দান। ন’বছর আগে শিলিগুড়িতে সোনিদের ডার্বি জয়ের রেশ কাটেনি তখনও। ফেরার পথে ট্রেন দুর্ঘটনা কেড়ে নেয় মোহন বাগানী সৌম্যকে। উৎসবের মূর্চ্ছনায় বিষাদের সুর বাজে।
শৌর্য সরকার ওরফে রাজুলের জীবনের রং সবুজ-মেরুন। কচি গলায় গেয়ে উঠত মোহন বাগানের গান। নিষ্ঠুর র্যাগিং কেড়ে নিয়েছে রাজুলকেও। ছেলের মেরুন-সবুজ জার্সিতে হাত বুলিয়ে চোখ মোছেন রাজুলের বাবা- মা। ভ্যালেন্টাইনস ডে’র যুবভারতীতে হাতে হাত রেখে হাজির অসংখ্য তরুণ-তরুণী। এই মোহন বাগানই তো সৌম্য, রাজুলদের ভালোবাসা। আবহমান আবেগে প্রাণের স্পন্দন। ঘরের মাঠে কেরল ব্লাস্টার্সকে ২-০ গোলে হারিয়ে আইএসএল অভিযান শুরু করলেন রবসনরা। ঘাম ঝরানো ৩ পয়েন্ট বাড়তি অক্সিজেন জোগাবে পেত্রাতোসদের। তবে পেনিট্রেটিভ জোনে আরও ধার প্রয়োজন। দ্বিতীয়ার্ধে ফিটনেসের অভাবও নিশ্চয়ই লোবেরার নজর এড়ায়নি।
যাবতীয় জট কাটিয়ে আইএসএলের উদ্বোধন। মোহন বাগান ডাগ-আউটে সের্গিও লোবেরার অভিষেক। স্প্যানিশ কোচের দলকে নিয়ে কৌতূহল ছিলই। বিশেষ প্যাটার্নে দলকে খেলান লোবেরা। ৪-৪-২ ফর্মেশনে গেমমেকার কে? তা নিয়ে প্রশ্ন ছিলই। এই জায়গায় লোবেরা খেলাচ্ছেন পেত্রাতোসকে। মেদ ঝরানো দিমি অসম্ভব ওয়াকর্লোড নিলেন। মাঝমাঠে প্রচুর পাসও খেলল মোহন বাগান। ১৪ মিনিটে রবসনের শট কোনওরকমে রুখে দেন কেরল গোলরক্ষক শচীন। ৩৬ মিনিটে প্রত্যাশিত গোল পায় মোহন বাগান। এক্ষেত্রে ওভারল্যাপে আসা অভিষেকের পাস ধরে ম্যাকলারেনকে বাড়ান পেত্রাতোস। দুরন্ত টার্নিংয়ে আইবানকে ছিটকে দিয়ে জাল কাঁপান ম্যাচের সেরা অজি স্ট্রাইকার (১-০)। ম্যাচের সেরা মোহন বাগানের ম্যাকা বললেন, ‘এই ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে হবে।’
দ্বিতীয়ার্ধে বেশ ফ্যাকাসে লিস্টনরা। স্পার্ক হারিয়ে কোমরে হাত পড়ল রবসনের। প্লে-মেকারের অভাবে হাঁসফাঁস করল মাঝমাঠ। এই ঘাটতি না মেটালে সমস্যা বাড়বেই। গোল শোধের জন্য মরিয়া কেরল কোচ মাঠে নামালেন ফ্রান্সের কেভিনকে। নোয়া সাদিউয়ের পরিবর্তে তাঁকে নিয়েছে কেরল। ডানপ্রান্ত দিয়ে কেভিন ত্রাহি ত্রাহি রব তুললেন। অময় রানাওয়াডের কাঁপুনি বাড়তেই আর ঝুঁকি নেননি লোবেরা। টম আলড্রেডকে নামিয়ে শাটার বন্ধ করলেন তিনি। সংযোজিত সময়ে অনিরুদ্ধ থাপার ফ্রি-কিক থেকে দুরন্ত হেডে জাল কাঁপান আলড্রেড (২-০)। এতেই ঘাম দিয়ে জ্বর ছাড়ল। শেষদিকে পেশিতে চোট পেলেন রবসন। তা নিয়ে চিন্তায় ম্যানেজমেন্ট। এদিকে ঘরোয়া লিগের সব ম্যাচ নিজেদের মাঠে খেলবে মোহন বাগান। সভাপতি দেবাশিস দত্তের ঘোষণা, ‘ফ্লাডলাইটে সব ম্যাচ খেলা হবে।’
মোহন বাগান: বিশাল, অভিষেক, মেহতাব (আলড্রেড), আলবার্তো, শুভাশিস (অময়), আপুইয়া, অনিরুদ্ধ, লিস্টন (মনবীর), রবসন, পেত্রাতোস (সাহাল) ও ম্যাকলারেন (কামিংস)।