


গুয়াহাটি: কথায় বলে, পাখি, খরগোশ বা হরিণ মেরে কী লাভ? মারতে হলে বাঘ মার! মঙ্গলবার আইপিএলে ঠিক যেন সেই কাজটাই করে দেখাল বৈভব সূর্যবংশী। মুম্বই ইন্ডিয়ান্সের বিরুদ্ধে ওপেন করতে নেমে যশপ্রীত বুমরাহর প্রথম বলই গ্যালারিতে উড়িয়ে দেয় ১৫ বছরের বিরল প্রতিভা। এই মুহূর্তে বিশ্বের সেরা পেসার বুমবুমের মুখে বিস্ময়ের হাসি। স্তম্ভিত ক্রিকেট অনুরাগীরাও। এক মহাতারকার বিরুদ্ধে সদ্য তারকা হওয়ার দৌড় শুরু করা এক কিশোরের এমন দুঃসাহসী ব্যাটিং সত্যিই তাক লাগিয়ে দেওয়ার মত। শুরুতেই অসম লড়াই জিতে পাঁচ বারের আইপিএল জয়ী মুম্বইকে চাপে ফেলে দেয় বৈভব। ম্যাচ শেষেও ঘোর কাটছিল না সঙ্গী ওপেনার যশস্বী জায়সওয়ালের। তিনি প্রশংসায় ভরিয়ে দিলেন ওপেনিং পার্টনারকে। অথচ যশস্বী নিজে ৩২ বলে অপরাজিত ৭৭ রানের ঝোড়ো ইনিংস উপহার দিয়েছেন। নির্বাচিত হয়েছেন ম্যাচের সেরা। বৈভব ও তাঁর দুরন্ত ব্যাটিংয়ের সৌজন্যেই ১১ ওভারে ১৫০ তোলে রাজস্থান রয়্যালস।
গুয়াহাটির বর্ষাপাড়া স্টেডিয়ামে যথার্থ অর্থেই ছক্কার বৃষ্টি বইয়েছে গোলাপি বাহিনীর দুই ওপেনার। ১৪ বলে ৩৯ করার পথে একটি চারের পাশাপাশি ৫টি বিশাল ছয় মারে বৈভব। তার মধ্যে বুমরাহর বলেই দু’টি। এমন দৃশ্যের বিবরণ দিতে গিয়ে রীতিমতো রোমাঞ্চিত দেখাচ্ছিল ১০টি চার ও ৪টি ছক্কা হাঁকানো যশস্বীকে। তিনি বলেন, ‘মাঠে নামার সময় ওকে বলেছিলাম, স্বভাবসিদ্ধ ক্রিকেট খেলতে। তবে প্রথম বলই যে উড়িয়ে দেবে ভাবিনি। তাও আবার বুমরাহ ভাইকে! তবে এতে ভালোই হয়েছে। বুমরাহ ভাই মুম্বইয়ের সেরা বোলার। ওকে চাপে ফেলে দিতেই বাকিরা ঘাবড়ে যায়। এর গোটা কৃতিত্ব বৈভবের।’ একটু থেমে তিনি যোগ করেন, ‘বৈভব এমন অবলীলায় চার-ছক্কা মারছিল যে, উলটো দিকে দাঁড়িয়ে আমি বিস্মিত হয়ে পড়ছিলাম। ওর বিধ্বংসী ব্যাটিংই আমার কাজ সহজ করে দেয়।’