


নিজস্ব প্রতিনিধি, জলপাইগুড়ি: আজ, বৃহস্পতিবার জলপাইগুড়ি পুরসভার বোর্ড ভেঙে দিল রাজ্য সরকার। সদর মহকুমা শাসককে পুরসভার প্রশাসক হিসাবে নিযুক্ত করা হল। বোর্ড ভেঙে দেওয়ার কারণ হিসেবে রাজ্য সরকারের দেওয়া চিঠিতে বলা হয়েছে গত ১৯ আগস্ট পশ্চিমবঙ্গ পৌর আইন, ১৯৯৩-এর ধারা ৪৩০(১) অনুযায়ী জলপাইগুড়ি পুরসভার স্বাভাবিক প্রশাসনিক কাজকর্ম চালু করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। সেই নির্দেশ পাওয়ার পর ৫ দিন পেরিয়ে গেলেও পুরসভার স্বাভাবিক কাজকর্ম পুনরুদ্ধার হয়েছে এমন কোনও তথ্য রাজ্য সরকারের কাছে পৌঁছায়নি।
এরপর ১৫ জন কাউন্সিলর ২২ আগস্ট একটি যৌথ চিঠি দিলেও সেটি পুরসভার বোর্ড মিটিংয়ে অনুমোদিত হয়নি। তাই সেটিকে সব কাউন্সিলরের সম্মিলিত মতামত হিসেবে গ্রহণ করা হয়নি। গত ১৭ আগস্ট থেকে পেনশনভোগী, সাফাইকর্মী এবং দৈনিক মজুরি বা ক্যাজুয়াল কর্মীদের আন্দোলন চলতে থাকায় পুরসভার কাজকর্ম ব্যাপকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। আন্দোলনকারীদের বাধার কারণে ১৯ আগস্ট থেকে পুরসভার এগজিকিউটিভ অফিসারও অফিসে ঢুকতে পারেননি। অন্যান্য আধিকারিককেও কাজে যোগ দিতে বাধা দেওয়া হয়েছে। পরিস্থিতি শুধু প্রশাসনিক অচলাবস্থায় সীমাবদ্ধ নেই। পুরসভার পরিষেবা প্রদানও বাস্তবে ব্যাহত হয়েছে। এর ফলে জল সরবরাহ, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা ও দৈনিক আবর্জনা সংগ্রহ ব্যাহত হয়েছে। পাশাপাশি জন্ম-মৃত্যু নিবন্ধন, বিভিন্ন সার্টিফিকেট প্রদান, অন্নপূর্ণা যোজনা এবং আয়ুষ্মান ভারত-এর মতো পরিষেবাতেও প্রভাব পড়েছে। রাজ্য সরকারের বক্তব্য অনুযায়ী, জলপাইগুড়ি পুরসভার অচলাবস্থা এখন সাধারণ নাগরিক পরিষেবা ও সরকারি প্রকল্প বাস্তবায়নকে সরাসরি প্রভাবিত করছে।