


নিজস্ব প্রতিনিধি, মেদিনীপুর: উন্নয়নের সুবিধা যাতে সরাসরি পৌঁছে যায় প্রান্তিক মানুষের দোরগোড়ায় সেই লক্ষ্য সামনে রেখেই পশ্চিম মেদিনীপুর জেলায় শুরু হল ‘জন ভাগিদারী অভিযান’। প্রথম পর্যায়ে জেলার ৭১ হাজারেরও বেশি পরিবার এই কর্মসূচির আওতায় আসবেন বলে প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে। ফলস্বরূপ উপকৃত হবেন প্রায় ৩ লাখ মানুষ। জেলার ২১টি ব্লকের মধ্যে ১৬টির ৩৮৬টি তফসিলি উপজাতি অধ্যুষিত গ্রামে এই বিশেষ কর্মসূচি হবে। আগামী ২৫ মে পর্যন্ত চলবে অভিযান। সোমবার মেদিনীপুর সদর বিডিও অফিস প্রাঙ্গণে আনুষ্ঠানিকভাবে এই কর্মসূচির সূচনা হয়। এদিনের অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন জেলাশাসক বিজিন কৃষ্ণা, মেদিনীপুরের বিধায়ক শঙ্কর গুছাইত সহ প্রশাসনের একাধিক উচ্চপদস্থ আধিকারিক। কর্মসূচির উদ্বোধনের পর থেকেই বিভিন্ন স্তরে এই উদ্যোগকে ঘিরে ব্যাপক আগ্রহ তৈরি হয়েছে। প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে, মূলত প্রত্যন্ত এলাকার সাধারণ মানুষ যাতে বিভিন্ন সমাজকল্যাণমূলক প্রকল্পের সুবিধা সরাসরি পান, তা নিশ্চিত করতেই এই কর্মসূচি নেওয়া হয়েছে। এটি দেশের প্রধানমন্ত্রীর একটি ফ্ল্যাগশিপ প্রকল্প বলেও জানা গিয়েছে।
জঙ্গলমহল অধ্যুষিত পশ্চিম মেদিনীপুর জেলায় প্রায় ৩৭ লক্ষ মানুষের বাস। অতীতে তৃণমূল জমানায় জনপ্রতিনিধিদের গাফিলতির জেরে বহু এলাকায় আবাস প্রকল্পের বাড়ি না পাওয়া, পানীয় জলের সমস্যা কিংবা পাইপলাইন বসানো হলেও জল না পৌঁছনোর মতো অভিযোগ রয়েছে। নতুন প্রশাসনিক উদ্যোগের মাধ্যমে এই সমস্যাগুলির সমাধানের চেষ্টা হচ্ছে। প্রশাসনের তরফে জানানো হয়েছে, মেদিনীপুর সদর ব্লকের ধেড়ুয়ায় ১৯ মে, চাঁদড়ায় ২০ মে, মণিদহে ২১ মে, কঙ্কাবতীতে ২২ মে এবং শিরমণিতে ২৩ মে এই কর্মসূচি হবে। বিভিন্ন এলাকায় গিয়ে সরকারি আধিকারিকরা সাধারণ মানুষের সঙ্গে কথা বলবেন এবং তাঁদের সমস্যার কথা শুনবেন। প্রশাসনের এক আধিকারিক জানান, প্রথম পর্যায়ে তফসিলি উপজাতি অধ্যুষিত এলাকায় এই কর্মসূচি পরিচালিত হলেও পরবর্তীতে জেলার অন্যান্য অংশেও তা বিস্তৃত হবে। কেন্দ্রের বিভিন্ন প্রকল্পের সুবিধা থেকে যাতে কোনো মানুষ বঞ্চিত না হন, সে বিষয়ে বিশেষ নজর দেওয়ার নির্দেশ রয়েছে।জেলাশাসক বিজিন কৃষ্ণা বলেন, মানুষের বিভিন্ন সমস্যার কথা মাথায় রেখেই সরকার নানা প্রকল্প চালু করেছে। সেই প্রকল্পগুলির সুবিধা যাতে প্রকৃত উপভোক্তাদের কাছে পৌঁছায়, তা নিশ্চিত করা হবে। বিশেষ করে পানীয় জল ও আবাসের সুবিধা নিয়ে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।মেদিনীপুরের বিধায়ক শংকর গুছাইত বলেন, ভোট প্রচারের সময় বিভিন্ন এসটি অধ্যুষিত এলাকায় গিয়েছিলাম। সেখানে বহু মানুষ বিভিন্ন সরকারি সুবিধা থেকে বঞ্চিত রয়েছেন। তাঁদের সমস্যা দূর করতেই এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। -নিজস্ব চিত্র