


নিজস্ব প্রতিনিধি, তমলুক: ভোটের আগে নন্দীগ্রামে দলবদলের টক্করে নেমেছে তৃণমূল ও বিজেপি। কেউ ঘাসফুল ছেড়ে পদ্মে যাচ্ছে তো একদল পদ্ম ছেড়ে যোগ দিচ্ছে ঘাসফুলে। ২০১১ সালে রাজ্যে পালাবদলের সূতিকাগার ছিল এই নন্দীগ্রাম। ২০২৬ সালে সেই নন্দীগ্রামে ঘাসফুল ও পদ্মফুল কেউ কাউকে এক ইঞ্চি জমি ছাড়তে নারাজ। যে কারণে, গত ১৫ দিনে এখানে প্রায় ১২ বার ঝান্ডা বদলের ঘটনা ঘটেছে। তৃণমূল থেকে বিজেপি এবং বিজেপি ছেড়ে তৃণমূলে যাওয়ার লড়াই জমে ওঠেছে। রবিবার ভোটের নির্ঘণ্ট প্রকাশের দিনেও দলবদলের সাক্ষী থাকল নন্দীগ্রাম। ২০২১ সালের মতো এবারও রাজ্য রাজনীতির নজরকাড়া কেন্দ্র হতে চলেছে নন্দীগ্রাম। ভোটের প্রাক্কালে দল বদলের লড়াই তারই পূর্বাভাস বলে মনে করছে রাজনৈতিক মহল।
গত ৬ মার্চ নন্দীগ্রাম-২ পঞ্চায়েত সমিতির বিজেপির সদস্য মধুশ্রী দাস মাইতি তৃণমূল কংগ্রেসে যোগ দেন। তমলুকে জেলা তৃণমূল সভাপতি সুজিত রায়, হলদিয়ার বিধায়ক তাপসী মণ্ডল প্রমুখ পতাকা তুলে দেন। রবিবার তার পাল্টা হিসেবে নন্দীগ্রাম-২ পঞ্চায়েত সমিতির তৃণমূলের সদস্য শর্মিষ্ঠা বেরা মাইতিকে দলে টেনে নিল বিজেপি। এদিন হরিপুরে শর্মিষ্ঠাদেবী তৃণমূল ছেড়ে বিজেপিতে যোগ দেন। একইদিনে বিজেপিতে যোগ দিলেন সোনাচূড়া গ্রাম পঞ্চায়েতের তৃণমূলের সদস্য সমরেশ মণ্ডল।
শনিবার রাতে নন্দীগ্রাম-১ ব্লকের ভেকুটিয়া গ্রাম পঞ্চায়েতের অধীন আমতলা বুথ থেকে এবিভিপি সংগঠনের সক্রিয় কর্মী প্রসেনজিৎ জানা তৃণমূলে যোগ দেন। হলদিয়ার বিধায়ক তাপসী মণ্ডল তাঁর হাতে দলীয় পতাকা তুলে দেন। আমতলা বুথে তৃণমূলের সংগঠন দুর্বল। প্রসেনজিতের বদলবদলে ওই বুথে বিজেপিকে মোকাবিলা করা সহজ বলে ভেকুটিয়া অঞ্চল তৃণমূল সভাপতি রাখহরি ঘড়ার দাবি।
গত ৭ মার্চ নন্দীগ্রাম-২ ব্লকের ঘোলপুকুরিয়ায় বিজেপির বুথ সহ সভাপতি রবীন্দ্রনাথ প্রামাণিক তৃণমূলে যোগ দেন। দলের জেলা সভাপতি সুজিত রায় তাঁর হাতে পতাকা তুলে দেন। ৭২ ঘণ্টা পর সেই রবীন্দ্রনাথ আবার তৃণমূল ছেড়ে বিজেপির পতাকা ধরেন। ১৩ মার্চ নন্দীগ্রাম-১ ব্লকের সামসাবাদে বিজেপি ও সিপিএম থেকে বেশ কয়েকজন নেতাকর্মী তৃণমূল কংগ্রেসে যোগ দেন। সিপিএমের নন্দীগ্রাম-১ পঞ্চায়েত সমিতির প্রাক্তন সভাপতি নিখিল বেরার ছেলে বাপ্পাদিত্য বেরা তৃণমূল কংগ্রেসে যোগ দেন। এছাড়াও সামসাবাদ ২০৯ নম্বর বুথের বিজেপির সক্রিয় কর্মী রাজু মহাপাত্র, রাকেশ মহাপাত্র, যুগল দেবনাথ, শ্রীকান্ত দেবনাথ প্রমুখ তৃণমূলে যোগ দেন। রাজুবাবু বলেন, ২০২১ সালে আমরা অক্লান্ত পরিশ্রম করে বিজেপিকে জয়ী করেছি। তারপর দল আমাদের আপদে বিপদে খোঁজ নেয়নি। আমি হলদিয়ার একটি কোম্পানিতে কাজ করতাম। ছ’ মাস আগে দুর্ঘটনায় পা ভেঙে যায়। তারপর দল খোঁজ রাখেনি। মুখ্যমন্ত্রীর স্বাস্থ্যসাথী কার্ডে অপারেশন করিয়েছি। পায়ের ভিতর রড ঢোকানো আছে। এখন টোটো চালিয়ে দিন গুজরান করি।
গত ৮ মার্চ ভেকুটিয়া গ্রাম পঞ্চায়েতের আমতলা বুথের বিজেপির ১২ জন কর্মী তৃণমূল কংগ্রেসে যোগ দেন। কাণ্ডপসরায় অঞ্চল তৃণমূলের কার্যালয়ে জেলা সভাপতি সুজিতবাবু তাঁদের হাতে দলীয় পতাকা তুলে দেন। এছাড়াও গত ২০ ফেব্রুয়ারি কালীচরণপুর গ্রাম পঞ্চায়েতের বিজেপির নির্বাচিত সদস্য তনুশ্রী দাস ও তাঁর স্বামী কালীপদ দাস তৃণমূল কংগ্রেসে যোগ দেন। কালীপদবাবু বিজেপির বুথ সভাপতি ছিলেন। তাঁর স্ত্রী তফসিলি সংরক্ষিত আসন থেকে পঞ্চায়েতে জয়ী হয়েছিলেন। তৃণমূল তাঁকে কালীচরণপুর গ্রাম পঞ্চায়েত প্রধান করার জন্য বর্তমানে বিজেপির প্রধানের বিরুদ্ধে অনাস্থাও এনেছে।
তৃণমূল কংগ্রেসের জেলা সভাপতি সুজিত রায় বলেন, গত পাঁচ বছরে বিজেপির বিধায়ক নন্দীগ্রামে উন্নয়নমূলক কোনো কাজ করেননি। তিনি ব্যর্থ হয়েছেন। তাই এবার নন্দীগ্রামে বিজেপিকে হারাতে মানুষ জোট বেঁধেছেন।
বিজেপির জেলা সাধারণ সম্পাদক মেঘনাদ পাল বলেন, শাসকদলের চুরি, কাটমানি ও দুর্নীতির বিরুদ্ধে মানুষ এককাট্টা। গোটা রাজ্যে পরিবর্তন হচ্ছেই। নন্দীগ্রাম সেই পরিবর্তনের পথ দেখাবে।