


প্রীতেশ বসু, কলকাতা: দীর্ঘ লড়াইয়ের অবসান হল। ঝাড়খণ্ড সরকারের অধীনস্থ তেনুঘাট আসছে কেন্দ্রীয় কমিটির নিয়ন্ত্রণে। এতদিন শুধুমাত্র ডিভিসির অধীনস্থ জলাধার থেকেই জল ছাড়ার বিষয়টি নিয়ন্ত্রণ করত দামোদর ভ্যালি রিজার্ভার রেগুলেশন কমিটি (ডিভিআরআরসি)। তেনুঘাট তাদের নিয়ন্ত্রণে না-থাকায়, ঝাড়খণ্ড জল ছাড়ত নিজের মতো করে। সেই জলে ভাসত বাংলা। কারণ, তেনুঘাট ভারী মাত্রায় জল ছাড়লে, দামোদরের নিম্ন অববাহিকায় অবস্থিত পাঞ্চেতে সেই জল ধরে রাখা কার্যত অসম্ভব হয়ে পড়ে। ফলে জল ছাড়তেই হয় পাঞ্চেত থেকে। আর বন্যায় ভাসে হাওড়া, হুগলিসহ দক্ষিণবঙ্গের একাধিক জেলা। এবার আর ঝাড়খণ্ড নিজের ইচ্ছামতো জল ছাড়তে পারবে না। কারণ, ডিভিসির জলাধারের মতোই তেনুঘাট থেকে জল ছাড়ার নিয়ন্ত্রণ পাবে ডিভিআরআরসি। এই কমিটির মাথায় রয়েছে জলশক্তি মন্ত্রকের অধীনস্থ সেন্ট্রাল ওয়াটার কমিশন। এর সদস্য রয়েছেন ডিভিসি এবং পশ্চিমবঙ্গ ও ঝাড়খণ্ড সরকারের প্রতিনিধিরা। তেনুঘাট থেকেও জল ছাড়ার বিষয়টি এবার থেকে তাঁদের মিলিত আলোচনায় গৃহীত সিদ্ধান্তের উপর নির্ভর করবে। সূত্রের খবর, গত ২৪ এবং ২৫ জুলাই দিল্লিতে সেন্ট্রাল ওয়াটার কমিশন, ডিভিসি এবং দুই রাজ্যের প্রতিনিধিদের নিয়ে এই বিষয়ে উচ্চপর্যায়ের এক বৈঠক হয়। নেতৃত্বে ছিলেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রসচিব গোবিন্দ মোহন। বিষয়টি চূড়ান্ত হয়েছে সেখানেই। এবার শুধু সরকারিভাবে ঘোষণার পালা। প্রসঙ্গত, কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রকের অধীনে অনুষ্ঠিত পূর্বাঞ্চলীয় পরিষদের প্রতিটি বৈঠকে বিষয়টি নিয়ে দীর্ঘ আলোচনা হয়। বিষয়টি কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ স্বয়ং তদারকি করছেন বলেও জানা গিয়েছে।
একইসঙ্গে, দীর্ঘদিনের লড়াইয়ের অবসান ঘটিয়ে তাদের অধীনস্থ মাইথন এবং পাঞ্চেত সহ প্রতিটি জলাধার পলিমুক্ত করার উদ্যোগ নিল ডিভিসি। ১৯৫০ সালের তুলনায় ডিভিসির অধীনস্থ পাঞ্চেত, মাইথন, কোনার এবং তিলাইয়া বাঁধের জলধারণ ক্ষমতা কমেছে—কোনোটিতে ২৬.৬ শতাংশ আবার কোনোটিতে ৩৪ শতাংশ। এর মূল কারণই হল পলি। বিভিন্ন মহল পলি সরানোর দাবি জানাচ্ছিল দীর্ঘদিন ধরেই। তবে এই কাজের জন্য যে অর্থ প্রয়োজন তাতে নতুন একটি বাঁধ তৈরি করা সম্ভব। তাই সিদ্ধান্ত গ্রহণটি ছিল বড়ো চ্যালেঞ্জের ব্যাপার। বিশেষজ্ঞ সংস্থা নিয়োগ করতে ১৫ আগস্টের মধ্যে দরপত্র ডাকা হবে। বরাত পাওয়া সংস্থাই পলি বা বালি তুলে বেচতেও পারবে। তাতে রাজস্ব ঢুকবে সরকারের কোষাগারে। অন্যদিকে, দামোদর নিম্ন অববাহিকার জলধারণ ক্ষমতা বৃদ্ধিরও উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। নয়া প্রকল্পে পলি তোলার সঙ্গে পাড় বাঁধানোর কাজটিও হবে। চিন্তাভাবনা এমনই।