


রবীন রায়, আলিপুরদুয়ার: ১৬ সেপ্টেম্বর জঙ্গল খুলছে। নয়া পর্যটন মরশুমে ডুয়ার্সে ঠাসা বুকিংয়ে তাই খুশি পর্যটন ব্যবসায়ীরা। তবে জিপসি সাফারির জন্য অনলাইন বুকিং চালু হলে আরও পর্যটকের ঢল নামবে বলে মনে করছে ডুয়ার্সের পর্যটন ব্যবসায়ীরা। বনমন্ত্রী মনোজকুমার ওরাওঁ অবশ্য বলেন, আপাতত আগের নিয়মেই জিপসি সাফারির বুকিং চলবে। রাজ্য সরকার নির্দেশ দিলে জিপসি সাফারিতে অনলাইন বুকিং চালু হবে।
এদিকে, বৃহস্পতিবার থেকে জলদাপাড়া জাতীয় উদ্যানের জঙ্গলে প্রশিক্ষিত কুকুর দিয়ে নজরদারি চালানো শুরু করেছে বনদপ্তর। কিন্তু, নয়া পর্যটন মরশুমে কেন ডুয়ার্সে বুকিংয়ের হিড়িক? পর্যটন মহলের ধারণা নেপালে হড়পা বানে ধসের জেরে মানুষ কিছুটা ভীত। আর তার জেরেই আসন্ন নয়া পর্যটন মরশুমে পর্যটকদের একটা অংশ এবার অনেকেই ডুয়ার্সমুখী। তারই জেরে ডুয়ার্সে ঠাসা বুকিং।
ডুয়ার্সের হোটেল, রিসর্ট, লজ ও হোমস্টেগুলিতে বুকিংয়ের হিড়িক পড়েছে। গোরুমারা, বক্সা ও জলদাপাড়া রাজ্যের এই তিন জঙ্গলে জিপসি ও হাতি সাফারি হয়। চিলাপাতা জিপসি ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের সম্পাদক বিমল রাভা বলেন, আমার লজে পুজো পর্যন্ত হাউসফুল। ভালো লাগছে। তবে রাজ্য সরকার জিপসি সাফারির বুকিং অফলাইনের বদলে অনলাইন করে দিলে পর্যটকদের সুবিধা হত।
ডুয়ার্স ট্যুরিজম ডেভেলপমেন্ট ওয়েলফেয়ার সোসাইটির সভাপতি পার্থসারথি রায়ের কথায়, জঙ্গল খোলার আগেই ডুয়ার্সে বুকিং সন্তোষজনক। ধস, হড়পা বানের জেরে জেরবার পাহাড়ের একাংশ। সেই কারণে পর্যটকরা এবার ডুয়ার্সমুখী হচ্ছেন। বুকিং বেড়ে যাওয়ায় আমরা খুশি।
অন্যদিকে, ইস্টার্ন ডুয়ার্স ট্যুরিজম ডেভেলপমেন্ট অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক বিশ্বজিৎ সাহা বলেন, পুজোয় জঙ্গল ভ্রমণে ডুয়ার্সে বুকিং বাড়ছে। এটা ভালো লক্ষণ। ডুয়ার্সে এসে জঙ্গল সাফারির অভিজ্ঞতা কমবেশি সকলেই করতে চান। আমরা আশা করছি, রাজ্য সরকর জিপসি সাফারিতে দ্রুত অনলাইন বুকিং চালু করবে। এই পরিষেবায় অনলাইন বুকিং চালু হলে পর্যটকের সংখ্যা আরও বাড়বে। বনমন্ত্রী বলেন, আপাতত জিপসি সাফারির বুকি আগের মতোই চলবে। রাজ্য নির্দেশ দিলে তখন অনলাইন জিপসি সাফারির ব্যাপারে আমরা প্রচার করব।