


সংবাদদাতা, বহরমপুর: বৈশাখের প্রচণ্ড দাবদাহে জেলাজুড়ে পাটের চারা খটখটে জমিতে ধুঁকছিল। কার্যত চারাগাছ নেতিয়ে পড়েছিল। চাষিদের কপালে চিন্তার ভাঁজ। তবে রবিবারের বৃষ্টির ছোঁয়া পেতেই পাটের চারা সতেজ হয়ে ওঠে। পাট চাষিদের মুখে হাসি ফিরেছে। বৃষ্টিতে মাটি ভিজতেই সোমবার সকাল থেকে পাটের জমির আগাছা তুলতে চাষিরা কার্যত ঝাঁপিয়ে পড়েন। মুর্শিদাবাদের বহরমপুর, হরিহরপাড়া, নওদা, দৌলতাবাদ, ইসলামপুর সহ এলাকার চাষিরা বেজায় খুশি। তাঁদের দাবি, রবিবারের বৃষ্টিতে মাথা থেকে চিন্তার বোঝা নামল। সোমবারের মেঘলা আকাশ পাটের চাষে এনেছে উৎসাহে জোয়ার।
মুর্শিদাবাদ জেলার রাঢ় অঞ্চলের কিছু অংশ ও বাগরি অঞ্চলের বিস্তীর্ণ এলাকায় পাটের চাষ হয়। বাগরির চাষিদের কাছে পাট প্রধান অর্থকরী ফসল। জেলা কৃষি দপ্তর সূত্রে খবর, মুর্শিদাবাদে ১ লক্ষ ১৬ হাজার হেক্টর জমিতে পাট চাষ হয়। পাট চাষিদের কাছে জলসেচ অন্যতম প্রতিবন্ধকতা। অধিকাংশ চাষিরা বৃষ্টির দিকেই তাকিয়ে থাকেন। রাজধরপাড়া এলাকার পাট চাষি নিজাম মণ্ডল বলেন, গত বছর পাট চাষে কোনো চিন্তা করতে হয়নি। নির্দিষ্ট সময় অন্তর বৃষ্টি হওয়ায় সেচের ঝামেলা ছিল না। এমনকী, পাট পচানোর জন্য জলের অভাবও হয়নি। এবার পাট চাষের শুরু থেকেই সূর্যের তাপ লাফিয়ে লাফিয়ে বেড়েছে। বৈশাখের দ্বিতীয় সপ্তাহ থেকেই তাপমাত্রা ৪০ ডিগ্রি ছাড়িয়েছিল। রবিবারের এক পশলা বৃষ্টিতে তাপমাত্রার পারদ অনেকটাই নিচে নামায় স্বস্তি ফিরেছে।
সোমবার সকালে কুমড়দহ এলাকায় পাটের জমিতে নিরান দিচ্ছিলেন বাবর বিশ্বাস। তিনি বলেন, রবিবার আবহাওয়া না বদলালে গাছ বাঁচানো অসম্ভব হয়ে পড়ত। তাকিয়ে দেখুন এক রাতেই পাটের চারা সতেজ হয়েছে। বাবর সাহেবের দাবি, হাল্কা বৃষ্টির জলে নরম জমিতে নিরান দেওয়া সহজ। মজুরিও সাশ্রয় হয়। কুমড়দহ ঘাট থেকে একটু দূরে রারুইপাড়া এলাকায় রাজ্য সড়কের দু’পাশের জমিতে পাটের চাষ হয়। এখন প্রত্যেক জমিতে চাষিরা আগাছা তুলতে ব্যস্ত। পাট চাষি কাবিল শেখ বলেন, আজও বৃষ্টি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। জমিতে জল দাঁড়ালে আগাছা পরিষ্কার করা যাবে না। তাই আজ সকাল থেকেই মাঠে নেমেছি।