


নিজস্ব প্রতিনিধি কৃষ্ণনগর: কালীগঞ্জ বিধানসভার অর্ধেকের বেশি বুথেই ব্যাপক ভোটে এগিয়ে রয়েছে শাসকদল তৃণমূল। অন্তত, চব্বিশের লোকসভা নির্বাচনের বুথভিত্তিক ফলাফল সেটাই বলছে। আসন্ন উপনির্বাচনেও তার পুনরাবৃত্তি চায় ঘাসফুল শিবির। বিধানসভার এমন অনেক বুথ রয়েছে যেখানে বিরোধী শিবিরের জামানত জব্দ হয়েছে। আবার দেখা যাচ্ছে, বহু বুথে বিজেপি দশের ঘরও পেরোতে পারেনি। রাজনৈতিক মহলের দাবি, গত লোকসভা ভোটে সাংগঠনিক শক্তির ভিত্তিতে বিপুল ভোটে জয়ের অঙ্ক উপনির্বাচনেও আত্মবিশ্বাস জোগাবে তৃণমূলকে। তবে, আত্মতুষ্টিতে ভুগতে চান না শাসকদলের নেতারা। বরং অতীতের রেকর্ড ভেঙে রেকর্ড ভোটে কালীগঞ্জ ফের দখলে চাইছেন তাঁরা।
গত লোকসভা ভোটে কালীগঞ্জ বিধানসভায় বুথের সংখ্যা ছিল ২৬১টি। যার মধ্যে প্রায় ১৫০টি বুথেই একচেটিয়া এগিয়ে রয়েছে ঘাসফুল শিবির। প্রায় ৭০টি বুথে তৃণমূল প্রাপ্য ভোট ৫০০ থেকে ৮০০। সবমিলিয়ে ৩৩ হাজার লিড দিয়েছিল কালীগঞ্জ। বুথভিত্তিক ফলাফল বলছে, ১৬৮ নম্বর বুথে তৃণমূল পেয়েছে ৮৬৪টি ভোট। যেখানে সিপিএম ৯৩টি এবং বিজেপি মাত্র ৯টি ভোট পেয়েছে। একইভাবে, ১৭৬ নম্বর বুথে তৃণমূল পেয়েছে ৬৯৫টি ভোট, সিপিএম ৭১টি এবং বিজেপি ৭টি ভোট। ১৩২ নম্বর বুথেও তৃণমূলের আধিপত্য আরও স্পষ্ট। তারা পেয়েছে ৬১৮টি ভোট, যেখানে বিজেপি পেয়েছে মাত্র ৫টি এবং সিপিএম ৫৩টি ভোট। ১৯৮ নম্বর বুথে তৃণমূলের প্রাপ্ত ভোট ৬১৩টি, বিজেপি ২৯টি এবং সিপিএম ৯৮টি। আবার ১৬৪ নম্বর বুথে তৃণমূল ৬১২টি ভোট পেলেও, বিজেপি পেয়েছে ১৭টি এবং সিপিএম ৭৮টি ভোট। এই ফলাফলগুলি পরিষ্কারভাবে ইঙ্গিত দেয় যে শক্তিশালী সংগঠনের জোরে তৃণমূল কংগ্রেস অনেকটাই এগিয়ে রয়েছে। বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য, ১৯৩, ১২১ এবং ৫৭ নম্বর বুথে বিজেপির প্রাপ্ত ভোট ছিল মাত্র ১টি করে। এমনকী গোটা কালীগঞ্জ বিধানসভায় ৬০টির বেশি বুথে বিজেপি সিঙ্গেল ডিজিট অতিক্রম করতে পারেনি। এই পরিসংখ্যান থেকে স্পষ্ট, তৃণমূল কংগ্রেসের সাংগঠনিক শক্তি এবং জনভিত্তির তুলনায় বিরোধীরা এখনও অনেকটাই পিছিয়ে।
অন্যদিকে, কালীগঞ্জ বিধানসভার অন্তর্গত বেশি কিছু পঞ্চায়েত এলাকার হিন্দু অধ্যুষিত বুথে ভালো ফল করেছিল বিজেপি। যেমন ৩৩ নম্বর বুথে বিজেপি একচেটিয়া ৮০৪টি ভোট পায়। সেই জায়গায় তৃণমূল ১৮৬ এবং সিপিএম ৫১টি ভোট পেয়েছিল। আবার ১১৭ নম্বর বুথে বিজেপি ৮৬৫টি ভোট পায়।
কালীগঞ্জের তৃণমূলের ব্লকের সহ-সভাপতি জিয়াউর রহমান বলেন, ‘গত লোকসভায় এই কেন্দ্রটি আমরা মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের হাতে তুলে দিয়েছিলাম। সাংগঠনিক শক্তির ভিত্তিতেই আসন্ন উপনির্বাচনেও কালীগঞ্জ বিধানসভায় ব্যাপক লিড নিয়ে তৃণমূল কংগ্রেস জিতবে।’ কৃষ্ণনগর সাংগঠনিক জেলার বিজেপির মুখপাত্র সন্দীপ মজুমদার বলেন, ‘গত লোকসভাতে এই কেন্দ্র থেকে সামগ্রিকভাবে আমরা ভালো ফল করেছিলাম। মানুষের তৃণমূলের অপশাসনের অবসান চাইছে। উপনির্বাচনেও আমাদের ভোটের ফলাফল ভালো হবে। মানুষের মধ্যে ভালো সাড়া পাচ্ছি।’ কালীগঞ্জের সিপিএম নেতা দেবাশীষ আচার্য বলেন, ‘আমরা কংগ্রেসকে সমর্থন করেছি। তৃণমূল নিজেদের মধ্যে গোষ্ঠীদ্বন্দ্ব করতেই ব্যস্ত। মানুষকে পরিষেবা দেওয়ার সময় ওদের নেই। আমাদের জোট প্রার্থী জিতবেন।’