


সংবাদদাতা, কাটোয়া: রাত পোহালেই রাজ্য জুড়ে দ্বিতীয় দফার নির্বাচন। ভোটের আগেই গ্রাম জুড়ে ডায়ারিয়ায় আক্রান্ত হলেন বাসিন্দারা। হাসপাতালে ভর্তি অনেকেই। মঙ্গলবার সকালে বিষক্রিয়ার জেরে মর্মান্তিক মৃত্যু হয় দশম শ্রেণির এক ছাত্রীর। মৃতের নাম মৌসুমি হাজরা (১৬)৷ মৌসুমির বাড়ি কেতুগ্রামের কাটুন্দিডাঙা গ্রামে। মেডিকেল টিম গ্রামে গিয়ে চিকিৎসা করছে বাড়ি, বাড়ি। ভোট করানো নিয়েও দুশ্চিন্তা শুরু এলাকায়। কাটোয়ার মহকুমা শাসক অনির্বাণ বোস জানান, মেডিকেল টিম পাঠানোর পাশাপাশি গ্রামে নজরদারি চালাচ্ছি।
ঘটনার সূত্রপাত শনিবার। কেতুগ্রাম-১ ব্লকের মুড়গ্রাম-গোপালপুর পঞ্চায়েতের কাটুন্দিডাঙা গ্রামে পুজো হয়৷ গ্রাম্যদেবী মা সনাতনী দেবীর পুজো হয়৷ পুজোর প্রসাদ হিসাবে ফলের কুচি, চিঁড়ে ভোগ খান গ্রামের বাসিন্দারা। রবিবার রাত থেকেই গ্রামে একে, একে সবাই অসুস্থ হয়ে পড়েন৷ সোমবার সবার বমি, পায়খানা শুরু হয়ে যায়। অসুস্থদের কান্দরা রামজীবনপুর ব্লক প্রাথমিক স্বাস্থ্যকেন্দ্রে ভর্তি করানো হয়। পাশাপাশি কাটোয়া মহকুমা হাসপাতালেও ভর্তি করা হয়৷ মোট দশ জনের অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় তাঁদের কাটোয়া মহকুমা হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। মৌসুমিকেও সোমবার ভর্তি করা হয়েছিল কাটোয়া মহকুমা হাসপাতালে৷ এদিন ভোরে তাঁর মৃত্যু হয়৷ মৃতের বাবা সুজিত হাজরা বলেন, প্রসাদ খেয়ে আমার ছেলে, স্ত্রী সবাই অসুস্থ। মেয়েটা শেষ হয়ে গেল। কেন যে প্রসাদ খেতে গেলাম! অনেক গ্রামবাসী বাড়িতেই চিকিৎসা নিচ্ছেন। স্বাস্থ্য দপ্তরের প্রতিনিধিরা গ্রামে গিয়ে আক্রান্তদের স্বাস্থ্য পরীক্ষা করে ওষুধ, ওআরএস দিয়ে গিয়েছেন। গ্রামের বাসিন্দা বাবলু হাজরা বলেন, পুজোর প্রসাদ খাওয়ার পর থেকেই সবার পায়খানা, বমি শুরু হয়। আমার বাড়ির একজন বাদে বাকি সবাই অসুস্থ। কাটুন্দিডাঙা গ্রামে ৮১ নম্বর একটিই বুথ রয়েছে৷ ভোটার রয়েছে প্রায় ৮০০ জন৷ গ্রামে প্রায় দেড়শো পরিবারের বাস৷ বাসিন্দা দ্বৈপায়ন ঘোষ বলেন, গ্রামে এখন এমন পরিস্থিতি হয়েছে যে বুথে গিয়ে ভোট দেওয়ার লোক কম৷ অনেকেই অসুস্থ৷ কেউ হাসপাতালে রয়েছেন৷ অনেকের পুরো পরিবার হাসপাতালে রয়েছেন৷ তাহলে ভোট দেব কীভাবে৷ কাটোয়া মহকুমা প্রশাসন জানিয়েছে, জেলা থেকে মেডিকেল টিম গিয়েছে গ্রামে৷ ভোট হবে। পুরো পরিস্থিতির উপর নজরদারি চালানো হচ্ছে। তবে প্রশ্ন উঠেছে, প্রসাদে বিষক্রিয়া কীভাবে হলো। তার জন্য কে দায়ী। তার তদন্ত চাইছেন বাসিন্দারা। এদিন ওই গ্রামে গিয়ে দেখা গিয়েছে, গাছতলায় মেডিকেল টিম বসে রয়েছে। কাটোয়া মহকুমা হাসপাতালের সুপার বিপ্লব মণ্ডল জানান, খাবারে বিষক্রিয়া থেকেই দশম শ্রেণির ওই পড়ুয়ার মৃত্যু হয়েছে৷