


সুকান্ত বেরা, কলকাতা: ইডেনে কলকাতা নাইট রাইডার্স বনাম পাঞ্জাব কিংস মানেই অঘোষিত বীর-জারা শো। বিগত কয়েক বছর ধরেই এই ট্রেন্ড চলছে। একদিকে কেকেআরের মালিক শাহরুখ খান। অন্যদিকে পাঞ্জাবের মালকিন প্রীতি জিন্টা। পর্দার বীর-জারাকে ঘিরেই ক্রিকেট ও বিনোদনের দুর্দান্ত এক রসায়ন তৈরি হয় গ্যালারিতে। আর তা তারিয়ে তারিয়ে উপভোগ করেন দর্শকরা। সোমবার ছাব্বিশের আইপিএলে ইডেনে ফের মুখোমুখি কলকাতা-পাঞ্জাব। বীর-জারা শো কি দেখা যাবে? প্রশ্ন ক্রিকেটপ্রেমীদের মনে। প্রীতি জিন্টার আসার কোনও পাকা খবর নেই। তবে শোনা যাচ্ছে, শাহরুখ নাকি রাহানেদের হয়ে গলা ফাটাবেন। কিং খানের উপস্থিতিতে কি ভাগ্য বদলাবে কেকেআরের? আশায় সমর্থকরা।
পর পর দু’টো ম্যাচ হেরে প্রবল চাপে রাহানে ব্রিগেড। মুম্বইয়ের বিরুদ্ধে ২২০ তুলেও হারার পিছনে বোলিংকেই দায়ী করা হয়েছিল। ইডেনে হায়দরাবাদ ম্যাচে ব্যাটারদের ব্যর্থতায় বশ মানতে হয়েছিল ৬৫ রানে। সত্যি বলতে কী, কেকেআর টিম ম্যানেজমেন্ট এখনও সঠিক কম্বিনেশনই গড়ে তুলতে পারেনি। পাঞ্জাব কিংসের বিরুদ্ধে হারের হ্যাটট্রিক এড়ানোর চ্যালেঞ্জ নাইটদের সামনে। এরকম পরিস্থিতিতে অধিকাংশ কোচই দলে একাধিক পরিবর্তন করেন। কেকেআর কোচ অভিষেক নায়ারও কি সেই পথে হাঁটবেন? সম্ভাবনা উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না। ক্যামেরন গ্রিন দুই ম্যাচে স্পেশালিস্ট ব্যাটার হিসেবে খেলে করেছেন মাত্র ২০ রান। পাঞ্জাব ম্যাচে তাঁকে দিয়ে যদি বল করানো না যায়, তাহলে অন্য কারও কথা ভাবা দরকার। সেইফার্ট, রাচীন রবীন্দ্র কিংবা রভম্যান পাওয়েলের মধ্যে কোনও একজনকে বেছে নেওয়া উচিত।
বরুণ চক্রবর্তীর অফ ফর্মও চিন্তায় ফেলেছে দলকে। সমর্থকদের দাবি, সমীর রিজভির মতো অনামী তরুণ ক্রিকেটার যদি দিল্লিকে জেতাতে পারে, তাহলে প্রশান্ত সোলাঙ্কি বা দক্ষ কামরার মতো বোলারদের কেন বরুণের বিকল্প হিসেবে ভাবা হবে না?
শুধু পাঞ্জাব নয়, কেকেআরের প্রতিপক্ষ হয়ে উঠতে পারে বৃষ্টিও। হাওয়া অফিসের পূর্বাভাস, সোমবার ভিজতে পারে ক্রিকেটের নন্দনকানন। তবে ইডেনের ড্রেনেজ সিস্টেম ভালো। মাঠ পুরো কভার দেওয়া থাকে। বৃষ্টি থামলেই যাতে দ্রুত খেলা শুরু করা যায়, সেই বন্দোবস্তও থাকছে। ৫ ওভারের ম্যাচ হলেও তা শুরু করতে হবে রাত ১০টা ৫৬ মিনিটের মধ্যে। উল্লেখ্য, গতবারও পাঞ্জাব-কলকাতা ম্যাচে বাধ সেধেছিল বরুণদেব।
এই ম্যাচে আকর্ষণের কেন্দ্রে থাকবেন প্রাক্তন নাইট শ্রেয়স আয়ার। তিনিই হতে পারেন কেকেআরের কাঁটা। ২০২৪ সালে তাঁর নেতৃত্বেই চ্যাম্পিয়ন হয়েছিল কেকেআর। পরে ফ্র্যাঞ্চাইজি মালিকদের সঙ্গে দর বাড়ানো নিয়ে মন কষাকষির জেরে পাঞ্জাবে যোগ দেন তিনি। শ্রেয়সকে ছেড়ে দেওয়া যে কত বড় ভুল ছিল, সেটা এখন হাড়ে হাড়ে টের পাচ্ছেন শাহরুখ খান, জুহি চাওলারা। আর শ্রেয়সও ‘জবাব’ দেওয়ার জন্য তৈরি। গত চেন্নাই ম্যাচেই হাফ-সেঞ্চুরি হাঁকিয়েছেন। তাঁকে ঘিরেই প্রীতির দলে সুর এখন সপ্তমে।
পাঞ্জাব কিংসের টপ অর্ডার খুবই ভয়ঙ্কর। প্রিয়াংশ আর্য, প্রভসিমরন সিং, কুপার কনোলি, শ্রেয়স আয়ার ঝোড়ো ব্যাটিং করছেন। মিডল অর্ডারে নেহাল ওয়াধেরা, শশাঙ্ক সিংয়ের সঙ্গে অলরাউন্ডার মার্কাস স্টোইনিস বড় ভরসা। বোলিংয়েও পাঞ্জাব এগিয়ে। ইডেনের পিচে শুরুতে যদি পেসাররা সুবিধা পায়, তাহলে অর্শদীপ সিং, ব্রাটলেট, মার্কো জানসেনরা গতিতে পরাস্ত করবেন রাহানেদের। তরুণ পেসার বিজয়কুমার বিশাক দু’টি ম্যাচেই নজর কেড়েছেন। স্পিনে পাঞ্জাবের বড় বাজি যুজবেন্দ্র চাহাল।
রেকর্ড অবশ্য কেকেআরের দিকেই ঝুঁকে। ৩৫ বারের সাক্ষাতে বেগুনি-সোনালি জার্সিধারারী জিতেছে ২১ বার। সাফল্যের এই পরিসংখ্যানই উদ্দীপ্ত করছে মনোবল তলানিতে ঠেকা কিং খানের দলকে।