


নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: নেট সেশন শেষে ড্রেসিং-রুমে ফেরার পথে ক্যামেরন গ্রিনকে দেখে থমকালেন অজিঙ্কা রাহানে। করমর্দন হল। কথাও বললেন দু’জনে। হাসিমুখে ঘটল প্রস্থান। বার্তা স্পষ্ট, মুম্বই ম্যাচে গ্রিনের বল করা নিয়ে কেকেআর ক্যাপ্টেনের মন্তব্য ঘিরে যে বিতর্ক তৈরি হয়েছে, চাই তার দ্রুত অবসান। আর তা জরুরিও। আইপিএলের মতো দীর্ঘ সময়ের টুর্নামেন্টে ফোকাস ধরে রাখতে না পারলেই বিপদ। বুদ্ধিমান রাহানে তা বুঝতে পেরেছেন। তাই গ্রিন অধ্যায়কে পিছনে ফেলে সামনে এগিয়ে যাওয়ার বার্তা স্পষ্ট। আসলে গতবার ইডেনের পিচ নিয়ে কিউরেটর বনাম কেকেআর ক্যাপ্টেনের বাগযুদ্ধের প্রভাব পড়েছিল দলে। তাই পিচ নিয়ে বাড়তি কোনও শব্দ প্রকাশ্যে বলার উপর নিষেধাজ্ঞা জারি করেছেন কোচ অভিষেক নায়ার। তিনি পই পই করে ক্রিকেটারদের বুঝিয়ে দিয়েছেন, খেলার উপর মনোনিবেশ করতে। তাই জয়ের খোঁজে নায়ার লাইনেই হাঁটতে চাইছে নাইট রাইডার্স। এমনকি, ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়াকে গ্রিন ইস্যুতে পত্রাঘাতের পরিকল্পনা থেকেও পিছিয়ে এসেছে শাহরুখ খানের দল।
পর পর তিনটি ম্যাচ ঘরের মাঠে খেলবেন নাইটরা। ২ এপ্রিল প্রতিপক্ষ সানরাইজার্স। ৬ এপ্রিল রাহানের সামনে পাঞ্জাব কিংস। আর ৯ এপ্রিল তিনবারের চ্যাম্পিয়নরা লখনউয়ের বিরুদ্ধে নামবে। এই তিনটি ম্যাচ থেকে পুরো পয়েন্ট ঘরে তোলাই লক্ষ্য নাইট ব্রিগেডের।
মঙ্গলবার সন্ধ্যায় কেকেআরের সঙ্গেই ইডেনে গা ঘামালেন সানরাইজার্সের ক্রিকেটাররাও। দুই দলই প্রথম ম্যাচ হেরে চাপে। তবে হায়দরাবাদের টপ অর্ডার খুবই বিপজ্জনক। অভিষেক শর্মা, ট্রাভিস হেড, ঈশান কিষান, হেনরিক ক্লাসেন। এই চার ব্যাটারকে দ্রুত ফেরাতে না পারলে বড় সমস্যায় পড়বেন রাহানেরা। কিন্তু মুম্বই ম্যাচে ২২০ তুলে ডিফেন্ড করা যায়নি। বোলিং চিন্তায় রেখেছে। পেস আক্রমণে তেমন ঝাঁঝ নেই। সেক্ষেত্রে ভরসা রাখতে হবে স্পিনেই। কিন্তু সেখানেও চিন্তা কম নয়। বরুণ চক্রবর্তী ফর্ম হাতড়াচ্ছেন। সুনীল নারিনের স্পিনে ঝাঁঝ কমেছে। তবুও দুই স্পিনারের অতীতে ম্যাচ জেতানোর রেকর্ড রয়েছে। আর অভিষেক, ঈশান, ট্রাভিসের মতো বাঁ হাতি ব্যাটারদের বিরুদ্ধে অফ স্পিনার খেলানোর সুবিধা পাওয়া যেতে পারে। সেই অঙ্ক কষা চলছে কেকেআর শিবিরে। পিচে হালকা টার্ন থাকুক, তেমনটাই চাইছেন রাহানেরা। তবে ইডেনের কিউরেটর পিচ নিয়ে খুব বেশি ঝুঁকি নিতে রাজি নন।
এদিকে, প্যাট কামিন্সকে প্র্যাকটিসে দেখে মনে হল তিনি ম্যাচ কন্ডিশনে ফিরে এসেছেন। দীর্ঘক্ষণ বোলিং করার পাশাপাশি পরের দিকে ব্যাটও করেন। একেবারে শেষ দিকে ফিটনেস টেস্টও হল অজি অধিনায়কের। কামিন্স ফিরলে সানরাইজার্সের ধুঁকতে থাকা বোলিং অক্সিজেন পাবে।