


নয়াদিল্লি: ২০০২৫ সালের ৭ মে। টেস্ট ক্রিকেট থেকে অবসর নিলেন রোহিত শর্মা। তাঁর এই সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়েছিল ক্রিকেট মহল। কারণ, রোহিতের ফর্মে ধরা পড়ছিল ঘাটতি। শরীর হচ্ছিল ভারি। কমছিল রিফ্লেক্স। তাই লাল বলের ক্রিকেট থেকে সরে দাঁড়িয়ে ওয়ান ডে ফরম্যাটে আরও বেশি করে মনোনিবেশ করতেই কঠিন সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন হিটম্যান।
কিন্তু বিরাট কোহলি! এক সপ্তাহ পর তিনিও সতীর্থের পথে হাঁটলেন। ১২ মে ভারতীয় ক্রিকেটের আকাশ ভেঙে পড়ল বিরাট ঘোষণায়। আর টেস্ট ক্রিকেট খেলবেন না কোহলি। যা শুনে ক্রিকেটপ্রেমীদের ছিল একটাই প্রশ্ন, ঠিক কী কারণে পাঁচদিনের ক্রিকেট থেকে অবসর নিলেন ভিকে? তিনি তো একই রকম সপ্রতিভ। মাঠে নেমে উজাড় করে দেন একশো শতাংশ। ফিল্ডিংয়ে তাঁর জুড়ি মেলা ভার। ব্যাটিংয়ে ধারেকাছে কেউ নেই। তাহলে? সেই প্রশ্নের উত্তর আজও পাওয়া যায়নি। বরং টেস্ট ক্রিকেট থেকে অবসরের পর বিরাট কোহলি ওয়ান ডে ফরম্যাটে আরও উজ্জ্বল। পরিসংখ্যান বলছে, ১৬টি একদিনের ম্যাচে ৭৭.০৭ গড়ে তাঁর সংগ্রহ ১০০২ রান। নিউজিল্যান্ডের মাটিতে প্রথম ওয়ান ডে’তে ভারতের জয়ের অন্যতম কাণ্ডারি সেই বিরাটই। ৫১ বলে তাঁর ৭৪ রানের ঝলমলে ইনিংসই জয় এনে দিয়েছিল ভারতকে। আর তা দেখে প্রাক্তন ক্রিকেটার রবি শাস্ত্রী নিজেকে আর সামলাতে পারেননি। কমেন্ট্রি বক্সে বসে তিনি খেদ উগরে দেন, ‘এই পিচ ও পরিবেশে ব্যাট করা সহজ ছিল না। বিরাট কোহলি ব্যতিক্রম। ও একটাও ভুল শট খেলেনি। গত সাত-আট বছরে এমন ছন্দে দেখিনি ওকে। চাইলে টেস্ট খেলা চালিয়ে যেতেই পারত।’ শাস্ত্রী বিশ্বাস করেন, কোহলি চাইলেই অবসর ভেঙে টেস্ট খেলতে পারে। এই প্রসঙ্গে তিনি আরও বলেন, ‘আপনি ক্রিকেট বিশেষজ্ঞদের জিজ্ঞাসা করুন, সবাই একসুরে বলবে বিরাটের টেস্ট খেলা উচিত। ওর ফিটনেস অসাধারণ। ব্যাটিংয়েও ধার বেড়েছে। মাঠে নেমে প্রচুর পরিশ্রম করে। তাহলে টেস্ট খেলতে অসুবিধা কোথায়? কারণ, কঠিন পরিস্থিতিতে ম্যাচ জেতানোর ব্যাপারে ওর আশেপাশে কেউ নেই। সেটা বার বার প্রমাণিত।’