


সৌগত গঙ্গোপাধ্যায়, কলকাতা: শচীন ধাসের শট ডিপ এক্সট্রা কভার দিয়ে বাউন্ডারি লাইন ছুঁতেই উচ্ছ্বাস মহারাষ্ট্র শিবিরে। নন-স্ট্রাইকার এন্ডে থাকা ক্যাপ্টেন পৃথ্বী সাউ দৌড়ে গিয়ে জড়িয়ে ধরলেন শচীনকে। রনজি ট্রফিতে বাংলাকে ১০ উইকেটে দুরমুশ করে ইডেন থেকে বোনাস পয়েন্ট নিয়ে গেল মহারাষ্ট্র। উচ্ছ্বাস তো এমনই হবে! আর বঙ্গ-শিবিরে তখন বিষাদের ছায়া। টানা তিনটি ম্যাচে জয়ের পর ঘরের মাঠে দল যে এভাবে পর্যুদস্ত হবে, অনেকেই ভাবেননি। আসলে জঘন্য ব্যাটিংই ডোবাল লক্ষ্মীরতন শুক্লার দলকে। হারের জেরে এলিট গ্রুপ সি’তে শীর্ষস্থানও খোয়াল বাংলা। ৪ ম্যাচে ১৮ পয়েন্ট নিয়ে দ্বিতীয় স্থানে নেমে এলেন অভিমন্যু ঈশ্বরণরা। আর শীর্ষে পৌঁছানো মহারাষ্ট্রের ৪ ম্যাচে সংগ্রহ ১৯ পয়েন্ট।
প্রথম ইনিংসে ব্যাটিং বিপর্যয়ের পরই ব্যাকফুটে চলে গিয়েছিল বাংলা। মাত্র ১৪৩ রানেই গুটিয়ে যায় হোম টিম। জবাবে মহারাষ্ট্র তোলে ২১৮। মূল্যবান ৭৫ রানের লিড পান পৃথ্বীরা। দ্বিতীয় ইনিংসেও চরম ব্যর্থ বঙ্গ-ব্যাটাররা। বড়লোকের বাউন্ডুলে ছেলের মতো ভুল শটে উইকেট ছুড়ে এলেন অভিমন্যু, সুদীপ ঘরামিরা। বর্ষীয়ান সুদীপ চ্যাটার্জি ফের ফ্লপ। বৃহস্পতিবার ৪ উইকেটে ৭৬ নিয়ে চতুর্থ খেলা শুরু করে হোম টিম। সাতসকালেই রানের খাতা না খুলে ফেরেন সুরজ ও শাহবাজ। তবে চাপের মুখে অভিষেক পোড়েল (৬৫) ও সুমন্ত (৫৯) অর্ধশতরান হাঁকান। সেই সুবাদে ১৮৬ রান তোলে বাংলা। অর্থাৎ জয়ের জন্য মহারাষ্ট্রের সামনে টার্গেট ছিল ১১২ রানের। ১৯.৪ ওভারে কোনো উইকেট না খুইয়েই লক্ষ্যে পৌঁছে যায় তারা। অর্ধশতরান পৃথ্বী (অপরাজিত ৫৩) ও শচীনের (অপরাজিত ৬১)।
ম্যাচ শেষে ক্যাপ্টেন পৃথ্বী বলেন, ‘শুরু থেকে আক্রমণাত্মক ক্রিকেটের কৌশল কাজে এসেছে। বাংলাকে তাদের ঘরের মাঠে হারিয়ে উচ্ছ্বসিত।’ এদিকে, বৃহস্পতিবার সৈয়দ মুস্তাক আলি ট্রফির জন্য বাংলার দল ঘোষণা করা হল। তাতে একাধিক নতুন মুখ। দলকে নেতৃত্ব দেবেন অভিমন্যু ঈশ্বরণ।