


নিজস্ব প্রতিনিধি, তমলুক: ২৫ লক্ষ টাকা মূল্যের রেশনসামগ্রী কারচুপির অভিযোগে রেশন ডিলারকে ৩২ লক্ষ টাকা জরিমানা ধার্য করল খাদ্যদপ্তর। কোলাঘাট ব্লকের কোলা গ্রামের ওই রেশন ডিলারের নাম সুকুমার পাল। তাঁর রেশন দোকানে ৬০০কুইন্টাল রেশনের চাল ও ৭০ কুইন্টাল আটার হদিশ নেই। স্টক লিস্টের সঙ্গে গোডাউনে রেশন সামগ্রীর বিপুল ফারাক দেখে চমকে গিয়েছিলেন খাদ্যদপ্তরের বিশেষ টিম। গত ৩০ ডিসেম্বর খাদ্যদপ্তরের দুই চিফ ইন্সপেক্টর এবং একজন ইন্সপেক্টরকে নিয়ে গঠিত বিশেষ টিম ওই দোকানে হানা দিয়েছিল। ঘটনায় অভিযুক্ত ওই রেশন ডিলারকে তখনই সাসপেন্ড করা হয়েছিল। পাশাপাশি ৭৮ বছর বয়সী সুকুমারবাবু এবং রেশন দোকান পরিচালনায় যুক্ত তাঁর ছেলে কল্যাণ পালের বিরুদ্ধে থানায় এফআইআর করেছিল খাদ্যদপ্তর। গত ৫ মার্চ তমলুকের মহকুমা খাদ্য নিয়ামক এক নির্দেশিকা জারি করে ওই ডিলারকে ৩১ লক্ষ ৬০ হাজার টাকা জরিমানা করেছেন। এক মাসের মধ্যে ওই টাকা জমা দিতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। অন্যথায় তাঁর লাইসেন্স বাতিল হতে পারে।
তমলুকের মহকুমা খাদ্য নিয়ামক শ্যামাপ্রসাদ ভট্টাচার্য বলেন, কোলা গ্রামের ওই রেশন ডিলারের দোকানে প্রচুর পরিমাণ রেশন সামগ্রীর ঘাটতি ধরা পড়েছে। আগেই তাঁকে সাসপেন্ড করা হয়। ওই রেশন দোকানের উপভোক্তারা পাশের একটি দোকান থেকে রেশন তুলছেন। অভিযুক্ত ডিলারকে নিয়ে একটা শুনানি হয়েছিল। এরপর দপ্তরের নিয়ম অনুযায়ী এ সংক্রান্ত নির্দেশিকা জারি করা হয়েছে। তাতে ওই ডিলারকে ৩১ লক্ষ ৬০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে। ঘাটতি থাকা খাদ্যসামগ্রীর উপর ভিত্তি করেই এই জরিমানা ধার্য হয়েছে।জানা গিয়েছে, পূর্ব মেদিনীপুর জেলায় অতীতে কখনও কোনও রেশন ডিলারকে এত বিপুল টাকার জরিমানা করা হয়নি। আসলে এর আগে কোনওদিন ২৫ লক্ষ টাকার রেশন সামগ্রী কারচুপির অভিযোগও আসেনি। রেশন ব্যবস্থায় কারচুপির ঘটনায় লাইসেন্স বাতিল করার নিয়ম রয়েছে। তবে, লাইসেন্স বাতিল না করে লোপাট হওয়া মোট রেশন সামগ্রীর ১.২৫ গুণ জরিমানা ধার্য করার নিয়মও রয়েছে। সেইমতো কোলাঘাটের ওই রেশন ডিলারের লাইসেন্স বাতিল না করে তাঁকে জরিমানা ধার্য করা হয়েছে।
কোলাঘাট ব্লকের কোলা গ্রামের ওই রেশন দোকান থেকে বেশকিছু দিন ধরেই অভিযোগ আসছিল। স্টক ঠিকমতো না থাকায় অভিযুক্ত ডিলার রেশন সামগ্রী ঠিকমতো দিতে পারছিলেন না। অভিযোগ আসতেই তমলুক মহকুমা খাদ্য নিয়ামক তিনজনের একটি টিম গঠন করেন। টিমে ছিলেন খাদ্যদপ্তরের কোলাঘাটের চিফ ইন্সপেক্টর অশোক মজুমদার, তমলুকের চিফ ইন্সপেক্টর কার্তিক দাস এবং নন্দকুমারের ইন্সপেক্টর সৌমেন্দ্রনাথ ঘোষ। গত ৩০ ডিসেম্বর ওই টিম সুকুমার পালের রেশন দোকানে হানা দেয়। স্টক লিস্ট এবং মজুত থাকা রেশন সামগ্রী মিলিয়ে দেখা যায়, ২৫লক্ষ টাকার রেশন সামগ্রী হাপিস! ওই দোকানে ৬০০ কুইন্টাল ৯১ কেজি ৬৯০ গ্রাম চাল উধাও। এছাড়াও মোট ৭০ কুইন্টাল আটা গরমিল হয়েছে। প্রায় ২৫ লক্ষ টাকা মূল্যের রেশন সামগ্রী অনিয়ম হয়েছে। অভিযুক্ত ডিলার সুকুমার পালের ছেলে কল্যাণ পাল বলেন, একটা প্রাকৃতিক বিপর্যয়ের সময় কিছু রেশন সামগ্রী নষ্ট হয়। তখন থেকেই ঘাটতি রয়ে গিয়েছে। জরিমানার বিষয়ে শুনেছি। এখনও অর্ডারের কপি হাতে পাইনি।