


নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: ‘প্রগতিশীল’ কলকাতাতেই সার্ভাইক্যাল ক্যানসারের এইচপিভি টিকাকরণের হার সবচেয়ে করুণ। খোদ স্বাস্থ্যদপ্তরের রিপোর্টেই উঠে এসেছে এই তথ্য। ৩০ মে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী বিধাননগর মহকুমা হাসপাতালে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে এই টিকাকরণ কর্মসূচির উদ্বোধন করেন। তারপর থেকে সোমবার ৮ জুন পর্যন্ত রাজ্যের ৪৫ হাজার ৭০৫ জন ১৪ বছরের কিশোরী এই টিকা পেয়েছে। কিন্তু তার মধ্যে মাত্র ১৬৬ জন টিকা পেয়েছে কলকাতায়। শহরেই এই অবস্থা কপালে চিন্তার ভাঁজ ফেলেছে দপ্তরের আধিকারিকদেরও। মঙ্গলবার সন্ধ্যায় তাঁরা জানিয়েছেন, আধিকারিকদের বিষয়টি অবহিত করে যথাবিহিত তৎপরতা নিতে বলা হয়েছে।
মেয়েদের ক্যানসারের মধ্যে দ্বিতীয় বিপজ্জনক ক্যানসার হল এই সার্ভাইক্যাল ক্যানসার। তার প্রতিরোধে এই টিকাকরণ চলছে। ফেব্রুয়ারি মাসে এই টিকাকরণ অভিযানের সূচনা করেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। ইতিমধ্যেই দেশের অন্যান্য রাজ্যে ১৪ বছর বয়সিদের এই টিকাকরণ সম্পূর্ণ। পূর্বতন সরকার সে-সময় বাংলায় টিকা দেওয়ার কাজ শুরু না-করায় তখন এখানকার মেয়েরা এই টিকা পায়নি। নতুন সরকার ক্ষমতায় আসবার পর টিকাকরণ অভিযান শুরু করবার কথা ঘোষণা করে। দেখা যাক, এই টিকাকরণে কলকাতার অবস্থা ঠিক কেমন?
ইউ ইউন পোর্টাল সূত্রের খবর, ২৩টি জেলার মধ্যে কলকাতাতেই সেশন পিছু টিকা পেয়েছে মাত্র দুজন করে কিশোরী। সেই হিসাবে ৭৮টি সেশন হয়েছে। মোট টিকা পেয়েছে ১৬৬ জন! টিকাপ্রাপ্ত কিশোরীর সংখ্যায় শীর্ষে রয়েছে পূর্ব বর্ধমান (৬,৪২৯ জন)। দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে দক্ষিণ ২৪ পরগনা (৫,৪৫৪ জন)। তিন নম্বরে আছে হুগলি (৪,৮৪২ জন)। আর সেশন বা টিকাদান কর্মসূচির সংখ্যার হিসাবে দক্ষিণ ২৪ পরগনা রয়েছে শীর্ষে। দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে পূর্ব মেদিনীপুর ভ্যাকসিনেশনের হার খুব খারাপ হওয়ায় কলকাতাসহ পাঁচ জেলা ‘লাল’ তালিকাভুক্ত করা হয়েছে সরকারি রিপোর্টে। বাকি জেলাগুলি হল মালদহ, আলিপুরদুয়ার, কালিম্পং এবং উত্তর ২৪ পরগনা।
তবে অত্যন্ত ইতিবাচক সংবাদ হল, এখনো পর্যন্ত ১০ দিন ধরে টিকাকরণ চললেও একটিও ছোটোখাটো পার্শ্ব প্রতিক্রিয়ার ঘটনা বা এইএফআর বা অ্যাডভার্স এভেন্ট ফলোয়িং ইমিউনাইজেশন ঘটেনি। এমনই জানা গিয়েছে স্বাস্থ্যদপ্তর সূত্রে।