


নিজস্ব প্রতিনিধি ও সংবাদসংস্থা, কলকাতা: প্রাইভেট হাসপাতালে সিজারিয়ান প্রসব বা সি-সেকশন ডেলিভারিতে দেশের ২ নম্বরে এখন বাংলা। জাতীয় পরিবার কল্যাণ সমীক্ষা বা এনএফএইচএস-৬ সূত্রে এই চাঞ্চল্যকর তথ্য উঠে এসেছে।
প্রসঙ্গত, বাংলায় সিজারিয়ান ডেলিভারি উদ্বেগজনক হারে বাড়ছে, এই উদ্বেগের তথ্য গত ক’বছরে বিভিন্ন আলোচনা, সেমিনার, রিপোর্টে উঠে আসছিল। জানা যাচ্ছে, দেশে প্রাইভেট হাসপাতালে সিজারিয়ানের হারে সবচেয়ে বেশি এগিয়ে জম্মু ও কাশ্মীর। সেখানে বেসরকারি হাসপাতালে হওয়া প্রতি ১০টি প্রসবের মধ্যে ৯টিই সি-সেকশন! তারপরই আছে পশ্চিমবঙ্গ। এখানে প্রাইভেট হাসপাতালে যত প্রসব হচ্ছে, তার মধ্যে ৮৮ শতাংশই (৮৭.৭ শতাংশ) সিজারিয়ান। তৃতীয় স্থানে তেলেঙ্গানা (৮৩.৯১ শতাংশ)। অথচ সারা দেশে বেসরকারি ক্ষেত্রে সিজারিয়ান পদ্ধতিতে প্রসবের হার ৫৪.১ শতাংশ। এই তিন রাজ্যেই যা জাতীয় গড়ের থেকে অন্তত ৩০ শতাংশ বেশি।
কিন্তু কেন? প্রসূতিবিদ ও হাসপাতাল সূত্রের খবর, বাণিজ্যিক বা ব্যবসায়িক লক্ষ্যপূরণ একটি প্রধান কারণ। সাধারণ প্রসব হতে প্রায় ৮-১০ ঘণ্টা সময় লাগে। সেই পুরো সময়টি স্ত্রীরোগ বিশেষজ্ঞকে থাকতে হয়। সেখানে দক্ষ স্ত্রীরোগ বিশেষজ্ঞ সিজারিয়ান করতে বড়োজোর ৩০-৪৫ মিনিট সময় নেন। অর্থ স্পষ্ট। একটি নর্মাল ডেলিভারির সময়ে একজন প্রসূতিবিদ কমপক্ষে ৬-৮টি সিজারিয়ান করে ফেলতে পারেন। অর্থকরী দিক থেকেও যা অনেকটাই বেশি লাভজনক। দ্বিতীয়ত, আইন-আদালত, ঝুটঝামেলার ভয়। সাধারণ প্রসবের সুনির্দিষ্ট সময়টি মিস হয়ে গেলে মা ও সন্তানের পক্ষে বড়োসড়ো বিপদ এমনকি প্রাণহানিরও আশঙ্কা থাকে। তৃতীয়ত, দ্রুত, নিশ্চিত এবং ঝুঁকিহীন প্রসবের দিকে ঝোঁক থাকে ভাবী মা ও দুই পরিবারের। ১২-১৮ ঘণ্টা লেবার রুমে থাকার ধৈর্য কম মায়েরই থাকে।
বিশিষ্ট স্ত্রীরোগ বিশেষজ্ঞ ডাঃ রঞ্জিত চক্রবর্তী বলেন, নিঃসন্দেহে মাত্রাধিক সিজার হচ্ছে পশ্চিমবঙ্গে। সেজন্য শুধু আমাদের দোষ দিলে হবে না। মানুষের মানসিক গঠনেরও বদল আনতে হবে। শুধু সিজারই নয়, অ্যাস্ট্রোসিজার (পাজি-পুঁথি, দিনক্ষণ দেখে প্রসব) চাইছেন অসংখ্য বাড়ির লোকজন। তবে নর্মাল ডেলিভারির জন্য উন্নত দেশের মতো ২৪ ঘণ্টা কোনো-না-কোনো স্ত্রী রোগ ও প্রসূতি বিশারদের হাসপাতালে থাকার পরিকাঠামো থাকা জরুরি। সরকারেরও উচিত সচেতনতা বৃদ্ধি করা। তাহলেই আদর্শ পরিস্থিতি ফিরবে। এন আর এস মেডিকেল কলেজের প্রসূতিবিদ্যার প্রধান ডাঃ রুনা বল বলেন, সরকার চেষ্টা করছে নর্মাল ডেলিভারি জনপ্রিয় করতে। ধীরে ধীরে পরিস্থিতি বদলাবে বলেই আশা রাখছি।