


নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: বেআইনি নির্মাণ ভাঙতে গিয়ে পুর কর্তৃপক্ষেরই রোষানলে পড়েছেন কলকাতা পুরসভার এক ইঞ্জিনিয়ার! এমনই অভিযোগ শোনা যাচ্ছে কলকাতা পুরসভার অন্দরে। পুর প্রশাসক তথা কমিশনার স্মিতা পাণ্ডের নির্দেশে পুরসভার বিল্ডিং বিভাগের ৭ নম্বর বরো এগজিকিউটিভ ইঞ্জিনিয়ারকে সাসপেন্ড করা হয়েছে। কিন্তু দীর্ঘদিন হয়ে গেলেও সেই সাসপেনশন এখনও ওঠেনি। উলটে বিল্ডিং বিভাগের ডিজি বদল হয়েছে। পুর কমিশনারকে নিয়ে সোশ্যাল মিডিয়ায় নানারকম অপপ্রচারের অভিযোগে অংশুমান সরকার নামে একজন এলবিএস তথা স্ট্রাকচারাল ইঞ্জিনিয়ারকে শো-কজ করেছে পুরসভা। অংশুমানবাবু অবশ্য পুরসভাকে জবাবি চিঠিও পাঠিয়েছেন। আর এই সমস্ত জটিলতার প্রেক্ষিতে এখন পুরসভার বিল্ডিং বিভাগের ইঞ্জিনিয়াররা আশঙ্কায় ভুগছেন। প্রশ্ন উঠেছে, তাহলে কি বেআইনি নির্মাণের হাত দেওয়া যাবে না? অবৈধ নির্মাণ ভাঙতে গিয়ে কেন শাস্তির মুখে, সেটাও ঠাহর করতে পারছেন না পুর-আধিকারিকরা।
সূত্রের খবর, বেলেঘাটা অঞ্চলের এক প্রাক্তন দাপুটে কাউন্সিলারের বেআইনি নির্মাণ ভাঙতে গিয়েছিলেন পুরসভার ওই এগজিকিউটিভ ইঞ্জিনিয়ার। শুনানির পর ‘স্পেশাল অফিসার বিল্ডিং’ ওই অবৈধ নির্মাণ ভাঙার নির্দেশ দিতেই তিনি সেটি ভাঙতে চলে যান। আধিকারিকরা জানাচ্ছেন, তাতেই ক্ষোভের সঞ্চার হয় পুরসভার শীর্ষমহলে। সর্বোচ্চ কর্তৃপক্ষকে না জানিয়ে ওই অফিসার কেন বিল্ডিং ভাঙতে গিয়েছিলেন, এই মর্মে তাঁকে শো-কজ করা হয়। তিনি ক্ষমা চেয়ে উত্তরও দেন। কিন্তু শীর্ষ কর্তৃপক্ষ ওই অফিসারকে সাসপেন্ড করে। এই ঘটনার পর স্বাভাবিকভাবেই বেআইনি নির্মাণের বিরুদ্ধে পদক্ষেপের প্রশ্নে খানিকটা সতর্ক অন্যান্য অফিসাররা। কোন অবৈধ নির্মাণের বিষয়ে এগনো যাবে, কোনটার বিষয়ে যাবে না, এনিয়ে তাঁরা আতঙ্কিত। আছেন ধোঁয়াশার মধ্যে।
এদিকে, নতুন নির্মাণে অনুমোদন দেওয়ার গতিও শ্লথ হয়ে পড়েছে। অনেক জায়গা থেকেই বেআইনি নির্মাণের অভিযোগ আসছে। এসব বিষয়ে সোশ্যাল মিডিয়ায় লিখে এখন পুর কর্তৃপক্ষের চক্ষুশূল পুরসভার নথিভূক্ত আর্কিটেক্ট অংশুমান সরকার। তিনি বলেন, ‘শো-কজের উত্তর আমি দিয়েছি। আমি কোনো বেআইনি নির্মাণের সঙ্গে যুক্ত থাকলে পুরসভা আমার বিরুদ্ধে পদক্ষেপ করতে পারে। কিন্তু ফেসবুকে আমার লেখা নিয়ে পুর কর্তৃপক্ষ বা কমিশনার আমাকে কিছু বলতে পারেন না। অবৈধ নির্মাণ ভাঙতে যাওয়ার আগে কমিশনারকে জানানোর প্রয়োজন নেই। বরো এগজিকিউটিভদের আইনিভাবে সেই ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে। কমিশনার এমবিসি করছেন না। অবৈধ নির্মাণের শুনানি হয়ে যাওয়ার পরেও সেই ফাইলে সই করছেন না। অত্যন্ত অগণতান্ত্রিকভাবে পুরসভা চালানো হচ্ছে।’