


নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: পুজো কমিটিতে এবার হাত বদল! আরও একটু স্পষ্ট করে বললে, কংগ্রেসের বদলে পদ্ম শিবিরের নেতারাই পুজো কমিটির প্রধান দায়িত্বে। আমর্হাস্ট স্ট্রিটে ছোড়দা মানে সোমেন মিত্রের পুজোর এহেন হাতবদলে আলোড়ন রাজনৈতিক মহলেও।
‘সাধারণ শ্রী শ্রী কালী পুজো’ পরিচিত সোমেন মিত্রর কালী পুজো হিসেবেই। এ যাবতকাল তামাম রাজনৈতিক মহল তাই জেনে এসেছে। ছোড়দা ছিলেন এই পুজোর প্রধান কর্তা। তাঁর প্রয়াণের পর সোমেনের সহধর্মিনী শিখা মিত্র, পুত্র রোহন মিত্র ও সোমেনের আপ্ত সহায়ক বাদল ভট্টাচার্যের হাত ধরে এই পুজো এগিয়ে চলছিল। প্রদেশ কংগ্রেস মুখপাত্র সুমন রায়চৌধুরি এই পুজোর অন্যতম কর্তা। এই পুজোর উদ্বোধনে এর আগে এসেছেন কংগ্রেস নেতা প্রদীপ ভট্টাচার্য, অধীর চৌধুরি, শুভঙ্কর সরকাররা। রাজ্যে পালাবদলের জেরে সেই পুজোয় এবার প্রবেশ ঘটল বিজেপি নেতাদের। এই পুজোর সভাপতি হয়েছেন রাজ্যের শিল্পমন্ত্রী তাপস রায়। যুগ্ম সম্পাদক হয়েছেন দেবর্ষি মিত্র ও গৌতম দত্ত। শুক্রবার সন্ধ্যায় এই পুজোর উদ্বোধন অনুষ্ঠানে হাজির ছিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে হাজির ছিলেন বিজেপি বিধায়ক বিজয় ওঝা, বিজেপির উত্তর কলকাতা সাংগঠনিক জেলার সভাপতি তমোঘ্ন ঘোষ। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে ঘোষণা করা হয়, ৮৫ বছরের ইতিহাসে এই প্রথম আমর্হাস্ট স্ট্রিট পেল মুখ্যমন্ত্রীকে। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে এসে সকলের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় করেন মুখ্যমন্ত্রী। মুখ্যমন্ত্রী থাকাকালীন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে কোনোদিন এ পুজোয় দেখা যায়নি। পুজো কমিটির অনেকেরই বক্তব্য, এবার অনেকেই চেয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী আসুন। সেইমতো তাঁর কাছে আবেদন করা হয়। সেই আবেদনে সাড়া দিয়ে উনি এসেছেন। তাঁর কাছে কৃতজ্ঞ।
সোমেনের পুজোয় তাপস সভাপতি হওয়া নিয়ে অনেকেই গুঞ্জন ছড়িয়েছেন। তাপসের বক্তব্য, আমর্হাস্ট স্ট্রিট আমার পাড়া। এই পাড়া থেকেই আমার উত্তরণ। তাই পাড়ার পুজোয় থাকব, এটাই তো স্বাভাবিক। পালটা প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি শুভঙ্কর সরকার বলেন, এসআইআর করে বিজেপি বাংলা দখল করে নিল। আর কালী পুজোর একটি কমিটি তৈরি, এ আবার কী এমন বড় ব্যাপার! উদ্বোধনী পর্বে পদ্মফুল শিবিরের ‘রমরমা’য় কিছুটা ম্রিয়মান হয়ে থাকলেও, হতাশ হচ্ছে না ‘হাত’ শিবির। আজ, শনিবার ছোড়দার পুজোর মণ্ডপে হাজির থাকবেন কংগ্রেস নেতারা।