


নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: বাল্যবিবাহ ও যৌন নির্যাতন প্রতিরোধক আইনে (পকসো) শহরে প্রথম সাজাপ্রাপ্ত হলেন এক যুবক। সোমবার শিয়ালদহের প্রথম অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা বিচারক শরণ্যা সেন প্রসাদ দোষী সাব্যস্ত যুবককে ২০ বছর সশ্রম কারাদণ্ডের নির্দেশ দেন। পাশাপাশি, দশ হাজার টাকা জরিমানা, অনাদায়ে ছ’মাসের হাজতবাসের নির্দেশ দেন। এর সঙ্গে নির্যাতিতাকে রায়দানের নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে দু’লক্ষ টাকা দেওয়ার জন্য দক্ষিণ ২৪ পরগনার জেলা আইনি সহায়তা কর্তৃপক্ষকে (লিগ্যাল এইড)কে প্রয়োজনীয় নির্দেশ দেন বিচারক।
এদিন রায়দানের আগে মামলার বিশেষ সরকারি কৌঁসুলি অসীম কুমার এই ধরনের অপরাধের ক্ষেত্রে কড়া সাজার পক্ষে জোরালো সওয়াল করেন। তিনি বলেন, ‘বাল্যবিবাহ যে সমাজে এক অভিশাপ, সেই বার্তা আরও বেশি মাত্রায় প্রচার জরুরি। তাই অপরাধীর বিরুদ্ধে লঘু সাজা দেওয়ার যৌক্তিকতা নেই।’ ৩০ বছরের যুবক কাঠগড়ায় দাঁড়িয়ে বিচারকের কাছে কম সাজা দেওয়া আবেদন জানান। এরপরই বিচারক এজলাসে এই যুবকের উদ্দেশে বলেন, আপনার বিরুদ্ধে ওঠা সমস্ত অভিযোগ প্রমাণিত হয়েছে। আইনের বিধান মেনে আপনাকে এই মামলায় সাজাপ্রাপ্ত করা হল। এর আগে কলকাতার বিভিন্ন আদালতে একাধিক পকসো মামলায় অপরাধীদের বিরুদ্ধে সাজা হয়েছে। কিন্তু বাল্যবিবাহ ও যৌন হয়ারানির মামলায় কলকাতার বুকে প্রথম সাজা হওয়ায় এদিন বহু মানুষজন শিয়ালদহ কোর্ট চত্বরে ভিড় জমান।
আদালত সূত্রে জানা গিয়েছে, ২০২৫ সালের ৭ ডিসেম্বর চিৎপুর থানায় এই মামলা দায়ের হয়। ৩০ বছরের যুবক ১৭ বছরের কিশোরীকে ফুঁসলিয়ে নিয়ে বিয়ে করেছেন। পরবর্তী সময় কিশোরী গর্ভবতী হয়ে পড়ে। আর জি কর হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে জন্ম শংসাপত্র খতিয়ে দেখে চিকিৎসকরা জানতে পারেন, মেয়েটি নাবালিকা। পরে কিশোরী সন্তানের জন্মও দেয়। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ কলকাতা পুলিশে অভিযোগ দায়ের করে। তার ভিত্তিতে পুলিশ গ্রেপ্তার করে যুবককে। কিশোরী বিচারকের কাছে ‘গোপন জবানবন্দি’ পেশ করে। তদন্ত শেষ করে পুলিশ অফিসার সৌরভ রায় গত ২২ জানুয়ারি পুলিশ চার্জশিট দেয়। আদালতে সাক্ষ্য দেন পাঁচজন।