


নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: তারাতলায় নির্মীয়মাণ গুদাম ভেঙে শ্রমিকদের আটকে পড়া, স্টিফেন কোর্ট অগ্নিকাণ্ড, আমেরিকান সেন্টারে জঙ্গিহানার মতো ঘটনা ঘটলে বাহিনীর ঠিক কী করণীয়, তা নিয়ে একটি আদর্শ কার্যবিধি চালু করল লালবাজার। কলকাতার পুলিশ কমিশনার (সিপি) অজয় নন্দা মঙ্গলবার এই কার্যবিধি চালু করেছেন। লালবাজারের এক সূত্র জানাচ্ছে, আক্রান্ত মানুষের জীবন বাঁচানো এবং নতুন করে ক্ষতি আটকানোই এই কার্যবিধির প্রথম ও প্রধান কথা। তবে জঙ্গিহানা, ইন্ডিয়ান মিউজিয়ামে সিআইএসএফ জওয়ানের এলোপাথারি গুলি ছোঁড়ার মতো ঘটনার পুনরাবৃত্তি হলে, তথ্য-প্রমাণ সংরক্ষণকে অগ্রাধিকার দিতে হবে। উল্লেখ্য, এই ধরনের বিপর্যয় মোকাবিলায় কলকাতা পুলিশে ইতিমধ্যে ‘এমার্জেন্সি রেসপন্স সাপোর্ট সিস্টেম’ বা ‘ইআরএসএস’ গঠিত হয়েছে। এই বাহিনীর সদস্যদের প্রতিদিন তিন শিফটে কাজে যোগ দেওয়ার পর কলকাতা পুলিশের নিজস্ব অ্যাপের মাধ্যমে লালবাজার কন্ট্রোল রুমকে অবহিত করতে হবে। এই ‘ইআরএসএস’জন্য থাকা বাইক, গাড়িকে অন্য কাজে লাগানো যাবে না। তেমনিই, এই শাখার কর্মীদের অন্যত্র ডিউটিতেও পাঠানো যাবে না। পাশাপাশি, জিপিএস বা জিআইএস-এর সাহায্যে এই শাখার যানবাহনের অবস্থানের ওপর নিরবচ্ছিন্ন নজরদারি চালাবে কন্ট্রোল রুম।
অন্যদিকে, এই শাখার কর্মীদের জন্য লালবাজারের নির্দেশিকায় বলা হয়েছে, সব কল বা এলার্টকে ‘প্রায়োরিটি’ বলে বিবেচনা করতে হবে। কল আসার ১০ মিনিটের মধ্যে নিকটতম রুট ধরে বিপর্যয়স্থলে পৌঁছতে হবে। ঘটনাস্থলে না গিয়ে কোনও কল ‘ক্লোজ’ করা যাবে না। ১০ মিনিটের মধ্যে দুর্ঘটনাস্থলে না পৌঁছতে পারলে, বিভাগীয় তদন্তের মুখে পড়তে হবে এই শাখার কর্মীদের। এদিকে, জামিন পেলেন কলকাতা পুরসভার প্রাক্তন মেয়র ফিরহাদ হাকিমের ওএসডি কালীচরণ বন্দ্যোপাধ্যায়। তারাতলা কাণ্ডের পর তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল। মঙ্গলবার জাজেস কোর্ট তাঁর জামিন মঞ্জুর করেছে। এই নিয়ে শোরগোল তৈরি হয়েছে বিভিন্ন মহলে।