


সংবাদদাতা, হলদিয়া: মহিষাদলের গেঁওখালি জল প্রকল্পে অবৈধ নিয়োগ সহ একাধিক অভিযোগে শুক্রবার বিক্ষোভ দেখালেন উদ্বাস্তু ও ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের লোকজন। স্থানীয় বেতকুণ্ডু গ্রাম পঞ্চায়েত এলাকার ৪-৫টি গ্রামের বাসিন্দারা ওই বিক্ষোভে সামিল হন। তাঁদের অভিযোগ, ভূমিহারাদের ওই জল প্রকল্পে বছরের পর বছর ধরে কাজের প্রতিশ্রুতি দেওয়া হলেও দাবি পূরণ হয়নি। তৃণমূল আমলে বহিরাগতদের টাকার বিনিময়ে চাকরি পাইয়ে দেওয়া হয়েছে।
আন্দোলনকারীদের দাবি, প্রকৃত ভূমিহারা পরিবারের লোকজনকে জল প্রকল্পে যোগ্যতা অনুযায়ী কাজ দিতে হবে। নিয়োগের সময় ওই পরিবারের যোগ্য সদস্যদের অগ্রাধিকার দিতে হবে। এদিন স্থানীয়রা জল প্রকল্পের পলির কারণে নিকাশি আটকে যাচ্ছে বলেও অভিযোগ করেন। এজন্য তাঁরা হলদিয়া উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের কাছেও অভিযোগ করেছেন। ওই জল প্রকল্প মূলত এইচডিএর। এটি পরিচালনার দায়িত্বে রয়েছে একটি বেসরকারি সংস্থা। এদিন মিছিল করে এসে জল প্রকল্পের মূল গেটের সামনে জমায়েত করেন স্থানীয় ভূমিহারা মানুষজন। বেতকুণ্ডু অঞ্চলের পিএইচই ভূমিদাতাগণ ওই বিক্ষোভের আয়োজন করেন। গেট আটকে কয়েক ঘণ্টা ধরে চলে শ্লোগান ও অবস্থান বিক্ষোভ। মহিলারাও অংশ নেন বিক্ষোভের বিক্ষোভের জেরে কয়েক ঘণ্টার জন্য কর্মীদের যাতায়াত ও প্রকল্পের গাড়ি চলাচল ব্যাহত হয়। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে যায় বিশাল পুলিশ বাহিনী।
স্থানীয়রা বলেন, জলপ্রকল্প গড়ে তোলার জন্য মহিষাদল ব্লকের বেতকুন্ডু অঞ্চলের বহু মানুষ জমি দিয়েছিলেন। বিনিময়ে তাঁদের প্রকল্পে কাজ দেওয়ার কথা বলা হলেও ভূমিদাতাদের অগ্রাধিকার দেওয়া হয়নি। ১৯৯২ সাল থেকে এনিয়ে বহু বিক্ষোভ হয়েছে। ভূমি দাতা পুলক মণ্ডল, তপনকুমার মণ্ডলদের দাবি, টাকা নিয়ে বাহির থেকে লোক নিয়োগ করা হয়েছে। তৎকালীন সরকারকে জানানো হলেও কোনো ব্যবস্থা গ্রহণ করেনি বলে অভিযোগ করেন। তাঁদের আশা, রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর হাত ধরে সমস্যার সমাধান হবে। স্থানীয়রা বলেন, বিক্ষোভ কর্মসূচি শুরু হয়েছে। দাবি যতদিন মানা না হচ্ছে, অনির্দিষ্টকালের জন্য অবস্থান বিক্ষোভ চলবে। এদিন মহিষাদলের বিধায়ক সুভাষচন্দ্র পাঁজা ঘটনাস্থলে গিয়ে বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে কথা বলেন। তিনি বলেন, বঞ্চনা হয়েছে, এবার নিয়োগে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে বিষয়টি জেলাশাসক ও রাজ্যের শিল্পমন্ত্রীর নজরে আনা হবে। এদিন সন্ধ্যায় তিনি এবিষয়ে হলদিয়া এসে মহকুমা শাসকের সঙ্গেও আলোচনা করেন।