


সংবাদদাতা, ময়নাগুড়ি: এবার জলপাইগুড়ি জেলা জুড়ে সার বিক্রির ক্ষেত্রে বড় সিদ্ধান্ত নিল সার ব্যবসায়ী সমিতি। ন্যায্য মূল্যে কৃষকদের যে সব সার দিতে পারা যাচ্ছে না তাঁরা সেই সার বিক্রি করবেন না। পাশাপাশি পাইকারি ব্যবসায়ীদের ঘরেও সেই সার তুলতে তাঁরা দেবেন না বলে জানা যাচ্ছে। অভিযোগ উঠেছে, বিভিন্ন কোম্পানিগুলির রাঙাপানি, ফালাকাটা, ধূপগুড়িতে র্যাক পয়েন্ট রয়েছে। সেখান থেকে সার বিক্রেতাদের ক্যারিং খরচ কুড়ি বছর আগে যা ছিল এখনও সেই দরেই দেওয়া হচ্ছে। অপরদিকে, বর্তমান সময়ে সেই ক্যারিং খরচ কয়েকগুণ বৃদ্ধি পেয়েছে বলে ব্যবসায়ীরা জানিয়েছেন। এছাড়াও বিভিন্ন সারের সঙ্গে প্রয়োজন নেই এমন বিভিন্ন সামগ্রীও ট্যাগ করে দেওয়া হচ্ছে। কৃষকরা সারের সঙ্গে ট্যাগিং না নেওয়ায় সেই সমস্ত সামগ্রী সার ব্যবসায়ীদের ঘরেই পড়ে থাকছে। এমনই নানা সমস্যা নিয়ে জর্জরিত হয়ে পড়ছে ব্যবসায়ীরা। আর এইসবের বিরুদ্ধেই এবার কার্যত বিদ্রোহ ঘোষণা সার ব্যবসায়ীদের।
কিছুদিন আগেই সারের কালো বাজারির বিষয় নিয়ে বিধানসভায় বক্তব্য রেখেছিলেন ময়নাগুড়ির বিধায়ক ডালিম রায়। তারপরই জলপাইগুড়ি জেলা জুড়ে নড়েচড়ে বসেছে কৃষি দপ্তর। তারপরই এবার বড় সিদ্ধান্তের পথে সার ব্যবসায়ী সমিতিও। এদিন সার ব্যবসায়ী সমিতির জলপাইগুড়ি জেলার সহ-সভাপতি সিদ্ধার্থ সরকার বলেন, র্যাক পয়েন্ট থেকে সার নিয়ে আসতে গাড়ি প্রতি প্রচুর টাকা দিতে হচ্ছে। কিন্তু কোম্পানিগুলি সেদিকে নজরই দিচ্ছে না। পাশাপাশি তারা প্রয়োজন ছাড়া সামগ্রী ট্যাগ করে দিচ্ছে। এক্ষেত্রে ডিস্ট্রিবিউটারদের কিছুই করার থাকছে না। সেগুলি খুচরো ব্যবসায়ীদের কাছে আসছে। খুচরো ব্যবসায়ীদের সঙ্গে সরাসরি কৃষকদের যোগাযোগ রয়েছে। এর পাশাপাশি দাম বৃদ্ধির অভিযোগও উঠছে। সে কারণেই আমরা সিদ্ধান্ত নিয়েছি, ন্যায্য মূল্যে আমরা কৃষকদের কাছে সার বিক্রি করব। যতদিন আমরা ন্যায্য মূল্যে সার বিক্রি করতে পারছি না সেই সমস্ত কোম্পানির সার আমরা বন্ধ রেখে দেব।