


নিজস্ব প্রতিনিধি, ঝাড়গ্ৰাম: যে কোনো ভোটে বিজেপির বিরুদ্ধে বহুবার টাকা বিলির অভিযোগ উঠেছে। আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনেও বিজেপির ভোট কিনতে টাকা বিলি করবে বলে তৃণমূল নেতৃত্ব আশঙ্কা প্রকাশ করছেন। ঝাড়গ্রাম বিধানসভায় লক্ষ্মীকান্ত সাউ বিজেপির প্রার্থী হতেই কোটি টাকা সমেত তাঁর গ্ৰেপ্তারির বিষয়টি সামনে এসে গিয়েছে। জেলার রাজনৈতিক মহলে যা নিয়ে শুরু হয়েছে তুমুল চর্চা।
উনিশের লোকসভা ভোটের সময় তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বিজেপির বিরুদ্ধে ভোট কিনতে টাকা ছড়ানোর অভিযোগ তুলেছিলেন। রাজ্যের তৎকালীন বিজেপির সভাপতি দিলীপ ঘোষের ঘনিষ্ঠ গৌতম চট্টোপাধ্যায় ও লক্ষ্মীকান্ত সাউকে এক কোটি টাকা সহ আসানসোল স্টেশন থেকে রেল পুলিশ গ্ৰেপ্তার করেছিল। ধৃতরা ভোটের খরচের জন্য সেই টাকা কলকাতায় নিয়ে যাচ্ছিল বলে দাবি করা হয়। এহেন লক্ষ্মীকান্ত সাউকেই ঝাড়গ্রাম বিধানসভা থেকে এবার বিজেপির প্রার্থী করেছে। রাতারাতি লক্ষ্মীকান্তবাবুর কোটিপতি হয়ে ওঠার কথা বিজেপির উচ্চ মহলে পৌঁছানো নিয়েও জোর চর্চা চলছে।
গোপীবল্লভপুর-১ ব্লকের সাতমা গ্ৰাম পঞ্চায়েতের প্রত্যন্ত বাবুডুমরো গ্ৰামে তাঁর বাড়ি। পরিবারের আর্থিক সংকটের কারণে অল্প বয়সেই কাজের সন্ধানে তিনি দিল্লি চলে যান। ছোটোখাটো নানা ধরনের নানা কাজ করে তিনি সেখানে সবজির দোকান খোলেন। এরপর দিল্লিতেই তিনি বিজেপির হয়ে রাজনীতি শুরু করেন। যা তাঁর জীবনের মোড় ঘুরিয়ে দেয়। সামান্য সবজির দোকানদার থেকে কোটিপতি হয়ে উঠেন। উনিশের ভোটে তিনি পশ্চিম মেদিনীপুর জেলায় বিজেপির কোষাধ্যক্ষের দায়িত্বে ছিলেন। কেন্দ্র ও রাজ্য নেতৃত্বের যোগসূত্র হয়ে উঠেন তিনি। টাকা সহ গ্ৰেপ্তারের পর সাময়িক ব্যাকফুটে চলে গিয়েছিলেন। এবার তাঁকেই ঝাড়গ্রাম বিধানসভা থেকে প্রার্থী করেছে বিজেপি। অবশ্য জেলার নীচুতলার বিজেপি নেতা-কর্মীরা তাঁর প্রার্থীপদ পাওয়া নিয়ে ক্ষুব্ধ।
বুধবার সকালে অরণ্য শহরের সাবিত্রী মন্দিরে পুজো দিয়ে তিনি প্রচার শুরু করেন। বিজেপির জেলা সভাপতি তুফান মাহাত ও দলের অন্য নেতা-কর্মীরা উপস্থিত ছিলেন। কিন্তু, টাকা সহ তাঁর গ্ৰেপ্তারের বিষয়টি সামনে আসতেই বিজেপির জেলা নেতৃত্ব বিড়ম্বনায় পড়েছেন। এমন বিতর্কিত সদস্যকে প্রার্থী করা নিয়ে দলের অন্দরেই প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। তৃণমূল নেতৃত্বের অভিযোগ, বিজেপির পরিযায়ী নেতারা ভোট এলেই বাংলায় আসতে শুরু করেন। ভোটে দেদার কালো টাকা বিলি করা হয়। এবারের নির্বাচেনও দেদার টাকা বিলির আশঙ্ক করছেন তৃণমূল নেতা-কর্মীরা।
এবিষয়ে বিজেপি প্রার্থী লক্ষ্মীকান্তবাবু বলেন, তৃণমূল ষড়যন্ত্র করে আমাকে গ্ৰেপ্তার করিয়েছিল। টাকাটা আমাদের দলের ছিল। আদালতের কাছে সেই টাকা ফেরত পাওয়ার আপিল করা হয়েছে। রাজনৈতিক স্বার্থে তৃণমূল আমার বিরুদ্ধে মিথ্যা প্রচার চালাচ্ছে। শহরের এক বিজেপি কর্মী বলেন, এমন এক প্রার্থীর হয়ে প্রচার করতে গিয়ে প্রশ্নের মুখে পড়তে হবে। স্বচ্ছ ভাবমূর্তির প্রার্থীর আবেদন করা হয়েছিল। সেকথা শোনা হয়নি। দলীয় নির্দেশ মেনে চলতে হবে বলে জানানো হয়েছে। সংগঠন নেই, কর্মী নেই কীভাবে আমরা জিতব জানি না।
জেলা তৃণমূলের সহ সভাপতি প্রসূন ষড়ঙ্গি বলেন, আমরা দীর্ঘদিন ধরে অভিযোগ করছি ভোট এলেই কেন্দ্র থেকে টাকা আসতে শুরু করে। টাকা দিয়ে ভোট কেনার চেষ্টা চলে। জেলায় বিজেপির এমন একজনকে প্রার্থী করা হয়েছে যাকে ভোটের সময় টাকা সমেত গ্ৰেপ্তার করা হয়েছিল। জেলার মানুষ এমন প্রার্থীকে মেনে নেবেন না।-নিজস্ব চিত্র