


নিজস্ব প্রতিনিধি, বিধাননগর: রাস্তার ধারে ভরাট করা হচ্ছে জলাভূমি। রাতের অন্ধকারে হচ্ছে সে কাজ। সোমবার রাতে কৈখালির কালীপার্ক বাবলাতলা এলাকায় উঠেছে এই চাঞ্চল্যকর অভিযোগ। এই ঘটনার প্রতিবাদে এবং পরিবেশ ও বাস্তুতন্ত্র রক্ষায় সোচ্চার হন এলাকার বাসিন্দারা। তাঁরা নারায়ণপুর থানায় মাস পিটিশন জমা করেন। তারপর পুলিশের নির্দেশে আপাতত বন্ধ ভরাটের কাজ। জলাভূমির কাগজপত্র খতিয়ে দেখার কাজ হচ্ছে। ভূমির মালিক যদিও পুলিশকে জানান, শালি জমি হিসাবে রেকর্ড আছে। পুকুর নেই। বৃষ্টির জল জমে জলাভূমির চেহারা নিয়েছে। তবে ভূমির রেকর্ড খতিয়ে দেখছে পুলিশ।
কৈখালি থেকে নারায়ণপুর যাওয়ার রাস্তায় এয়ারপোর্টের পাঁচিলের পাশ দিয়ে খানিক এগলে কালীপার্ক বাবলাতলা। এই এলাকাটি বিধাননগর পুরসভার ৪ নম্বর ওয়ার্ডের মধ্যে পড়ে। রাজারহাট-নিউটাউন বিধানসভা এবং নারায়ণপুর থানার অন্তর্গত। নারায়ণপুরগামী রাস্তায় কালীপার্কে মূল রাস্তা থেকে ডানদিকেই পড়ে ওই জলাভূমি। এলাকার মানুষের দাবি, ওটি পুকুর ছিল। বেশ কিছুদিন ধরে জলাভূমিটি ভরাটের চেষ্টা চলছে। সোমবার রাতেও ভরাট করার পরিকল্পনা ছিল। তা জানতে পেরে যান বাসিন্দারা। ওই রাতেই তাঁরা নারায়ণপুর থানায় যান। পুলিশ তারপর পদক্ষেপ নেয়। বুধবার ঘটনাস্থলে গিয়ে দেখা গিয়েছে, জলাভূমির চারপাশ নতুন টিন দিয়ে ঘেরা। জল দেখা গেলেও পুরো জলাভূমি আগাছায় ভরতি। তবে এখনও ভরাট করা হয়নি। স্থানীয় এক বাসিন্দা বলেন, চারপাশ ঘিরে দিয়ে ভরাটের চেষ্টা হচ্ছে। এবার ভরাট করা হবে। আমরা এটাকে পুকুর বলেই জানি। আগে তো সবাই এই পুকুর ব্যবহার করত। এখন ব্যবহার কমে যাওয়ায় মজে যাচ্ছে। সংস্কারের উদ্যোগ তো দূরের কথা উল্টে ভরাট করার চক্রান্ত হচ্ছে। অন্য এক বাসিন্দা বলেন, এর আগেও এলাকার একাধিক পুকুর ও জলাভূমি ভরাট করা হয়েছে। এক পুলিশ আধিকারিক বলেন, মাস পিটিশনের ভিত্তিতে কাজ বন্ধ করা হয়েছে। পুকুর নয় রেকর্ডে শালি জমি রয়েছে বলে আমরা জানতে পেরেছি। তবুও বিষয়টি খতিয়ে দেখা হবে। বেআইনি কাজ করা হলে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে। নিজস্ব চিত্র